শীতলক্ষ্যায় ভেসে গেল সুখচাঁনের সুখ, ‘এত কষ্ট কেমনে সহ্য করমু?’

সুখচাঁন প্রথম আলোকে বলেন, ‘এত কইরা কইলাম, নদীত যাওয়ার দরকার নাই, অন্য কোনোখান থাইক্যা ঘুইরা আসো। আমার কতা শুনল না, তারা নদীতই গেল। তিন মাইয়ার ঘরে তিনজন নাই। বড় মেয়েডা অসুখে মারা যাওয়ার পর জামাই আর বিয়ে করে নাই। হেগর ছেলে শান্তরে ছোটত্তে একাই মানুষ করছে। মাস্টার্স পরীক্ষা দিয়া দেশের বাইরে যাওয়ার নিয়ত করছিল। ওই নাতিই আর নাই। গত বছর বিয়া দিলাম যে মাইয়ারে হেও নাই। কয়েক দিন পর সৌদি যাওয়ার কথা যে জামাইর, হেও আর নাই। এত কষ্ট কেমনে সহ্য করমু?’

ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার শীতলক্ষ্যায় গোসলে নেমে পাঁচজন তলিয়ে যাওয়ার পর শিশুসন্তানসহ শাহীনুর আক্তারকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় অন্যদের উদ্ধার করতে গিয়ে সৌরভ মিয়া (১৮) নামের আরও একজন নিখোঁজ হন। শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত অভিযান চালিয়েও নিখোঁজ চারজনের সন্ধান মেলেনি। পরদিন শনিবার সকাল ১০টার দিকে ওবায়দুল্লাহ ও সৌরভের মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। দুপুরের দিকে ঘটনাস্থল থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে নিখোঁজ শান্তার (২৫) লাশ ভেসে ওঠে। এখনো নিখোঁজ শান্ত (২৪) নামের এক তরুণ।