সাইফুল ইসলাম : মানিকগঞ্জের সিংগাইরে অনুমোদনবিহীন চামড়া, হাড় ও মাংস পোড়ানোর কারখানা এবং টায়ার পুড়িয়ে তেল উৎপাদনের একটি কারখানায় অভিযান চালিয়ে সাময়িকভাবে সিলগালা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের ফোর্ডনগর খানপাড়া এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন সিংগাইর সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আল-আমিন কবির।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ফোর্ডনগর খানপাড়ার ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে নামবিহীন একটি কারখানায় চামড়া, হাড়, মাংসসহ বিভিন্ন কাঁচামাল চুল্লিতে পুড়িয়ে মাছ ও মুরগির খাবার প্রস্তুত করা হচ্ছিল। এসব কাঁচামাল পোড়ানোর ফলে এলাকায় তীব্র দুর্গন্ধ ও ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ছিল। এতে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছিল।
একই এলাকায় ‘গ্রীন এনার্জি’ নামের আরেকটি কারখানায় অনুমোদন ছাড়াই পুরোনো টায়ার পুড়িয়ে তেল ও মবিল উৎপাদন করা হচ্ছিল বলে জানা যায়। টায়ার পোড়ানোর ফলে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অভিযোগের ভিত্তিতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আল-আমিন কবিরের নেতৃত্বে দুই কারখানায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় প্রতিষ্ঠান পরিচালনার প্রয়োজনীয় বৈধ কাগজপত্র না পাওয়া এবং জনদুর্ভোগ সৃষ্টির অভিযোগে কারখানা দুটিকে সাময়িকভাবে সিলগালা করা হয়।
অভিযানে আরও জানা যায়, কারখানা দুটির পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো ছাড়পত্র নেই। এমনকি ছাড়পত্রের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে কোনো আবেদনও করা হয়নি।
পরে চামড়া পোড়ানোর কারখানার মালিক আব্দুর রব এবং ‘গ্রীন এনার্জি’ কারখানার কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় বৈধ কাগজপত্রসহ দ্রুত সিংগাইর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে সিংগাইর সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আল-আমিন কবির ঢাকা পোস্টকে বলেন, অনুমোদনহীন কারখানায় চামড়াসহ ড্রেজার পাইপের স্ক্র্যাপ পুড়িয়ে পরিবেশের ক্ষতি করা হচ্ছিল। অপরদিকে ‘গ্রীন এনার্জি’ নামের কারখানায় অনুমোদন ছাড়াই টায়ার পুড়িয়ে তেল ও মবিল উৎপাদন করা হচ্ছিল। এ কারণে কারখানা দুটিকে সাময়িকভাবে সিলগালা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রতিষ্ঠান দুটির কোনোটিরই পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছিল না। যথাযথ কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র ও অনুমোদন নেওয়ার পর নিয়ম অনুযায়ী কারখানা পরিচালনা করা যাবে।

