এর জন্য যেটি জানা দরকার, তা হলো ওই মৌলটির অর্ধায়ু। যে সময় পরে তেজস্ক্রিয় পরমাণুর সংখ্যা অর্ধেকে নেমে আসে, তাকে বলা হয় অর্ধায়ু। একেক মৌলের অর্ধায়ু একেক রকম। যেমন কার্বন-১৪ এর অর্ধায়ু ৫ হাজার ৭৩০ বছর। কিন্তু পৃথিবীর বয়স নির্ণয় করতে হলে এমন মৌল দরকার, যার অর্ধায়ু অনেক বেশি। কেননা, অল্প অর্ধায়ুবিশিষ্ট মৌলগুলো ইতিমধ্যে পৃথিবীর ভূত্বক থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। তাই ইউরেনিয়াম, থোরিয়াম ইত্যাদি মৌলের কিছু আইসোটোপ তেজস্ক্রিয় ডেটিংয়ের জন্য বেশি কার্যকরী। কারণ এদের অর্ধায়ু কয়েক শ কোটি বছর।
কিন্তু প্রক্রিয়াটি আসলে এত সোজা নয়। উদাহরণস্বরূপ, A পরমাণুর ভাঙনের জন্য যে B পরমাণু তৈরি হয়, সে নিজেও তেজস্ক্রিয় হতে পারে। অর্থাৎ সহজ ভাষায় বলতে গেলে, একটি পরমাণু সরাসরি ভেঙে স্থায়ী পরমাণু হয়ে যায় না; বরং সেটি ধাপে ধাপে একাধিক অস্থায়ী পরমাণু পার হয়ে চূড়ান্ত অবস্থায় পৌঁছায়। তাই পুরো চেইনটি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা না থাকলে বয়স নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। তা ছাড়া এমন একটি শিলাখণ্ড দরকার ছিল, যা পৃথিবীর শুরু থেকে এখনো পর্যন্ত একেবারে সেভাবেই আছে; এর থেকে কোনো পরমাণু হারিয়ে যায়নি কিংবা কোনো রকমের ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়ার জন্য নতুন কিছু মিশেওনি। তাই বিজ্ঞানীরা পৃথিবীতে পাওয়া বিভিন্ন শিলাখণ্ডের নমুনা পরীক্ষা করতে লাগলেন সবচেয়ে পুরোনো শিলাখণ্ডটি নির্ণয় করার জন্য। কারণ, সেটিই হবে পৃথিবীর বয়সের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পরিমাপ।

