এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত, বিশেষ করে ইরান–ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা এবং তার প্রভাবে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা, সারা বিশ্বে তেলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। তেলের দাম বাড়লে তার প্রভাব শুধু জ্বালানিতে সীমাবদ্ধ থাকে না, পরিবহন ব্যয় বাড়ে, উৎপাদন ব্যয় বাড়ে, কৃষির খরচ বাড়ে, সরবরাহব্যবস্থা ব্যয়বহুল হয় আর শেষে দ্রব্যমূল্য বাড়ে। বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর অর্থনীতির জন্য এটি বিশেষ চাপের কারণ। এই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার মতো আর্থিক সক্ষমতা সরকারের হাতে সীমিত, কারণ, রাজস্ব আহরণ এখনো কাঙ্ক্ষিত জায়গায় পৌঁছায়নি।
নতুন সরকার কী করতে পারে
নতুন সরকার গণতান্ত্রিকভাবে প্রতিষ্ঠিত একটি জনদরদী সরকার হিসেবে ইতিমধ্যেই নানা সামাজিক নিরাপত্তামূলক ও জনহিতকর কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করেছে। কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, দুর্বল জনগোষ্ঠীর জন্য সহায়তা, বাজারে স্থিতি আনার প্রচেষ্টা—এসব উদ্যোগ রাজনৈতিকভাবে যেমন তাৎপর্যপূর্ণ, তেমনি আর্থিকভাবেও ব্যয়বহুল। জনগণের স্বার্থে গৃহীত এসব উদ্যোগের জন্য সরকারের হাতে অনেক অর্থ প্রয়োজন। ফলে রাজস্ব আহরণের গুরুত্ব কয়েক গুণ বেড়ে গেছে।
রাষ্ট্র পরিচালনার এই বাস্তবতাকে অনেকটা একটি পরিবারের সঙ্গে তুলনা করা যায়। কোনো পরিবারের আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ভারসাম্য না থাকলে পরিবার সমস্যায় পড়ে। রাষ্ট্রও এর ব্যতিক্রম নয়। নতুন সরকার তাই স্বাভাবিকভাবেই ভাবছে, কীভাবে জনগণের কষ্ট না বাড়িয়ে, নতুন করের চাপ না বাড়িয়ে, কোথায় থেকে নতুনভাবে রাজস্ব আহরণ করা যায়। এটাই এই সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নীতিপ্রশ্নগুলোর একটি।
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে সরকারপ্রধান বা অর্থমন্ত্রী একা সিদ্ধান্ত নেন না। তাঁদের সহায়তা করেন অভিজ্ঞ আমলা, করবিশেষজ্ঞ, অর্থনীতিবিদ, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা, বিশ্বব্যাংকের পরামর্শক এবং বড় ব্যবসায়ী গোষ্ঠী। কিন্তু এখানেই একটি জটিল বাস্তবতা রয়েছে। এসব পক্ষের সবাই যে একই সততা, একই উদ্দেশ্য এবং একই নিরপেক্ষতা নিয়ে সরকারকে সাহায্য করেন, তা সব সময় সত্য নয়। প্রত্যেকের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি, প্রাতিষ্ঠানিক অভ্যাস এবং কখনো কখনো নিজস্ব স্বার্থ থাকে। ফলে সরকারের সামনে বহু বিকল্প আসে, কিন্তু সেখান থেকে সেরা বিকল্পটি বেছে নেওয়াই সবচেয়ে কঠিন কাজ হয়ে দাঁড়ায়।




