মানিকগঞ্জে যমুনা টিভির সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি

মানিকগঞ্জে যমুনা টিভির সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি

সাইফুল ইসলাম: মানিকগঞ্জের ঘিওরে যমুনা টেলিভিশনের সাংবাদিক বি এম খোরশেদকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ, মারধরের চেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত হায়াত আলীর (৬০) বিরুদ্ধে ঘিওর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার বড়টিয়া ইউনিয়নের শ্রীবাড়ী পশ্চিমপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী বি এম খোরশেদ যমুনা টেলিভিশনের মানিকগঞ্জ জেলা সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার এবং মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাবের সিনিয়র সদস্য। অভিযুক্ত হায়াত আলী একই ইউনিয়নের শ্রীবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা।

থানায় করা সাধারণ ডায়েরি সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় একটি ফেসবুক মেসেঞ্জার গ্রুপে মাদকসহ বিভিন্ন অসংগতির বিষয়ে আলোচনা করাকে কেন্দ্র করে সাংবাদিক খোরশেদের সঙ্গে হায়াত আলীর বিরোধের সৃষ্টি হয়। এর জেরে হায়াত আলী বিভিন্ন স্থানে তাঁকে নিয়ে অশালীন ও আপত্তিকর মন্তব্য করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে শ্রীবাড়ী পশ্চিমপাড়ায় একটি বাড়ির সামনে ইটসলিং করা রাস্তায় সাংবাদিক খোরশেদকে গালিগালাজ করেন হায়াত আলী। একপর্যায়ে তাঁকে মারধরের চেষ্টা করেন। এ সময় স্থানীয় লোকজন বাধা দিলে তাঁকে প্রাণনাশসহ বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয় বলে জিডিতে উল্লেখ করেছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক।

নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে শুক্রবার রাত ৯টার দিকে ঘিওর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন বি এম খোরশেদ।

বি এম খোরশেদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকতা পেশায় থেকে এলাকার বিভিন্ন সমস্যা, অনিয়ম ও অসংগতির বিষয় তুলে ধরছি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি গ্রুপে মাদক নিয়ে আলোচনার সময় কয়েকজনের নাম উঠে আসাকে কেন্দ্র করে হায়াত আলীর সঙ্গে আমার বিরোধের সৃষ্টি হয়। এর জেরে তিনি বিভিন্ন স্থানে আমাকে নিয়ে অশালীন ও আপত্তিকর মন্তব্য করে আসছেন। শুক্রবার প্রকাশ্যে আমাকে গালিগালাজ, মারধরের চেষ্টা এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন। এতে আমি ও আমার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। একজন সাংবাদিক হিসেবে স্বাধীনভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে চাই। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত হায়াত আলীর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ঘিওর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মহব্বত কবির বলেন, এ ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।