যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড নীতিতে ট্রাম্পের কঠোর নিয়ম: ধাক্কা খেতে পারেন লাখ লাখ অভিবাসী – DesheBideshe

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড নীতিতে ট্রাম্পের কঠোর নিয়ম: ধাক্কা খেতে পারেন লাখ লাখ অভিবাসী – DesheBideshe


ওয়াশিংটন, ১৯ সেপ্টেম্বর – যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড প্রত্যাশী অভিবাসীদের জন্য ‘জনস্বার্থের বোঝা’ (Public Charge) সংক্রান্ত নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে যাচ্ছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। নতুন বিধান অনুযায়ী, কোনো আবেদনকারী বর্তমানে সরকারি সহায়তা নিচ্ছেন কিংবা ভবিষ্যতে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হতে পারেন বলে অভিবাসন কর্মকর্তাদের কাছে মনে হলে, তাদের গ্রিন কার্ডের আবেদন বাতিল বা বিবেচনায় নে নেওয়া হতে পারে। শুক্রবার থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই বিতর্কিত নীতি রুখতে ইতোমধ্যেই মার্কিন আদালতে ডজনখানেক মামলা দায়ের করা হয়েছে।

জনস্বার্থের বোঝা’ নীতিতে পরিবর্তন:

গ্রিন কার্ড আবেদনের ক্ষেত্রে আবেদনকারী নিজের খরচে চলতে সক্ষম কি না, তা দীর্ঘদিন ধরেই যাচাই করা হয়ে থাকে। তবে ট্রাম্পের এই পদেক্ষেপে সেই পরিধি বহুগুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে।

সংজ্ঞার সম্প্রসারণ: ১৯৯৯ সালে বিল ক্লিনটন প্রশাসন কেবল নগদ সরকারি সহায়তা এবং দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা সুবিধা বিবেচনায় রাখত। নতুন নিয়মে নগদ সুবিধার বাইরেও খাদ্য সহায়তা, চিকিৎসা সুবিধা, শিশুদের পুষ্টি ও স্বাস্থ্য কর্মসূচি, আবাসন সুবিধা এবং শিশু যত্ন সহায়তার মতো সুবিধাসমূহও যুক্ত করা হয়েছে।

পরিবারের সদস্যদের সহায়তায় প্রভাব: কেবল আবেদনকারী নিজেই নন, তার মার্কিন নাগরিক সন্তান কিংবা পরিবারের সদস্যদের জন্য নেওয়া সুবিধাও গ্রিন কার্ড বাতিলের কারণ হতে পারে।

এক নজরে প্রভাব ও পরিসংখ্যান:

  • বার্ষিক সরাসরি প্রভাবিত আবেদনকারী প্রায় ৫ লাখ ৮৮ হাজার মানুষ
  • সুবিধা বর্জন করতে পারেন প্রায় ৯ লাখ ৫০ হাজার অভিবাসী পরিবার
  • মোট ক্ষতিগ্রস্ত সদস্য (গবেষণালব্ধ) প্রায় ৩৭ লাখ অভিবাসী পরিবারের সদস্য
  • সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ক্ষতি ২৭৪০ কোটি ডলার ও ২ লাখ ১২ হাজার কর্মসংস্থান

(নোট: অবৈধ অভিবাসীরা যেহেতু এসব সরকারি সুবিধার আওতাভুক্ত নন, তাই নতুন নিয়মটি সরাসরি বৈধভাবে অবস্থানরত বা আবেদনকারী অভিবাসীদের ওপর প্রযোজ্য হবে।)

২২ অঙ্গরাজ্যের আইনি লড়াই:

ট্রাম্প প্রশাসনের এই কঠোর নীতির বিরুদ্ধে নিউইয়র্কের নেতৃত্বে ২২টি অঙ্গরাজ্য, ওয়াশিংটন ডিসি এবং বেশ কয়েকটি প্রধান শহর আদালতে মামলা দায়ের করেছে। শহর ও অঙ্গরাজ্যগুলোর দাবি, নতুন নীতির ফলে মিশ্র নাগরিকত্বের পরিবারগুলো খাদ্য ও স্বাস্থ্যসেবা নেওয়া বন্ধ করে দেবে, যা স্থানীয় অর্থনীতি ও শ্রমবাজারে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলবে এবং কেন্দ্রীয় বরাদ্দ কমিয়ে দেবে।

মামলার অংশ হিসেবে নিউ ইয়র্কের আদালত থেকে প্রাথমিক শুনানির জন্য আগামী ৯ অক্টোবর দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে আদালত থেকে কোনো স্থগিতাদেশ না এলে নির্ধারিত শুক্রবার থেকেই কার্যকর হতে যাচ্ছে বিতর্কিত এই অভিবাসন নীতি।

এনএন/ ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬