মুখোশের আড়ালে ক্লান্ত এক গোয়েন্দা, এ কোন স্পাইডার–ম্যান

মুখোশের আড়ালে ক্লান্ত এক গোয়েন্দা, এ কোন স্পাইডার–ম্যান

কমিকসবুক ভক্তরা জানেন, মূল মার্ভেল ইউনিভার্সে বেন রাইলি হলো পিটারেরই ক্লোন। কিন্তু সিরিজে কেন এই নামবদল? হলিউডের বিভিন্ন কমিকসবুক ও বিনোদন মাধ্যমগুলো বলছে, এর পেছনে মূলত দুটি কারণ রয়েছে। প্রথমত, সনি পিকচার্স ও মার্ভেল স্টুডিওর (ডিজনি) মধ্যকার চরিত্র ব্যবহারের জটিল আইনি চুক্তি। লাইভ-অ্যাকশন সিরিজে ‘পিটার পার্কার’ নামটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সনির ওপর বেশ কিছু আইনি সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তাই তার নাম সামান্য বদলে ফেলা হয়েছে। তাই বদলে গেছে সুপারহিরো ছদ্মনামও।

দ্বিতীয়ত, নির্মাতাদের সৃজনশীল স্বাধীনতা। বয়স্ক, বিষণ্ন ও জীবনের কাছে মার খাওয়া এক গোয়েন্দার গল্প বলতে গিয়ে নির্মাতারা চেনা পিটার পার্কারের ইমেজে হাত দিতে চাননি। বেন রাইলি নামটা তাদের সেই স্বাধীনতা দিয়েছে। ২০১৮ সালে মুক্তি পাওয়া ‘স্পাইডার-ম্যান: ইনটু দ্য স্পাইডার-ভার্স’ অ্যানিমেশন ছবিতে পিটার পার্কারের নয়ার স্পাইডার–ম্যানের চরিত্রে কণ্ঠ দিয়েছিলেন কেজ; তবে এবার তিনি লাইভ অ্যাকশনে এলেন বেন রাইলি হিসেবে, দ্য স্পাইডারের ছদ্মপরিচয়ে।

বেন রাইলির স্পাইডার চরিত্রটি মার্ভেলের প্রথাগত কোনো সুপারহিরোর সঙ্গে মেলে না। স্পাইডার-ভার্সের এই দুনিয়ায় সে মূলত একজন প্রাইভেট ইনভেস্টিগেটর বা গোয়েন্দা। পাঁচ বছর হলো সে স্পাইডারের মুখোশ তুলে রেখেছে। কারণ, সে তার ভালোবাসা রুবি উইলিয়ামসকে বাঁচাতে পারেনি। রুবির বলা সেই বিখ্যাত সংলাপ-‘উইথ গ্রেট পাওয়ার কামস গ্রেট রেসপনসিবিলিটি’ বেনকে আজও তাড়া করে ফেরে। এখন তার দিন কাটে সস্তা মদ খেয়ে আর ছোটখাটো কেস সলভ করে। এই অপরাধবোধ আর নিজেকে গুটিয়ে নেওয়ার গল্পই সিরিজের মূল ভিত গড়ে দেয়।