
ওয়াশিংটন, ১১ সেপ্টেম্বর – যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত বিদেশি দক্ষ কর্মীদের জন্য বড় দুঃসংবাদ! চাকরি হারানোর পর নতুন নিয়োগকর্তা বা স্পনসর খুঁজে নেওয়ার জন্য যে ৬০ দিনের ‘গ্রেস পিরিয়ড’ (Grace Period) চালু ছিল, তা সম্পূর্ণ বাতিলের প্রস্তাব করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন মার্কিন প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (DHS) ফেডারেল রেজিস্টারে এই প্রস্তাবিত পরিবর্তনের নোটিশ প্রকাশ করেছে। রয়টার্স সূত্রে খবর, নতুন এই নিয়ম চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে এইচ-১বি (H-1B) সহ বেশ কয়েকটি ক্যাটাগরির ভিসা থাকা বিদেশি কর্মীদের চাকরি শেষ হওয়া মাত্রই যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হবে।
কেন এই সিদ্ধান্ত এবং কাদের ওপর প্রভাব পড়বে?
২০১৭ সাল থেকে চালু থাকা ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ডের কারণে চাকরিচ্যুত বিদেশি কর্মীরা দেশটিতে অবস্থান করে নতুন চাকরি খোঁজা, বাড়ি বিক্রি বা সন্তানদের স্কুল পরিবর্তনসহ প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত বিষয় গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগ পেতেন।
তবে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী:
- অবিলম্বে প্রস্থান: চাকরি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কর্মীকে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করতে হতে পারে।
- যেসব ভিসার ওপর প্রভাব পড়বে: এইচ-১বি (H-1B) ছাড়াও ই-১ (E-1), ই-২ (E-2), ই-৩ (E-3), এল-১ (L-1), ও-১ (O-1), টিএন (TN) এবং এইচ-১বি১ (H-1B1) ভিসাধারীরা এই কড়া নিয়মের আওতায় আসবেন।
- বিকল্প সুযোগ: কর্মী দেশে ফিরে যাওয়ার পর যদি কোনো মার্কিন প্রতিষ্ঠান তাকে নতুন করে স্পনসর করে, তবে তিনি নতুন করে ভিসার আবেদন করার সুযোগ পাবেন।
মার্কিন প্রশাসনের ভাষ্য: “এই নিয়মের ফলে সাময়িকভাবে কিছু প্রতিষ্ঠানে কর্মী ব্যবস্থাপনায় সমস্যা হতে পারে, তবে এতে আমেরিকান নাগরিকদের শূন্য পদগুলোতে নিয়োগ পাওয়ার বড় সুযোগ তৈরি হবে।”
টেক জায়ান্ট ও ভারতীয়-বাংলাদেশি কর্মীদের ওপর ধাক্কা
১৯৯০ সালে প্রবর্তিত এইচ-১বি ভিসা যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালি ও বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর চালিকাশক্তি। বিশেষ করে ভারত ও চীনসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আসা হাজার হাজার সফটওয়্যার প্রকৌশলী ও দক্ষ পেশাজীবী এই ভিসার ওপর নির্ভরশীল।
টাটা কন্সালটেন্সি (TCS), ইনফোসিস, ডেলয়েট, পিডব্লিউসি এবং আর্নস্ট অ্যান্ড ইয়ংয়ের মতো বিশ্বখ্যাত পরামর্শক ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতি বছর হাজার হাজার এইচ-১বি কর্মী নিয়োগ করে থাকে। অভিবাসনবিষয়ক আইনজীবীদের মতে, নিয়মটি চালু হলে বড় বড় কোম্পানির এইচআর (HR) বিভাগগুলো চরম চাপে পড়বে এবং ছাঁটাই হওয়া কর্মীদের জন্য বিষয়টি মানসিকভাবে মারাত্মক ক্ষতিকর হবে।
এখনও সময় আছে: চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে দুই মাসের সুযোগ
প্রস্তাবটি প্রকাশিত হলেও এটি এখনই আইনে পরিণত হচ্ছে না। ডিএইচএস (DHS) জানিয়েছে, প্রস্তাবটির ওপর আগামী ৬০ দিন বা ২ মাস পর্যন্ত জনমত গ্রহণ করা হবে। সর্বসাধারণ, মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই সময়ের মধ্যে তাদের বক্তব্য বা আপত্তি জানাতে পারবে। এরপর মতামত পর্যালোচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এনএন/ ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

