সাইফুল ইসলাম : মানিকগঞ্জে বশির নামে এক যুবককে হত্যার উদ্দেশ্যে দুই হাত ও দুই পায়ের রগ কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তিনি নিষিদ্ধ সংগঠন জেলা ছাত্রলীগের উপ-কর্মসংস্থানবিষয়ক সম্পাদক বলে দাবি করেছে সংগঠনটি। তবে তাঁর পরিবারের দাবি, রাজনৈতিক কারণে নয়, পূর্বশত্রুতার জেরে এ হামলা হয়েছে। এ ঘটনায় বিএনপি ও ছাত্রদলের সম্পৃক্ততার অভিযোগও অস্বীকার করেছে জেলা ছাত্রদল।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে সিংগাইর উপজেলার ডেফলতলী এলাকার একটি ইটভাটায় এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত বশিরকে প্রথমে মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আহত বশির মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বেতিলা-মিতরা ইউনিয়নের পালোরার চর গ্রামের মনির হোসেনের ছেলে।
বশিরের বাবা মনির হোসেন জানান, তাঁর ছেলে মাদ্রাসায় পড়াশোনা করতেন। ২০২১ সাল থেকে পড়াশোনা ছেড়ে বাড়িতেই ছিলেন। জেলা ছাত্রলীগের কমিটিতে তাঁর নাম রয়েছে—এ বিষয়টি তিনি আগে জানতেন না। তাঁর দাবি, বশির বিএনপির সমর্থক। তাঁর বড় ছেলে রবিউল ইসলাম জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।
মনির হোসেনের অভিযোগ, রোববার রাতে সদর উপজেলার পশ্চিম গুজুরী গ্রামের আকাশ তাঁর ছেলে বশিরকে ডেকে নিয়ে যান। পরে তাঁরা বেতিলা মেঘবাড়ি রেস্টুরেন্টে আড্ডা দেন। রাতের দিকে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে তিনি আহত অবস্থায় ছেলেকে উদ্ধার করেন।
তিনি বলেন, আকাশ (২১), তুহিন (২২), আরিফ (২২), তানজিদসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৮ থেকে ১০ জন পূর্বশত্রুতার জেরে বশিরকে সিংগাইরের ডেফলতলী এলাকার একটি ইটভাটায় নিয়ে যান। সেখানে তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে দুই হাত ও দুই পায়ের রগ কেটে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ ঘটনায় সোমবার সন্ধ্যায় চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করে সিংগাইর থানায় মামলা করেছেন বশিরের বাবা।
বশিরকে রাজনৈতিক কারণে হামলা করা হয়েছে কি না জানতে চাইলে মনির হোসেন বলেন, “আমার ছেলে মাদ্রাসায় পড়াশোনা করত। ২০২১ সাল থেকে পড়াশোনা বাদ দিয়ে বাড়িতে থাকে। জেলা ছাত্রলীগের কমিটিতে তার নাম আছে, সেটিও আগে জানতাম না। রাজনৈতিক কারণে তাকে মারা হয়নি। আকাশ, আরিফদের সঙ্গে পূর্বশত্রুতার বিরোধের জেরেই তাকে মারা হয়েছে।”
এদিকে হামলার ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে জেলা ছাত্রলীগ। সোমবার দুপুরে সংগঠনটির জেলা কমিটির সভাপতি এম এ সিফাদ কোরাইশী ও সাধারণ সম্পাদক রাজিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে হামলার জন্য বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসীদের দায়ী করা হয়।
বিবৃতিতে হামলাকারীদের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ এবং তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও তোলা হয়েছে।
তবে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আব্দুল খালেক শুভ অভিযোগটি অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “ওই ছেলের বন্ধুরাই তাকে কুপিয়েছে। মধ্যরাতে ইটভাটায় সে কাদের সঙ্গে গেছে, সেটিও তদন্ত করে দেখা দরকার। মাদকের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ থাকতে পারে বলে শুনেছি। এ ঘটনায় ছাত্রদল বা বিএনপির কোনো অঙ্গসংগঠনের কেউ জড়িত নয়। নিষিদ্ধ সংগঠনটি এ নিয়ে গুজব ছড়াচ্ছে।”
সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম বলেন, বশিরকে হাত-পায়ের রগ কেটে দেওয়ার ঘটনায় তাঁর পরিচিত ও বন্ধুরাই জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তাঁরা বশিরের সঙ্গে চলাফেরা করতেন। এ ঘটনায় তাঁর বাবা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।




