‘মাস্তুল’ মুক্তির কাউন্টডাউন শুরু, ধ্রুব এষের ডিজাইনে প্রথম পোস্টার | চ্যানেল আই অনলাইন

‘মাস্তুল’ মুক্তির কাউন্টডাউন শুরু, ধ্রুব এষের ডিজাইনে প্রথম পোস্টার | চ্যানেল আই অনলাইন

আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে একের পর এক স্বীকৃতি পাওয়ার পর এবার দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির অপেক্ষায় বাংলাদেশি চলচ্চিত্র ‘মাস্তুল’। মুক্তির ঠিক এক মাস আগে, আজ ১৭ জুন সিনেমাটির প্রথম অফিসিয়াল পোস্টার প্রকাশের মধ্য দিয়ে শুরু হলো আনুষ্ঠানিক প্রচারণা।

আগামী ১৭ জুলাই বড় পর্দায় মুক্তি পাচ্ছে মোহাম্মদ নূরুজ্জামান পরিচালিত সিনেমাটি। পোস্টারটি ডিজাইন করেছেন ধ্রুব এষ।


পোস্টার প্রকাশ উপলক্ষে নির্মাতা জানান, গত বছর আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবগুলোতে সিনেমাটির প্রদর্শন পর্ব শেষ হওয়ার পরই এ বছরের শুরুতে মুক্তির পরিকল্পনা ছিল। এমনকি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড থেকেও গত বছরেই প্রদর্শনের অনুমতি নেওয়া হয়।

নির্মাতার ভাষায়,“গত বছর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে সিনেমাটির প্রদর্শন পর্ব শেষে এ বছরের শুরুর দিকেই দেশের প্রেক্ষাগৃহে সিনেমাটি মুক্তির পরিকল্পনা ছিলো, আমরা চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড থেকে মুক্তির অনুমতিও নিয়েছিলাম গত বছরেই। কিন্তু সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এবং নিজেদের প্রস্তুতি আরও জোরদার করে ‘মাস্তুল’ বড় পর্দায় নিয়ে আসতে কিছুটা বিলম্ব হলো। ১৭ জুলাই,২০২৬ আমরা সিনেমাটির মুক্তির দিন চূড়ান্ত করেছি, আশা করছি এ যাত্রায় আমরা সবাইকে পাশে পাবো।”

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইতোমধ্যেই আলোচিত হয়েছে ‘মাস্তুল’। সিনেমাটি ৪৭তম মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে ‘স্পেশাল মেনশন’ পুরস্কার অর্জন করে। জুরিদের ভাষায়, “দৈনন্দিন জীবনের প্রতি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির জন্য” এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

মাস্তুল-এর একটি দৃশ্যে ফজলুর রহমান বাবু

এরপর রাশিয়ার ১৮তম চেবোক্সারি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে সিনেমাটি অর্জন করে ‘বেস্ট আর্টিস্টিক কন্ট্রিবিউশন’ পুরস্কার। পাশাপাশি স্পেনের ২৬তম ইমাজিন ইন্ডিয়া আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ‘সেরা মানবিক চলচ্চিত্র’ বিভাগেও মনোনয়ন পেয়েছে।

‘মাস্তুল’-এর গল্প আবর্তিত হয়েছে একটি জ্বালানীবাহী তেলের ট্যাংকারের বৃদ্ধ রাঁধুনি মকবুল এবং বন্দর এলাকার এক পথশিশু নূরাকে ঘিরে। তাদের সম্পর্কের ভেতর দিয়ে উঠে এসেছে নদী ও বন্দরে ভাসমান মানুষের জীবন, বিচ্ছিন্নতা, স্নেহ, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব এবং টিকে থাকার সংগ্রাম।

বাস্তবতার আবহ ধরে রাখতে সিনেমাটির শুটিং হয়েছে বাস্তব লোকেশনে—ব্যস্ত জাহাজ, নদীবন্দর ও জনবহুল মাছবাজারে। নির্মাতা জানিয়েছেন, পেশাদার অভিনেতাদের পাশাপাশি ট্যাংকারে কর্মরত প্রকৃত খালাসিদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে নির্মাণ প্রক্রিয়ায়।

মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে নির্মাতা মোহাম্মদ নুরুজ্জামান

নির্মাতার নিজ শহর এবং বাংলাদেশের অন্যতম ব্যস্ত নদীবন্দর নারায়ণগঞ্জের প্রেক্ষাপটে নির্মিত ‘মাস্তুল’-এ অভিনয় করেছেন ফজলুর রহমান বাবু, দীপক সুমন, আমিনুর রহমান মুকুল, আরিফ হাসান, সিকদার মুকিত, শাহজাহান শোভন ও সিফাত বন্যাসহ অনেকে।

মাস্তুল এর সিনেমাটোগ্রাফি সামলেছেন মোহাম্মদ আরিফুজ্জামান, শিল্প নির্দেশনায় ছিলেন হুসনাইন লিঙ্কন, সংগীতে চৈতন্য রাজবংশী, কাস্টিং ডিরেক্টর যুবরাজ শামীম এবং প্রচারণার গানের সংগীত পরিচালনা করেছেন লাবিক কামাল গৌরব। চলচ্চিত্রটি প্রযোজনা করেছে সিনেমাকার এবং ডিজিটাল ডিস্ট্রিবিউশন ও প্রচারণায় যুক্ত রয়েছে টঙঘর টকিজ।