পুলিশ বাহিনীকে ‘জনবান্ধব’ বাহিনীতে পরিণত করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
বুধবার সকালে ঢাকায় বিএনপি আয়োজিত ঈদে মিলাদুন্নবীর (সা.) আলোচনা সভায় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তুলে ধরতে গিয়ে তিনি বলেন, “আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনী জনপ্রত্যাশিত জনবান্ধব পুলিশ বাহিনীতে পরিণত হবে ইনশাআল্লাহ।
“রাতারাতি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আমরা কেউ আশা করতে পারি না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এদেশের গণমানুষের নেতা জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে, নির্দেশনায় আমরা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে একটা এমন পর্যায়ে উন্নীত করতে পারব…ইনশাআল্লাহ জনপ্রত্যাশা পূরণ হবে। এই বাহিনী জনবান্ধব বাহিনী হিসেবে নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠা করবে।”
সাম্প্রতিক মাসগুলো দেশে একের পর একে খুনের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনা চলছে।
রংপুরে এক শিক্ষক পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় পুলিশের তদন্ত সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আইনি কাঠামোয় পরিবর্তন’
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আইনি কাঠামোয় পরিবর্তন আনা হচ্ছে তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তাদের যেমন জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হচ্ছে, তেমনি তাদের কর্মকাণ্ডের স্বচ্ছতাও নিশ্চিত করা হবে।
‘দুষ্টের দমন সৃষ্টের পালননীতি’ অনুসরণের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
‘অতীত থেকে পাওয়া ভঙ্গুর আইনশৃঙ্খলা’
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের সময়ে বিশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, অভ্যত্থানের যে বাংলাদেশ তারা পেয়েছেন যে আকাশসম উচ্চতার জনপ্রত্যাশা পেয়েছেন, সে সবকিছু তাদের একইসঙ্গে বিবেচনায় নিতে হবে।
“আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আধুনিকায়ন, মনোবল বৃদ্ধি করা, তাদেরকে জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করতে অনুপ্রাণিত করা…এই কাজগুলো একসাথে করতে হবে, যা আমরা করে যাচ্ছি।”
‘একটি ঘটনাও নাই’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “সরকারের ছয় মাস অতিবাহিত হয়েছে। এ দায়িত্ব নেওয়ার পরে একটি ঘটনাও নাই, এমন কোনো অপরাধ নাই, যেটা সংঘটিত হওয়ার পরপরই পুলিশ বাহিনী গ্রেপ্তার করতে পারে নাই বা বিচারের উদ্যোগ নেয় নাই। একটি ঘটনাও নাই। এটাই বাংলাদেশে বর্তমান সরকারের কৃতিত্ব।”
মাঝে মাঝে পুলিশ বাহিনীসহ সকল শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রশংসা করেন তুলে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “এজন্যই করি যে, তাদের ভঙ্গুর মনোবল এবং ভঙ্গুর অবস্থায় যেভাবে আমরা পেয়েছিলাম…এই ছয় মাসের মধ্যে তাদেরকে, আমরা একটা অবস্থায় উন্নীত করতে পেরেছি…তাদের মনোবল ফিরে এসেছে এবং সম্পূর্ণ শক্তি দিয়ে অপরাধ দমনে তারা সচেষ্ট হয়েছে।”
তিনি বলেন, “রংপুরের একটি ঘটনার কথা ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব সাহেব বললেন, সেই ঘটনা সংঘটিত হওয়ার যৌক্তিক সময়ের মধ্যে সবাইকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
“এরকম রামিসা হত্যা থেকে শুরু করে যত ঘটনা জাতীয়ভাবে আলোচিত হয়েছে বা আলোচিত হয় নাই প্রত্যেকটা অপরাধের আমরা এড্রেস করতে পেরেছি এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে আসতে পেরেছি, আদালতের কাছে সোপর্দ করতে পেরেছি।”
কিছু ক্ষেত্রে সমাজের চাহিদা অনুসারে সংক্ষিপ্ত সময়ে বিচারিক কাজ সমাপ্ত করার জন্য সহযোগিতা করেছেন তুলে ধরে বিএনপির এ নেতা বলেন, “এর চাইতে, এই অল্প সময়ের মধ্যে আর বেশি কিছু আশা করা আমাদের মনে হয় ঠিক হবে না।”
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, হাবিবুর রহমান হাবিব, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, কেন্দ্রীয় নেতা মীর সরাফত আলী সপু, আবদুস সাত্তার পাটোয়ারী, রফিক শিকদার, তরিকুল ইসলাম তেনজিং, আমিনুল ইসলাম।

