ছোট্ট একটা স্বপ্ন থেকে বিশ্বজয়
২০১৩ সালে বিটিএসের সাতজন স্বপ্নবাজ কিশোরের সামনে ছিল শুধু একটা মাইক। সে বছর ১৩ জুন ‘নো মোর ড্রিম’ গান দিয়ে অভিষেক ঘটে বিটিএসের। সেই গানের বিষয়বস্তু ছিল সামাজিক চাপ, পরীক্ষার ভার, স্বপ্নের অপমৃত্যু—মানে কিশোর মনের না বলা যত কথা।
তবে প্রথম বছরগুলো তাঁদের জন্য সহজ ছিল না একেবারেই। অনেকে বলেছে, এই ব্যান্ড এক বছরেই হারিয়ে যাবে। তাই বলে বিটিএস থামেনি। ২০১৬ সালে ‘উইংস’ অ্যালবামের মাধ্যমে ইতিহাস রচনার শুরু এই ব্যান্ডটির। ব্যাপক সাড়ার পরপরই আসে তাদের আরেক বিশ্বখ্যাত অ্যালবাম ‘লাভ ইয়োরসেলফ’। এই অ্যালবামের মাধ্যমে বিটিএস হয়ে ওঠে বিশ্বখ্যাত পপ ব্যান্ড।
২০২০ সালের আগস্টে মুক্তি পায় তাঁদের একক গান ‘ডায়নামাইট’। করোনা মহামারির মধ্যেই গানটি কাঁপিয়ে দেয় পুরো বিশ্বকে। এটিই ছিল বিলবোর্ড হট ১০০-তে সরাসরি ১ নম্বরে ওঠা তাদের প্রথম গান। ২০২১ সালে আবার বাজিমাত। মুক্তি পায় ‘বাটার’। চার্টে টানা ১০ সপ্তাহ শীর্ষে ছিল গানটি। ২০২২ এবং ২০২৩ টানা দুই বছরই বিটিএস পায় গ্র্যামির নমিনেশন। এ ছাড়া ২০১৬ থেকে ২০২২—টানা সাত বছর জেতে কেপপ জগতের অন্যতম মামা অ্যাওয়ার্ড শোর ‘আর্টিস্ট অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কার, কে-পপ ইতিহাসে যা ছিল অসাধ্য।
হুট করেই নেমে আসে দুসংবাদ। ১৩ জুন ২০২২-এ ছিল বিটিএসের নবম জন্মবার্ষিকী। সেদিই ঘোষণা আসে একটি বিরতির। সেই ঘোষণায় শুধু বিটিএস সদস্যারাই কাঁদেননি, তাঁদের সঙ্গে কেঁদেছেন বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কোটি কোটি বিটিএস আর্মি। তবে ব্যান্ডটি কথা দিয়েছিল ভক্তদের। বলেছিল, এটিই শেষ নয়, আরও দারুণ কিছু নিয়ে তাঁরা ফিরে আসবেন আর্মিদের মাঝে, খুব শিগগির। বিটিএস কথা রেখেছে, ফিরে এসেছে নতুন উদ্যমে। এখন দেখার পালা আর কী কী চমক অপেক্ষা করছে আর্মি তথা গোটা সংগীত অঙ্গনের জন্য।
সূত্র: রোলিং স্টোন, টুডুম বাই নেটফ্লিক্স, সিএনএন, দ্য কোরিয়া টাইমস




