মেটলাইফ স্টেডিয়ামে মেসির ফেরা: ২০১৬-এর কান্না মুছে ২০২৬-এর ইতিহাস গড়ার হাতছানি – DesheBideshe

মেটলাইফ স্টেডিয়ামে মেসির ফেরা: ২০১৬-এর কান্না মুছে ২০২৬-এর ইতিহাস গড়ার হাতছানি – DesheBideshe


মেটলাইফ স্টেডিয়ামে মেসির ফেরা: ২০১৬-এর কান্না মুছে ২০২৬-এর ইতিহাস গড়ার হাতছানি – DesheBideshe

নিউ জার্সি, ১৯ জুলাই – ফুটবল ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বেদনাদায়ক স্মৃতিবিজড়িত সেই মাঠে আবারও ফিরছেন লিওনেল মেসি। এক দশক আগে যে কান্নায় ফুটবল বিশ্ব স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল, ভাগ্য যেন সেই একই মঞ্চে তাকে এক বিশাল চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে।

২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের লড়াই কেবল একটি শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচই নয়, বরং দুই দলের সোনালি প্রজন্মের জন্য ইতিহাস গড়ার অনন্য সুযোগ।

নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য এই ম্যাচের আবেগীয় গুরুত্ব মেসির জন্য অন্য সবার চেয়ে অনেক বেশি। এই বিশাল স্টেডিয়ামটি রোজারিওর সন্তান মেসির ক্যারিয়ারের সবচেয়ে করুণ স্মৃতির সাক্ষী হয়ে আছে।

গোল ডটকমের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আর্জেন্টাইন অধিনায়ক আবার সেই মাঠে ফিরছেন যেখানে তিনি প্রকাশ্যে প্রথমবারের মতো মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। এই প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে যেন আবারও জেগে উঠছে বহুদিনের চাপা পড়া এক ক্ষত। এই মানসিক আঘাতের শুরু হয়েছিল ২০১৬ সালের কোপা আমেরিকা সেন্টেনারিওর ফাইনালে।

সেবার শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে টাইব্রেকারে চিলির মুখোমুখি হয়েছিল আর্জেন্টিনা। টাইব্রেকারে নিজের শটটি মিস করার পর চরম হতাশায় ডুবে যান মেসি। টেলিভিশন ক্যামেরায় ধরা পড়েছিল মেটলাইফ স্টেডিয়ামের ডাগআউটে বসে তার অঝোরে কাঁদার দৃশ্য। সেই ক্ষত এতটাই গভীর ছিল যে ম্যাচ শেষে জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি। মেসির সেই ঘোষণায় পুরো আর্জেন্টিনা উত্তাল হয়ে উঠেছিল। তাকে সিদ্ধান্ত বদলানোর অনুরোধ জানিয়েছিলেন লাখো সমর্থক। তাদের মধ্যে ছিলেন ১৫ বছর বয়সী এক কিশোর এনজো ফার্নান্দেজ। বর্তমান আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার এনজো তখন নিজের আদর্শ খেলোয়াড়কে ফেরাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আবেগঘন চিঠি লিখেছিলেন।

এক দশক পর ফুটবল আবারও একই মঞ্চে দাঁড় করিয়েছে এই দুই ফুটবলারকে। যে এনজো মেসিকে ফিরে আসার অনুরোধ করেছিলেন, তিনিই এখন মাঠে অধিনায়কের অন্যতম প্রধান ভরসা। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে এটি একটি অসাধারণ কাব্যিক পরিণতির গল্প।

মেসি এবার মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফিরছেন উত্তর আমেরিকার মাটিতে অপূর্ণ থেকে যাওয়া হিসাব চুকিয়ে দিতে। গোটা বিশ্বের দৃষ্টি এখন এই মাহেন্দ্রক্ষণের দিকে। মেসি চাইবেন মেটলাইফ স্টেডিয়াম যেন শেষ পর্যন্ত তার অমর গৌরবের মঞ্চ হিসেবে ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকে।

এনএন/ ১৯ জুলাই ২০২৬