লাগেজের ওজন কমাতে ৭০টি পোশাক গায়ে চাপিয়ে বিমানযাত্রীর অভিনব কাণ্ড – DesheBideshe

লাগেজের ওজন কমাতে ৭০টি পোশাক গায়ে চাপিয়ে বিমানযাত্রীর অভিনব কাণ্ড – DesheBideshe


ছবিটি AI দিয়ে তৈরি প্রতীকী চিত্র

বিভিন্ন উড়োজাহাজ কোম্পানির টিকিটের বিজ্ঞাপন দেখলে আজকাল অনেকেরই চোখ জুড়িয়ে যায়। ভাড়া বেশ কম। কিন্তু বুকিংয়ের শেষ ধাপে গিয়ে দেখা যায়, পছন্দের সিট চাইলে অতিরিক্ত টাকা, সঙ্গে ক্যারি অন ব্যাগ নিলে আলাদা টাকা, চেকড লাগেজ নিলে আরও বেশি টাকা, নির্ধারিত ওজনের চেয়ে সামান্য বেশি হলেই আবার বাড়তি টাকা। সস্তা টিকিটের সঙ্গে এই ছোট ছোট খরচ যোগ হতে হতে ভ্রমণের বাজেট অনেক সময় বেশ ভারী হয়ে যায়। তাই যাত্রীরাও কম খরচে পার পাওয়ার নানা বুদ্ধি খোঁজেন। কেউ ভারী জিনিস দিয়ে জ্যাকেটের পকেট ভর্তি করেন, কেউ কাঁধে, গলায় কিংবা কোমরে কয়েকটি পোশাক চাপান। কিন্তু চীনের এক যাত্রী যে বুদ্ধি বের করেছিলেন, তা সম্ভবত এসব কৌশলেরও বহু দূর এগিয়ে।

গুয়াংজুর বাইইউন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নাইরোবিগামী এক যাত্রী এসে জানতে পারেন, তাঁর ব্যাগের ওজন নির্ধারিত সীমা ছাড়িয়ে গেছে। অতিরিক্ত লাগেজের টাকা দিতে হবে, নইলে ব্যাগ থেকে কিছু জিনিস বাদ দিতে হবে। সামান্য কিছু পোশাক হলে হয়তো তিনি হাতে নিতেন বা অন্য ব্যাগে ভরতেও পারতেন। কিন্তু তাঁর ব্যাগে ছিল একেবারে ছোটখাটো পোশাকের দোকান। সেখানে ৬০টির বেশি শার্ট এবং ৯টি জিন্সের হেভি প্যান্ট।

অতিরিক্ত ফি দেওয়ার কথা শুনে তিনি ব্যাগের দিকে তাকালেন, তারপর হয়তো নিজের শরীরের দিকে। সেখানেই জন্ম নিল অভিনব পরিকল্পনা। ব্যাগে জায়গা নেই, কিন্তু গায়ে তো জায়গা আছে। শুরু হলো একের পর এক শার্ট পরার কাজ। একটি শার্টের ওপর আরেকটি, তার ওপর আরও একটি। জিন্সের ওপর জিন্স। শেষ পর্যন্ত প্রায় ৭০টি পোশাক তাঁর শরীরে উঠে গেল।

দূর থেকে তাঁকে দেখে কেউ হয়তো ভেবেছিলেন, তিনি এমন কোনো দেশে যাচ্ছেন যেখানে বছরের সব ঋতু একদিনে আসে। কিন্তু কাছে গিয়ে বোঝা গেল, তিনি শীতের প্রস্তুতি নিচ্ছেন না, অতিরিক্ত লাগেজের খরচ কমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সংবাদমাধ্যমের বর্ণনায়, এত পোশাকের স্তরে তাঁর চেহারা অনেকটা জাপানি সুমো কুস্তিগিরের মতো হয়ে গিয়েছিল।

পরিকল্পনাটি মন্দ ছিল না। ব্যাগের ওজন কমে গেছে, পোশাকগুলোও সঙ্গে রইল। এখন শুধু নিরাপত্তা তল্লাশি পেরিয়ে বিমানে ওঠা। কিন্তু বিমানবন্দরের মেটাল ডিটেক্টর তাঁর এই নতুন ফ্যাশনকে মোটেও স্বাভাবিক বলে মানতে রাজি হলো না। ফটকের ভেতর পা দিতেই জোরে বেজে উঠল অ্যালার্ম।

নিরাপত্তাকর্মীরা তাঁকে থামালেন। এত স্তরের পোশাকের ভেতরে কোথায় কী আছে, তা বোঝা কঠিন। তল্লাশি শুরু হতেই বেরিয়ে এল ব্যাটারি, ইউএসবি ড্রাইভ, চার্জার, খেলনাসহ নানা জিনিস। আর সেগুলো বের করতে গিয়ে তাঁকে খুলতে হলো একের পর এক পোশাক।

কিছুক্ষণ আগেও যাঁকে দেখে মনে হচ্ছিল, তিনি বুঝি পুরো একটি ওয়ার্ডরোব গায়ে চাপিয়ে এসেছেন, পোশাক খুলতে খুলতে তাঁর আসল চেহারাও সামনে এল। নিরাপত্তাকর্মীদের জন্য এটি ছিল নিয়মিত দায়িত্বের অংশ। কিন্তু আশপাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের কাছে দৃশ্যটি নিশ্চয়ই ছিল বিমানবন্দরের অঘোষিত বিনোদন। কেউ হয়তো মনে মনে হিসাব করছিলেন, ৬০টির বেশি শার্ট পরে হাত নাড়ানো যায় কি না। কেউ আবার ভাবছিলেন, বিমানের সরু আসনে বসলে তাঁর পাশের যাত্রীর অবস্থা কী হতো।

শেষ পর্যন্ত তিনি ফ্লাইটে উঠতে পেরেছিলেন কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য নেই। তবে অতিরিক্ত লাগেজের ফি বাঁচানোর এই কৌশল তাঁকে এমন এক পরিস্থিতিতে ফেলেছিল, যা তিনি হয়তো কোনোদিন ভুলতে পারবেন না।

বিমানযাত্রার আগে ভারী জ্যাকেট পরে নেওয়া কিংবা দুই-একটি পোশাক গায়ে চাপানোর কৌশল নতুন নয়। কিন্তু ৭০টি পোশাক গায়ে চাপিয়ে বিমান ধরার ঘটনা বলে দেয়, অতিরিক্ত এই লাগেজের টাকা বাঁচাতে মানুষ কখনও কখনও কী বিচিত্র কাণ্ডই না করতে পারেন।

তথ্যসূত্র: চীনের ‘গুয়াংজু ডেইলি’র বরাতে দ্য এক্সামিনার ও বিজনেস ইনসাইডার