মেঘনা, কুমিল্লা প্রতিনিধি : ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে পাসের হারে এগিয়ে রয়েছে মানিকারচর সাহেরা লতিফ মেমোরিয়াল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৮৫ দশমিক ৫৪ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৪ জন। তবে একটি প্রতিষ্ঠানের ভালো ফলের বিপরীতে উপজেলার সামগ্রিক ফলাফলের চিত্র খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়। ৬৫০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৪২৪ জন। পাসের হার ৬৩ দশমিক ৭৮ শতাংশ।
সোমবার (১০ আগস্ট) প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, সাহেরা লতিফের পর পাসের হারে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে চন্দনপুর এম এ উচ্চ বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৮২ দশমিক ৬১ শতাংশ। তৃতীয় অবস্থানে থাকা শেখেরগাঁও আবদুল আউয়াল মুনশী উচ্চ বিদ্যালয়ের পাসের হার ৭৫ শতাংশ। অন্যদিকে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে পাসের হার নেমে এসেছে ৫০ শতাংশের কাছাকাছি বা তার নিচে। সবচেয়ে কম পাসের হার সোনারচর উচ্চ বিদ্যালয়ে, ৩৫ দশমিক ১৪ শতাংশ।
ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, উপজেলার ১০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের পাসের হার উপজেলার গড়ের চেয়ে বেশি। মোট ৪০ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেলেও ২২৬ জন পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পারেনি। অর্থাৎ প্রতি ১০০ জনে প্রায় ৩৬ জন শিক্ষার্থীই ফেল করেছে। এই ফলাফল মেঘনার শিক্ষার সামগ্রিক পরিবেশ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
স্থানীয় অভিভাবকদের অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের একটি অংশ নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত না হয়ে কোচিংনির্ভর হয়ে পড়ছে। বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে মোবাইল ফোনের ব্যবহার এবং টিকটকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত সময় দেওয়ার প্রবণতাও বেড়েছে। এতে পড়াশোনায় মনোযোগ কমছে। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ও মোবাইল ব্যবহারের বিষয়ে কার্যকর নজরদারির ঘাটতিও রয়েছে বলে অভিযোগ তাঁদের।
তাঁদের মতে, শুধু পরীক্ষার আগে কোচিং ও গাইডনির্ভর পড়াশোনা দিয়ে শিক্ষার মান কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে নেওয়া সম্ভব নয়। এর জন্য বিদ্যালয়ে নিয়মিত ও মানসম্মত পাঠদান, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকদের কার্যকর তদারকি জরুরি। কিন্তু এসব বিষয়ে যথাযথ নজরদারি না থাকায় প্রতিবছর মেঘনায় পাসের হার কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় বাড়ছে না। এবারের ফলাফলে সাহেরা লতিফ মেমোরিয়াল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ভালো ফলের দৃষ্টান্ত তৈরি করলেও উপজেলার সামগ্রিক ফলাফল বলছে, মেঘনার শিক্ষাব্যবস্থায় এখনও ঘাটতি রয়ে গেছে। তাই কম পাসের হার থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পাঠদানের মান বাড়ানো, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা, কোচিংনির্ভরতা কমানো এবং একাডেমিক তদারকি জোরদারে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
মেঘনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমী আক্তার বলেন, শিক্ষার মান উন্নয়নে শিক্ষক, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজন সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করার পাশাপাশি মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অতিরিক্ত ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে অভিভাবকদের আরও সচেতন হতে হবে। বিদ্যালয়কেন্দ্রিক পড়াশোনার পরিবেশ তৈরি এবং শিক্ষার মান উন্নয়নে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও তদারকি অব্যাহত থাকবে।




