তবে এর সঙ্গে আইনস্টাইন যোগ করলেন আলোর গতির খেলা। আলোর গতি সব সময় সমান। তুমি বাসে থাকো আর রকেটে, আলোর গতি পাল্টাবে না। এই পেপার থেকেই জন্ম নিল আইনস্টাইনের বিখ্যাত ‘থিওরি অব স্পেশাল রিলেটিভিটি’ বা বিশেষ আপেক্ষিকতা তত্ত্ব। এই পেপারের শিরোনাম ছিল ‘অন দ্য ইলেকট্রোডাইনামিকস অব মুভিং বডিজ’।
২১ নভেম্বর এল সেই অলৌকিক বছরের শেষ চমক। আইনস্টাইনের চতুর্থ পেপার। এখানে তিনি বস্তুর ভেতরের শক্তির হিসাব করলেন। তিনি দেখালেন, একটা বস্তু যখন চলে, তখন তার এক রকম শক্তি থাকে, মানে গতিশক্তি। আর যখন সে স্থির থাকে, তখনো তার মধ্যে শক্তি লুকিয়ে থাকে, অর্থাৎ স্থিতিশক্তি।
আইনস্টাইন প্রমাণ করলেন, বস্তুর ভর ও শক্তি আসলে একই জিনিসের দুই রূপ। ভরকে শক্তিতে রূপান্তর করা যায়। এখান থেকেই এল পৃথিবীর সবচেয়ে বিখ্যাত সমীকরণ: E=mc2।
এখানে E মানে শক্তি, m মানে ভর, আর c মানে আলোর গতি। আলোর গতি অকল্পনীয়, প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩ লাখ কিলোমিটার! এই বিশাল সংখ্যার বর্গ করলে সেটা আরও বিশাল হয়ে যায়। তার মানে, খুব সামান্য ভরের মধ্যেও প্রচণ্ড শক্তি লুকিয়ে থাকে। ভবিষ্যতে পারমাণবিক বোমা ও নিউক্লিয়ার বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরি করা হবে। এসবের মূল ভিত্তি হবে আইনস্টাইনের এই ছোট্ট সমীকরণ!




