মার্কিন সামরিক বাহিনীতে এআই বিতর্ক: অ্যানথ্রোপিককে নিষিদ্ধ করলেন ট্রাম্প | চ্যানেল আই অনলাইন

মার্কিন সামরিক বাহিনীতে এআই বিতর্ক: অ্যানথ্রোপিককে নিষিদ্ধ করলেন ট্রাম্প | চ্যানেল আই অনলাইন

পেন্টাগনের সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘অ্যানথ্রোপিক’-এর দ্বন্দ্বের জেরে হার্ডলাইনে গেলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) এক নির্বাহী আদেশে তিনি সরকারি সংস্থাগুলোতে অ্যানথ্রোপিকের তৈরি এআই মডেল ‘ক্লড’-এর ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছেন। ট্রাম্পের অভিযোগ, কোম্পানিটি তাদের “বামপন্থী এবং ওক ” আদর্শ মার্কিন সামরিক বাহিনীর ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প কড়া ভাষায় বলেন, “আমেরিকা কখনোই কোনো চরম বামপন্থী কোম্পানিকে আমাদের মহান সামরিক বাহিনী কীভাবে যুদ্ধ করবে বা জিতবে, তা নির্ধারণ করার অনুমতি দেবে না। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার একচ্ছত্র অধিকার একমাত্র কমান্ড-ইন-চিফ এবং আমার নিযুক্ত যোগ্য নেতাদের।”

দীর্ঘদিন ধরেই পেন্টাগনের সঙ্গে অ্যানথ্রোপিকের বিরোধ চলছিল। মূলত কোম্পানিটির নিরাপত্তা নীতিমালা বা ‘সেফটি গার্ডরেল’ নিয়ে এই সংকটের সৃষ্টি। অ্যানথ্রোপিক তাদের এআই প্রযুক্তিকে প্রাণঘাতী অস্ত্র চালনা বা গণ-নজরদারির কাজে ব্যবহারের ক্ষেত্রে কঠোর সীমাবদ্ধতা আরোপ করে আসছিল। কোম্পানির প্রধান নির্বাহী দারিও আমো দেই বারবার জানিয়েছেন, নৈতিক কারণেই তাঁরা এই সুরক্ষা কবচগুলো সরাতে পারবেন না।

তবে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, যুদ্ধক্ষেত্রে এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের “আদর্শিক সীমাবদ্ধতা” থাকা উচিত নয়। প্রেসিডেন্টের মতে, অ্যানথ্রোপিকের এই অবস্থান মার্কিন সামরিক সক্ষমতাকে দুর্বল করে দিচ্ছে।

ট্রাম্পের এই আদেশের পরপরই মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ অ্যানথ্রোপিককে ‘সাপ্লাই চেইন রিস্ক’ বা সরবরাহ শৃঙ্খলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছেন। এই তকমা সাধারণত হুয়াওয়ে বা টিকটকের মতো বিদেশি সংস্থাগুলোর ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। এর ফলে পেন্টাগনসহ সমস্ত ফেডারেল সংস্থাকে আগামী ছয় মাসের মধ্যে অ্যানথ্রোপিকের প্রযুক্তি ব্যবহার বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ট্রাম্পের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি বিশ্বে বড় ধরনের ঝাঁকুনি লেগেছে। বিশেষ করে প্যালান্টিয়ার এবং এলন মাস্কের মালিকানাধীন ‘এক্স এআই’-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলো এখন সরকারি বড় বড় চুক্তি পাওয়ার দৌড়ে এগিয়ে যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ এআই খাতের ওপর সরাসরি রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের একটি বড় উদাহরণ। অ্যানথ্রোপিকের এই “বিপর্যয়কর ভুল” (ট্রাম্পের ভাষায়) কোম্পানিটির ভবিষৎকে বড় ধরণের অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিল।

সিলিকন ভ্যালির অনেক উদ্যোক্তা ব্যক্তিগতভাবে অ্যানথ্রোপিকের নৈতিক অবস্থানের সমর্থন করলেও, ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে সংঘাতে যাওয়ার ঝুঁকি নিতে চাচ্ছেন না কেউই। হোয়াইট হাউস স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, সামরিক প্রয়োজনে প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে তারা কোনো আপস করবে না।