উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে লিওনেল মেসির গড়া দুটি রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়েছেন কিলিয়ান এমবাপে ও আর্লিং হালান্ড। রিয়াল মাদ্রিদের ফরাসি তারকা এমবাপে সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ১০০ ম্যাচ খেলার মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। অন্যদিকে, ম্যানচেস্টার সিটির নরওয়েজীয় স্ট্রাইকার হালান্ড দ্রুততম সময়ে প্রতিযোগিতাটিতে ৬০ গোল করার রেকর্ড গড়েছেন।
বুধবার দিবাগত রাতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচগুলোতে দুই তারকার এই কীর্তি ফুটবলবিশ্বে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে মেসির দখলে থাকা রেকর্ডগুলো এবার নিজেদের করে নিয়েছেন বর্তমান প্রজন্মের দুই সেরা গোলমেশিন।
মেসির রেকর্ড ভাঙলেন এমবাপে
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের তৃতীয় রাউন্ডে রোমার বিপক্ষে মাঠে নামে রিয়াল মাদ্রিদ। ম্যাচটিতে ৮২ মিনিট পর্যন্ত ৩-১ গোলে পিছিয়ে ছিল স্প্যানিশ জায়ান্টরা। এমন পরিস্থিতিতে ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইয়ে রিয়ালের হয়ে প্রথম গোলটি করেন এমবাপে।
এই ম্যাচে মাঠে নামার মধ্য দিয়ে ২৭ বছর বয়সে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নিজের ১০০তম ম্যাচ খেলার কীর্তি গড়েন ফরাসি অধিনায়ক। এর মধ্য দিয়ে টুর্নামেন্টটির ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে ১০০ ম্যাচ খেলার রেকর্ড নিজের করে নেন তিনি।
এর আগে রেকর্ডটি ছিল আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসির দখলে। ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে রোমার বিপক্ষেই বার্সেলোনার হয়ে ২৮ বছর বয়সে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নিজের শততম ম্যাচ খেলেছিলেন মেসি। প্রায় ১১ বছর পর সেই ইতালিয়ান ক্লাবের বিপক্ষেই মেসির রেকর্ড ভেঙে দিলেন এমবাপে।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে মাত্র ১৭ বছর বয়সে মোনাকোর হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে অভিষেক হয়েছিল এমবাপের। এরপর একের পর এক সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এবার ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতায় শততম ম্যাচের মাইলফলক স্পর্শ করলেন তিনি।
দ্রুততম ৬০ গোলের রেকর্ড হালান্ডের
একই রাতে আরেকটি বড় রেকর্ড গড়েছেন আর্লিং হালান্ড। ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে পিএসজির বিপক্ষে ৪-২ গোলের জয়ের ম্যাচে জোড়া গোল করেন এই নরওয়েজীয় স্ট্রাইকার। তাতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে তার মোট গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ৬১টি, যা এসেছে মাত্র ৬০ ম্যাচে।
উয়েফার তথ্যমতে, ২৬ বছর ৮৫ দিন বয়সে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ৬০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন হালান্ড। এ ক্ষেত্রে মেসির আগের রেকর্ড এক দিনের ব্যবধানে ভেঙেছেন তিনি। একই সঙ্গে প্রতিযোগিতাটিতে দ্রুততম ৬০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করার কৃতিত্বও অর্জন করেছেন সিটির এই তারকা।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ৬০ গোল করতে মেসির খেলতে হয়েছিল ৮০ ম্যাচ। সেখানে হালান্ডের লেগেছে মাত্র ৬০ ম্যাচ। অর্থাৎ, আর্জেন্টাইন তারকার চেয়ে ২০ ম্যাচ কম খেলেই এই মাইলফলক স্পর্শ করেছেন নরওয়েজীয় স্ট্রাইকার।
ম্যানচেস্টার সিটির সর্বোচ্চ গোলদাতা হালান্ড
পিএসজির বিপক্ষে ম্যাচে প্রথম গোলটি করার মধ্য দিয়ে ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে আরও একটি রেকর্ড নিজের করে নেন হালান্ড। তিনি ছাড়িয়ে গেছেন ক্লাবটির সাবেক আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড সার্জিও আগুয়েরোকে।
আগুয়েরো চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে ৬৪ ম্যাচে ৩৬ গোল করেছিলেন। অন্যদিকে, মাত্র ৪১ ম্যাচে ৩৭ গোল করে ক্লাবটির ইতিহাসে প্রতিযোগিতাটির সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন হালান্ড।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
সব মিলিয়ে একই রাতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ব্যক্তিগত অর্জনের নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছেন এমবাপে ও হালান্ড। মেসির রেকর্ড ভেঙে এমবাপের শততম ম্যাচের কীর্তি এবং হালান্ডের গোলের পর গোল করার অবিশ্বাস্য ধারাবাহিকতা ইউরোপীয় ফুটবলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ভবিষ্যতে এই দুই তারকা আরও কত রেকর্ড নিজের করে নেন, এখন সেটিই দেখার বিষয়।




