মোহামেডানের ৪৭ বছরের হাসি–কান্নায় মিশে আছেন আলমাস খান

মোহামেডানের ৪৭ বছরের হাসি–কান্নায় মিশে আছেন আলমাস খান

ঢাকা স্টেডিয়ামে দর্শকের চিৎকার যেন কাঁপিয়ে দিল গোটা এলাকা! সেই আওয়াজ কানে আসার যে অনুভূতি, তার সঙ্গে আর কোনো কিছুকেই আজ মেলাতে পারেন না আলমাস খান। স্মৃতিচারণা করতে করতে তাঁর গলা ধরে আসে, কণ্ঠে তিরতির আবেগ। ফুঁপিয়ে কাঁদলেন। কোথায় হারাল সেসব দিন, সেই সব মুহূর্ত!

১৯৮৭ সালের লিগের কথা বলছিলেন আলমাস। ৪৭ বছর ধরে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবে কাজ করছেন। কৈশোর, যৌবন—সব ঢেলে দিয়েছেন মতিঝিলের টয়নবি সার্কুলার রোডে সাদা-কালোদের এই ক্লাবে। আলমাস ১৯৭৬ সালে মোহামেডানে এসেছিলেন বলবয় হয়ে। খেলোয়াড়দের ফাইফরমাশ খাটতেন। এখন অফিস সহকারী। সেটা আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব, আসলে তাঁর কাজের পরিধি আরও অনেক বিস্তৃত। আলমাস খানকে ছাড়া মোহামেডানের কর্মকর্তারা এক পা-ও নড়তে পারেন না। ক্লাবের কাছে এতটাই বিশ্বাসের, এতটাই নির্ভরতার জায়গা মানুষটি।

মোহামেডান ক্লাবের কয়েক প্রজন্মের স্মৃতির ভারে আলমাস খান নিজেই যেন স্মৃতির এক ‘বটবৃক্ষ’। কত বড় বড় তারকাকে চোখের সামনে দেখেছেন। তাঁদের স্নেহ-ভালোবাসা পেয়েছেন। গজনবী, প্রতাপ শঙ্কর হাজরা, হাফিজউদ্দিন আহমেদ, জাকারিয়া পিন্টু, বাদল রায়, সালাম মুর্শেদী, আবুল হোসেন, শহীদুর রহমান শান্টুদের সঙ্গে কায়সার হামিদ, সাইদ হাসান কানন, রুম্মান বিন ওয়ালি সাব্বির কিংবা ইমতিয়াজ সুলতান জনি, ইমতিয়াজ আহমেদ নকীব, জুয়েল রানা, আলফাজ আহমেদ—নাম বলতে থাকলে সেই তালিকা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতরই হবে।

নাসের হেজাজির মতো কোচকে খুব কাছ থেকে দেখেছেন; এমেকা ইজিউগো, রেজা নালজেগার, ভিজেন তাহিরি, আজামত আবদু রহিমভ, ওলেগ জিভতনিকভদের বিদেশি তারকাদের কত কাজ করে দিয়েছেন। দেশি তারকারা তো তাঁকে দেখেন সহযোগী, বন্ধু কিংবা অভিভাবক হিসেবে। মোহামেডান ক্লাবের চৌহদ্দিতে অনেক কিছু ঘটতে দেখেছেন। আনন্দের স্মৃতি কিংবা দুঃখের—আলমাস যেন মোহামেডানের ‘জীবন্ত’ এক ইতিহাস।