
ওয়াশিংটন, ৭ আগস্ট – সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোতে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়ায় প্রযুক্তি জায়ান্ট মেটাকে ৫৬৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার জরিমানা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকোর একটি আদালত। এর আগের জরিমানাসহ মামলাটিতে বিচারক ব্রায়ান বিডশেইডের নির্দেশে মেটার ওপর মোট অর্থদণ্ডের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৪২ মিলিয়ন ডলারে।
শিশু নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনো মামলায় এটিই প্রতিষ্ঠানটির ওপর আরোপিত এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ আর্থিক দণ্ড।
রায়ে আদালত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রতিষ্ঠান মেটাকে পরিবেশ দূষণকারী কারখানার সাথে তুলনা করে একটি জনউপদ্রব হিসেবে অভিহিত করেছেন। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, কারখানা থেকে নির্গত বিষাক্ত ধোঁয়া যেমন সাধারণ মানুষের শ্বাসপ্রশ্বাসের বাতাস দূষিত করে, ঠিক তেমনি মেটার প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে শিশুদের মানসিক ক্ষতি ও যৌন শোষণ শুধু অনলাইনেই সীমাবদ্ধ থাকে না। এটি পরিবার, স্কুল ও সমাজজুড়ে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে জরিমানার বড় অংশ দিয়ে একটি বিশেষ তহবিল গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এই অর্থ ক্ষতিগ্রস্ত শিশুদের চিকিৎসাসেবা, মনস্তাত্ত্বিক সহায়তা এবং শিক্ষক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের বিশেষ প্রশিক্ষণে ব্যয় করা হবে।
২০২৩ সালে নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের দায়ের করা এই মামলায় মেটার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল যে, তাদের রিকমেন্ডেশন অ্যালগরিদম অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীদের ক্ষতিকর কনটেন্ট ও অপরাধীদের দিকে ধাবিত করে।
রায়ের পর জরিমানার পাশাপাশি ১৮ বছরের কম বয়সীদের সুরক্ষায় মেটাকে বেশ কিছু কঠোর পদক্ষেপে বাধ্য করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রাপ্তবয়স্ক ও অপ্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে সরাসরি বার্তা আদান প্রদান বন্ধ করা, নির্দিষ্ট সময়ে পুশ নোটিফিকেশন নিষিদ্ধ করা এবং মাসিক ব্যবহারের সময়সীমা নির্ধারণ।
তবে এই রায়ের বিরোধিতা করে উচ্চ আদালতে আপিলের ঘোষণা দিয়েছে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের অভিভাবক প্রতিষ্ঠান মেটা।
এনএন/ ৭ আগস্ট ২০২৬






