মেট্রোরেলের নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়াতে কেনা হচ্ছে আরও ২২ বিয়ারিং প্যাড | চ্যানেল আই অনলাইন

মেট্রোরেলের নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়াতে কেনা হচ্ছে আরও ২২ বিয়ারিং প্যাড | চ্যানেল আই অনলাইন

মেট্রোরেলের উড়ালপথ বা ভায়াডাক্টের কাঠামোগত নিরাপত্তা জোরদার করতে নতুন করে ২২টি বিয়ারিং প্যাড কেনার উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ডিএমটিসিএল সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন পিলারের কাঠামোগত স্থায়িত্ব বাড়ানো এবং যাত্রীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সেফটি অডিট কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। গত ১০ আগস্ট অনুষ্ঠিত সেফটি অডিট কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়ন কমিটির ষষ্ঠ পর্যালোচনা সভায় চলমান কাজের অগ্রগতি ও নতুন সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

ডিএমটিসিএল সূত্র জানায়, মেট্রোরেলের ৪২৩, ৪৪২, ৪৪৬ ও ৪৪৮ নম্বর পিলারে মোট ১০টি স্টিল ব্র্যাকেট স্থাপনের কাজ শেষ হয়েছে। এর মধ্যে ৪৪৮ নম্বর পিলারে নতুন বিয়ারিং প্যাড স্থাপন করা হয়েছে। বর্তমানে ডিএমটিসিএলের মজুদে থাকা পাঁচটি বিয়ারিং প্যাড বিভিন্ন পিলারে বসানোর কাজ চলছে। পাশাপাশি আরও ২২টি বিয়ারিং প্যাড সংগ্রহের জন্য ক্রয়প্রক্রিয়া চলছে। ভায়াডাক্টের পিলারে সূক্ষ্ম অবস্থান পরিবর্তন ও ফাটল নিয়মিত পর্যবেক্ষণে নতুন কারিগরি ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ২৭টি পিলারের পিয়ার হেডে সেটলমেন্ট মার্কার ও ক্র্যাক গেজ স্থাপন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে পাঁচটি সেটলমেন্ট মার্কার ও দুটি ক্র্যাক গেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। বাকি সরঞ্জাম কেনার প্রক্রিয়াও চলছে। পুরো মেট্রোরেল কাঠামোয় মোট ১০২টি ক্র্যাক গেজ স্থাপন করে ফাটল নিয়মিত পর্যবেক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে। পিলারের পিয়ার হেড ও বক্স গার্ডারে থাকা ফাটলের স্থায়ী কারিগরি সমাধান খুঁজতে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়কে (বুয়েট) বিশেষজ্ঞ পরামর্শক হিসেবে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে কাঠামোগত ত্রুটির কারণ নির্ণয় এবং দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার পরিকল্পনা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

মেট্রোরেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় অবকাঠামোর পাশাপাশি বৈদ্যুতিক ব্যবস্থাতেও সংস্কার আনা হচ্ছে। চালক ও প্রকৌশলীদের চিহ্নিত ওভারহেড ক্যাটেনারি সিস্টেমের (ওসিএস) স্পার্কিং সমস্যার তদন্ত শেষ হয়েছে। ইনসুলেটেড ওভারল্যাপের (আইওএল) নকশায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন এনে সমস্যাটির স্থায়ী সমাধানে কাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি স্টেশন ও বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোয় ওয়াটারপ্রুফিং ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার মতো জরুরি পরিস্থিতিতেও মূল নিয়ন্ত্রণকক্ষের সঙ্গে স্টেশনগুলোর যোগাযোগ অব্যাহত রাখতে বিশেষ যোগাযোগসেবা ব্যবস্থার পরীক্ষাও সফল হয়েছে।

ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাওগাতুল আলম বলেন, বিশেষজ্ঞদের কারিগরি পরামর্শকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে মেট্রোরেলের পিলারের বিয়ারিং প্যাড বদলের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। কয়েকটি বিয়ারিং প্যাড এরই মধ্যে স্থাপন করা হয়েছে। বাকি প্যাডগুলো আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে দ্রুত সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলছে। তিনি আরও বলেন, পাশাপাশি বুয়েটকে যুক্ত করা, ফাটল পর্যবেক্ষণ ও বিদ্যুৎ লাইনের নকশা সংস্কারের কাজও জোরদার করা হয়েছে। যাত্রীদের নিরাপদ, স্বাচ্ছন্দ্যময় ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করাই এসব তাৎক্ষণিক ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপের লক্ষ্য।’

সেতু, উড়ালসড়ক ও মেট্রোরেলের মতো অবকাঠামোয় পিলার ও ওপরের ভায়াডাক্টের সংযোগস্থলে সাধারণত রাবারজাত বিশেষ ধরনের বিয়ারিং প্যাড ব্যবহার করা হয়। কাঠামোর ভার বহনের পাশাপাশি এগুলো কম্পন শোষণেও সহায়তা করে। উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত চলাচলকারী মেট্রোরেল অংশে ৬২০টি পিলার রয়েছে। এসব পিলারে মোট ২ হাজার ৪৮০টি বিয়ারিং প্যাড ব্যবহার করা হয়েছে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে প্রথমবার ৪৩০ নম্বর পিলার থেকে একটি বিয়ারিং প্যাড খুলে পড়ে। এ ঘটনায় টানা ১১ ঘণ্টা মেট্রোরেল চলাচল বন্ধ ছিল।

এরপর গত বছরের অক্টোবরে ফার্মগেট স্টেশনসংলগ্ন ৪৩৩ নম্বর পিলার থেকে আরেকটি বিয়ারিং প্যাড খসে পড়ে। এতে এক পথচারীর মৃত্যু হয়। পরপর দুটি ঘটনায় মেট্রোরেলের কাঠামোগত নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হলে হাইকোর্ট বিভাগের নির্দেশনায় দেশের জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলী ও বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে উচ্চপর্যায়ের সেফটি অডিট কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে বর্তমানে পুরো মেট্রোরেলপথের কাঠামোগত নিরাপত্তা, বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা ও জরুরি যোগাযোগ ব্যবস্থা পর্যালোচনা করে সংস্কারকাজ চালাচ্ছে ডিএমটিসিএল।