
ঢাকা, ২৭ সেপ্টেম্বর – রাজধানীর ঐতিহাসিক ‘রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি’ দাতব্য স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পুলিশের উপস্থিতিতে ভাঙচুর, কিশোরগঞ্জে জলমহাল দখল নিয়ে সংঘর্ষ এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের কার্যালয় তছনছ করার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। দুর্নীতিবিরোধী আন্তর্জাতিক এই সংস্থাটি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, এসব নৈরাজ্য কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়—বরং সরকারের জন্য এক বড় অশনিসংকেত।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) এক বিশেষ প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরে সারাদেশে সরকারি ও ক্ষমতাসীন দল হিসেবে বিএনপির ‘আত্মশুদ্ধি অভিযান’ পরিচালনার জোর তাগিদ দেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।
“পুলিশের সামনেই ধ্বংস দাতব্য হাসপাতাল!”— প্রশ্ন টিআইবি প্রধানের
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনের এক সংসদ সদস্যের পৃষ্ঠপোষকতায় ও পুলিশের প্রত্যক্ষ উপস্থিতিতে শত শত মানুষের সামনে দীর্ঘদিন ধরে দরিদ্র মা ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া একটি প্রতিষ্ঠান জবরদখল ও তছনছ করা চরম বিব্রতকর।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর ঐতিহাসিক জয়ের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা একটি দল কী ধরণের দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চাচ্ছে? এসব তাণ্ডব নতুন সরকারের সকল ভালো উদ্যোগ ও সদিচ্ছাকে জনগণের কাছে এক নিমেষে ম্লান করে দিচ্ছে।
বাস টার্মিনাল থেকে ফুটপাত: দখলের হাতবদল ও অসুস্থ প্রতিযোগিতা
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশজুড়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের একাংশের বিরুদ্ধে ওঠা দখলবাজির ফিরিস্তি তুলে ধরে টিআইবি জানায়:
পরিবহন ও ফুটপাত: সায়েদাবাদ, মহাখালী ও গাবতলীসহ চট্টগ্রাম, সিলেট ও খুলনার প্রধান বাস টার্মিনাল, ফুটপাত এবং কাঁচাবাজারে দখলের হাতবদল হয়েছে।
অন্যান্য খাত: বালুমহাল, জলমহাল, ক্যাবল-ইন্টারনেট ব্যবসা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার নিয়ন্ত্রণ নিয়েও চলছে তৃণমূল পর্যায়ে উন্মাদের মতো আধিপত্য বিস্তারের লড়াই।
সহিংসতা ও ক্ষোভ: কিশোরগঞ্জে জলমহাল দখল কেন্দ্র করে নিজস্ব বলয়ের দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এবং ঢাকার ইসিবি চত্বরে সালমান মুক্তাদিরের ব্রাউনফিশ স্টুডিও ভাঙচুর করা এই চরম আধিপত্যেরই ধারাবাহিক রূপ।
“এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাবে”
টিআইবি কঠোর সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছে—
নামকাওয়াস্তে বহিষ্কার যথেষ্ট নয়: কেবল দল থেকে বহিষ্কার করে আইওয়াশ না করে, বিচারহীনতার সংস্কৃতি রুখতে নিজেদের আত্মশুদ্ধিমূলক পদক্ষেপ নিতে হবে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে স্বাধীন রাখা: অপরাধীদের রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে পুলিশ প্রশাসনকে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ করে দিতে হবে।
সরকারের দায়ভার: সরকারি দল যদি নিজেদের দুর্নীতিবিরোধী ও স্বচ্ছতার অঙ্গীকার রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়, তবে অর্জিত জনসমর্থন হারিয়ে পরিস্থিতি সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।
টিআইবি অনতিবিলম্বে রাড্ডা সেন্টারে হামলা এবং সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও তাণ্ডবসহ সব অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের তদন্তপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
এনএন/ ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬




