বুয়েনস আইরেস, ১০ অক্টোবর- একটি জার্সি, অসংখ্য স্মৃতি আর বিদায়ের আবেগঘন গল্প। আর্জেন্টিনার হয়ে লিওনেল মেসির শেষ ম্যাচে পরা ১০ নম্বর জার্সিটি এখন আর্জেন্টিনার বিখ্যাত ক্লাব রিভার প্লেটের জাদুঘরে সংরক্ষিত রয়েছে। ফুটবল ইতিহাসের স্মরণীয় একটি মুহূর্ত ধরে রাখতেই জার্সিটি সেখানে রাখা হয়েছে। আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই মহাতারকার উপহার দেওয়া জার্সিটি এখন ভক্তদের কাছে ভালোবাসা ও আবেগের বিশেষ স্মারক হয়ে উঠেছে।
জাতীয় দলের জার্সিতে মেসির দীর্ঘ পথচলার সমাপ্তি ছিল আবেগে ভরা। বেনিনের বিপক্ষে সেই বিদায়ী ম্যাচে আর্জেন্টিনা ৩-০ গোলে জয় পায়। দলের তিনটি গোলেই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অবদান ছিল মেসির। মাঠের পারফরম্যান্সে নিজের ছাপ রাখার পাশাপাশি বিদায়ের মুহূর্তটিকেও স্মরণীয় করে তোলেন তিনি।
ম্যাচের ৪৮ মিনিটে মেসির নেওয়া কর্নার থেকে গোল করেন নিকোলাস ওতামেন্দি। এরপর ৬১ মিনিটে নিকো পাজের দুর্দান্ত গোলের পেছনেও অবদান রাখেন মেসি। বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের বাঁকানো শটে জালে বল জড়ান পাজ। আর ৭১ মিনিটে পেনাল্টি থেকে নিজেই গোল করে বিদায়ী ম্যাচকে আরও স্মরণীয় করে তোলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
৮৫ হাজারের বেশি দর্শকের সামনে মেসির এই বিদায় ছিল আনন্দ ও বিষণ্নতায় মেশানো এক মুহূর্ত। গ্যালারিজুড়ে ছিল প্রিয় তারকার প্রতি ভালোবাসা, করতালি আর চোখের জল। দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে যে ফুটবলার আর্জেন্টিনার সমর্থকদের স্বপ্ন দেখিয়েছেন, তাঁর বিদায়ের মুহূর্তে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি ভক্তরা।
আর্জেন্টিনার হয়ে দীর্ঘ ২১ বছরের আন্তর্জাতিক অধ্যায়ের ইতি টেনেছেন মেসি। জাতীয় দলের হয়ে ২০৮ ম্যাচে ১২৬ গোল করে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলা ও সর্বোচ্চ গোল করার রেকর্ডও নিজের দখলে রেখেছেন তিনি। বিশ্বকাপ জয় থেকে শুরু করে অসংখ্য সাফল্যে সমৃদ্ধ তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার।
বিদায়ী ম্যাচের পর নিজের ১০ নম্বর জার্সিটি রিভার প্লেটকে উপহার দেন মেসি। জার্সিতে ভালোবাসার বার্তাও লিখে দেন তিনি। সেই উপহার এখন ক্লাবটির জাদুঘরে সংরক্ষিত রয়েছে। সময়ের সঙ্গে মাঠের উত্তাপ, গ্যালারির উল্লাস কিংবা বিদায়ের অশ্রু মুছে গেলেও এই জার্সি মনে করিয়ে দেবে এক কিংবদন্তির অবিস্মরণীয় যাত্রার কথা।
মেসির বিদায় মানেই তাঁর গল্পের শেষ নয়। তাঁর গোল, পাস, বাঁ পায়ের জাদু আর আর্জেন্টিনার হয়ে অর্জন করা গৌরব ফুটবলপ্রেমীদের স্মৃতিতে বেঁচে থাকবে বহুদিন। আর জাদুঘরে সংরক্ষিত সেই জার্সি হয়ে থাকবে ইতিহাসের এক আবেগঘন অধ্যায়ের নীরব সাক্ষী।
এস এম/ ১০ অক্টোবর ২০২৬




