রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিরসনে ১০৮ হটস্পট চিহ্নিত: মির্জা ফখরুল | চ্যানেল আই অনলাইন

রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিরসনে ১০৮ হটস্পট চিহ্নিত: মির্জা ফখরুল | চ্যানেল আই অনলাইন

রাজধানী ঢাকার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা নিরসনে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন সমন্বিতভাবে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। 

মঙ্গলবার (৩০ জুন) জাতীয় সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার এক প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, নতুন পানি নিষ্কাশন আউটলেট নির্মাণ, খাল পুনরুদ্ধার, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে সমন্বিতভাবে কাজ চলছে।

তিনি বলেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) জলাবদ্ধতার জন্য ১০৮টি হটস্পট চিহ্নিত করেছে। এসব স্থানে স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে কাজ চলছে। পাশাপাশি ১০টি অঞ্চলে ২১টি কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি) গঠন করা হয়েছে। এসব দল নিয়মিত ড্রেন, ক্যাচপিট, পিট ও ড্রেনেজ লাইন পরিষ্কার করায় অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতা দ্রুত কমে এসেছে।

মন্ত্রী জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ডিএনসিসি ১১০ দশমিক ৯৩ কিলোমিটার সড়ক এবং ১০৫ দশমিক ৮৯ কিলোমিটার নর্দমা নির্মাণ ও উন্নয়ন করেছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আরও ১১৫ কিলোমিটার সড়ক এবং ১২০ কিলোমিটার নর্দমা নির্মাণ ও উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

খালের স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে ৩৬০ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়মিত কাজ করছেন বলেও জানান তিনি। এছাড়া ২৯টি খাল ও একটি রেগুলেটিং পন্ডের সীমানা নির্ধারণের পাশাপাশি ১ হাজার ১৮১টি সীমানা পিলার স্থাপন করা হয়েছে, যাতে অবৈধ দখল রোধ করা যায়।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) কার্যক্রম তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে কমলাপুর টিটিপাড়া, ধোলাইখাল ও হাতিরঝিল এই তিনটি আউটলেটের মাধ্যমে প্রায় ১০৯ দশমিক ২৪ বর্গকিলোমিটার এলাকার বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন করা হচ্ছে। তবে এটি প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট নয়। এই কারণে আরও দুটি নতুন আউটলেট নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে এবং এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও জানান, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ‘মেট্রো ঢাকা রেজিলেন্স’ প্রকল্পের আওতায় গুলিস্তান থেকে সদরঘাট পর্যন্ত একটি নতুন বৃহৎ পানি নিষ্কাশন আউটলেট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া শ্যামপুর খালের পানি দ্রুত বুড়িগঙ্গা নদীতে প্রবাহিত করতে বক্স কালভার্ট ও ৮ ফুট ব্যাসের বড় নর্দমা নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে।

ডিএসসিসি এলাকায় নিউমার্কেট, নাঈম রোড, গ্রিন রোড, শান্তিনগর, মুগদা মেডিকেল, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড, মাজেদ সরদার রোড ও পশ্চিম মালিবাগসহ ৩৩টি জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। এসব এলাকায় ২২টি খাল পরিষ্কার ও পুনঃখনন, চারটি বক্স কালভার্ট পরিষ্কার এবং ওয়ার্ডভিত্তিক নর্দমা পরিষ্কারের কাজ চলছে। এছাড়া জলাবদ্ধতা দেখা দিলে দ্রুত পানি অপসারণের জন্য ছয়টি পোর্টেবল পাম্পও স্থাপন করা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন ‘খাল পুনরুদ্ধার, সংস্কার ও নান্দনিক পরিবেশ সৃষ্টি’ প্রকল্পের আওতায় কালুনগর, শ্যামপুর, জিরানী ও মান্ডা এই চারটি বড় খালের পুনঃখনন ও টেকসই উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

তিনি বলেন, রাজধানীর জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নতুন পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা, খাল পুনরুদ্ধার এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ সব কার্যক্রম সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।