১৯৩০ সালের ১৩ জুলাই, ফুটবল ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় দিন। সেদিন উরুগুয়ের রাজধানী মন্টেভিডিওতে শুরু হয় ইতিহাসের প্রথম ফিফা বিশ্বকাপ। বহুল প্রতীক্ষিত এই টুর্নামেন্ট ঘিরে পুরো উরুগুয়েজুড়ে উৎসবের আবহ। যদিও আজকের মতো শত দল বা কোটি দর্শকের উন্মাদনা তখন ছিল না, তবু ফুটবলকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল নতুন এক যুগ। প্রথম বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হয়েছিল মন্টেভিডিওর তিনটি স্টেডিয়ামে— এস্তাদিও সেন্টেনারিও, পার্কে সেন্ট্রাল এবং পোসিতোস স্টেডিয়ামে। এর মধ্যে এস্তাদিও সেন্টেনারিও ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভেন্যু। উরুগুয়ের স্বাধীনতার শতবর্ষ উপলক্ষে নির্মিত এই স্টেডিয়ামটি তখন দক্ষিণ আমেরিকার অন্যতম আধুনিক ক্রীড়াঙ্গন হিসেবে বিবেচিত হতো। প্রবল বৃষ্টির কারণে স্টেডিয়ামের নির্মাণকাজ পুরোপুরি শেষ না হওয়ায় প্রথম কয়েকটি ম্যাচ অন্য মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। পরে ফাইনালের জন্য প্রস্তুত করা হয় বিশাল এই স্টেডিয়াম।
বিশ্বকাপের প্রথম দুটি ম্যাচ একই দিনে অনুষ্ঠিত হয়। এক ম্যাচে ফ্রান্স মুখোমুখি হয় মেক্সিকোর, অন্য ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্র খেলেছিল বেলজিয়ামের বিপক্ষে। ফ্রান্স বনাম মেক্সিকো ম্যাচেই সৃষ্টি হয় ইতিহাস। ম্যাচের ১৯তম মিনিটে ফরাসি ফুটবলার লুসিয়েন লরেন্ট জোরালো এক শটে গোল করেন এবং বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম গোলদাতা হিসেবে নিজের নাম লিখে ফেলেন ইতিহাসের পাতায়। সেই ম্যাচে ফ্রান্স ৪-১ গোলে জয় পায়। পরে লুসিয়েন লরেন্ট এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, তখন বুঝতেই পারেননি যে তিনি এমন একটি ইতিহাসের অংশ হয়ে গেছেন, যা ভবিষ্যতে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আয়োজন হয়ে উঠবে।
টুর্নামেন্টে অংশ নিয়েছিল মাত্র ১৩টি দেশ। দক্ষিণ আমেরিকা থেকে ছিল উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, চিলি, প্যারাগুয়ে, পেরু ও বলিভিয়া। ইউরোপ থেকে অংশ নেয় ফ্রান্স, বেলজিয়াম, যুগোস্লাভিয়া ও রোমানিয়া। উত্তর আমেরিকা থেকে ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো। আজকের মতো দীর্ঘ বাছাইপর্ব তখন ছিল না; আমন্ত্রণের ভিত্তিতেই দলগুলো অংশগ্রহণ করেছিল।




