
সাংবাদিক ও কৃষি উন্নয়নকর্মী শাইখ সিরাজ
কৃষি ও গণমাধ্যমে দীর্ঘদিনের অবদানের জন্য সাংবাদিক ও কৃষি উন্নয়নকর্মী শাইখ সিরাজের প্রশংসা করেছেন লেখক ও সাংবাদিক আদিত্য শাহীন। শাইখ সিরাজের কাজকে সাধারণ মানুষের জীবন পরিবর্তনের একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা জানান আদিত্য শাহিন।
পোস্টে আদিত্য শাহিন লেখেন, মানুষের মধ্যে নতুন করে জাগরণ তৈরি করা, তাদের আবেগতাড়িত করা এবং ছোট ছোট উদ্যোগের মাধ্যমে কোনো জনগোষ্ঠীর জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। যেখানে দীর্ঘদিন আলো পৌঁছায়নি, সেখানে আলো পৌঁছে দেওয়ার কাজটিও জরুরি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, পৃথিবীর অন্য অনেক কাজের মতো শাইখ সিরাজের কাজেও অবসর বা পদোন্নতির প্রচলিত ধারণা নেই। বরং একটি কাজ শেষ করে আরও বড় কাজের তাগিদ তৈরি করাই তার ‘পদোন্নতি’। প্রতিদিন নতুন কিছু করার লক্ষ্য নিয়ে তিনি এগিয়ে চলেন।
আদিত্য শাহিন বলেন, আমি এক পরিপূর্ণ জীবনের কথা বলছি। যে জীবনে প্রতিদিন পূর্ণতা আসে এবং প্রতিদিন সেই পূর্ণতার ভাণ্ডার খালি হয়ে যায়, আর নতুন কিছু করার নেশায় তিনি ছুটতে থাকেন শারীরিকভাবে, মানসিকভাবে এবং চিন্তাগতভাবে।
গণমাধ্যমকে বাংলাদেশে মানুষের জীবন পরিবর্তনের অন্যতম বড় ক্ষেত্র হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, একসময় বাংলাদেশ টেলিভিশন ছিল গণমাধ্যমের প্রধান সূত্রমুখ। আধুনিকতা, বিশ্বায়ন ও চিন্তার সঙ্গে মানুষের সংযোগ তৈরিতে এই মাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তবে গণমাধ্যমের শক্তিকে অসাধারণ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে শাইখ সিরাজের ভূমিকা আলাদা।
আদিত্য শাহিন জানান, ২০০২ সাল থেকে চ্যানেল আইতে কাজের সুবাদে তিনি শাইখ সিরাজকে কাছ থেকে দেখছেন। তার মতে, শাইখ সিরাজের বিশেষত্ব হলো তিনি সাধারণ মানুষের মধ্যে এমন অনেক সম্ভাবনা ও গল্প খুঁজে পান, যা অন্যদের চোখে সহজে ধরা পড়ে না।
তিনি লেখেন, তিনি যখন ক্ষুদ্র কোনো ফুল কোথাও ফুটতে দেখেন, অন্যরা হয়তো সেই ফুল চোখে দেখে না। তিনি যখন মানুষকে একটি প্রশ্ন করেন, সেই প্রশ্নের জবাবে মানুষ যা বলে, অন্যরা প্রশ্ন করলে সেই একই মানুষটির মুখ থেকে সে কথাগুলো পাওয়া যায় না।
শাইখ সিরাজের কাজের নিষ্ঠা ও ধারাবাহিকতাকেই তার সাফল্যের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন আদিত্য শাহিন। তার ভাষ্য, অনেকে একই ধরনের কাজ করার চেষ্টা করলেও শাইখ সিরাজের মতো নিষ্ঠা না থাকায় তাদের প্রচেষ্টা অনেক সময় কাঙ্ক্ষিত ফল দেয় না।
নিজের বিদেশে বসবাসের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন আদিত্য শাহিন। তিনি বলেন, নিউইয়র্কসহ ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে তিনি দেখেছেন শাইখ সিরাজের কাজ মানুষের মধ্যে প্রভাব ফেলেছে। মাটিতে গাছ লাগানো কিংবা কৃষির প্রতি আগ্রহ তৈরির মতো অনেক উদ্যোগের পেছনেও তার প্রচারের প্রভাব রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
শাইখ সিরাজ কৃষি ও মাটির সঙ্গে মানুষের সম্পর্কের চিরন্তন সত্যকে কখনো পুরোনো হতে দেননি বলেও মন্তব্য করেন আদিত্য শাহিন। মানুষকে খাবার, মাটি, পানি, বাতাস ও ফসলের সঙ্গে সম্পর্কের কথা মনে করিয়ে দেওয়াকে তিনি পৃথিবীর কল্যাণের গুরুত্বপূর্ণ কাজ হিসেবে দেখেছেন।
৭ সেপ্টেম্বর শাইখ সিরাজের জন্মদিন উল্লেখ করে আদিত্য শাহিন বলেন, দিনটি বাংলাদেশের অনেক মানুষের কাছেই গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন সময়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের কৃষকেরা ঢাকায় এসে তার জন্মদিন উদযাপন করেছেন এবং নিজেদের উৎপাদিত ফল-ফসল নিয়ে তাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
পোস্টের শেষদিকে শাইখ সিরাজকে নিজের জীবনের ‘বটবৃক্ষের ছায়া’ হিসেবে উল্লেখ করেন আদিত্য শাহিন। বাংলাদেশের মানুষের প্রতি শাইখ সিরাজের দায়বদ্ধতার এই পথচলা আরও বহু বছর অব্যাহত থাকবে বলে দোয়া করেন তিনি।
প্রতিবেদক
আদিত্য শাহীন
আদিত্য শাহীন সাংবাদিক ও গণমধ্যম কর্মী। পেশাগতভাবে যুক্ত চ্যানেল আই এর সঙ্গে বার্তা সম্পাদক হিসেবে, কৃষি উন্নয়ন ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজের সহযোগী হিসেবে তার কৃষি বিষয়ক গণমাধ্যম কার্যক্রমের সঙ্গে কর্মকাল একযুগেরও বেশি । দুইটি পত্রিকা প্রকাশনার সঙ্গে যুক্ত প্রধান সম্পাদক হিসেবে । পত্রিকা দুটি মাসিক ক্রিটিক ও ত্রৈমাসিক পারি । লোকালপ্রেস নামে একটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংযুক্তি। সম্পাদিত গ্রন্থ : জনভাষ্য (ছয় খণ্ড), সাইফুদ্দিন আহমেদ মানিক স্মারকগ্রন্থ। কাব্যগ্রন্থ : ওগো মোর দেহ প্রভূ (সিটি ব্যাংক আনন্দ আলো পুরস্কারপ্রাপ্ত) শিশুগ্রন্থ: ভেবলুর গালিভার (গল্প)
আরও পড়ুন
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…


