
ইউরোপজুড়ে শীর্ষ ১০ লিগের মধ্যে এপর্যন্ত একটি ক্লাবই আছে যারা চলতি মৌসুমে হারেনি একটি ম্যাচেও। এপর্যন্ত ১২ ম্যাচ খেলে না হারা দলটি বায়ার্ন মিউনিখ। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, কিংবা ঘরোয়া বুন্দেসলিগা এবং জার্মান কাপে বাভারিয়ানরা অপরাজিত। ইউরোপের বাইরে বিশ্বজুড়ে দর্শক চাহিদায় থাকা শীর্ষ পাঁচটি লিগেও কোন ক্লাব অপরাজিত নেই। অর্থাৎ বিশ্বে বড় ক্লাবগুলোর মধ্যে শুধু জার্মান জায়ান্টরা একচ্ছত্র আধিপত্য ধরে রেখেছে।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে তিনটি ম্যাচ খেলে একটি জয় ও দুটি ড্র বায়ার্ন মিউনিখের। বুন্দেসলিগায় ক্লাবটি ৭ ম্যাচ খেলে জিতেছে ৫টি, ড্র দুটি। যা তাদের টেবিলে শীর্ষে রেখেছে। ডিএফবি পোকাল অর্থাৎ জার্মান কাপে দুই ম্যাচে দুই জয় নিয়ে পৌঁছেছে পরের রাউন্ডে। এখানে ১০ গোলের বিনিময়ে হজম করেছে কেবল দুটি গোল। ক্লাবটির দুর্দান্ত মৌসুমের পিছে বড় অবদান রাখা হ্যারি কেন গত মৌসুমের জন্য সোমবার ব্যালন ডি’অর পুরস্কার জিতেছেন। দেখে নেয়া যাক বাকি লিগগুলোতে ক্লাবগুলোর অবস্থা।
কোন কোন লিগে এখনও শীর্ষ ক্লাবগুলো অপরাজিত থাকলেও মহাদেশীয় টুর্নামেন্ট কিংবা দেশের কাপে দেখেছে হার। ইউরোপের বাইরে বিশ্বজুড়ে দর্শক চাহিদায় এগিয়ে রয়েছে ব্রাজিলের সিরি-আ, আর্জেন্টিনার প্রিমেরা ডিভিশন, সৌদি আরবের সৌদি প্রো-লিগ, যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকার এবং মেক্সিকোর লিগা এমএক্স। দেশগুলোর ঘরোয়া লিগে কোন ক্লাবই আর চলতি মৌসুমে অপরাজিত নেই। প্রথমেই বলা যাক জার্মানি ছাড়া বাকি ইউরোপের শীর্ষ চার লিগের কথা। ইংল্যান্ডের প্রিমিয়ার লিগ, স্পেনের লা লিগা, ইতালির সিরি-আ এবং ফ্রান্সের লিগ ওয়ান।
ইংলিশ লিগে শীর্ষের দিকে থাকা ম্যানচেস্টার সিটি, আর্সেনাল এবং লিভারপুলের আছে একটি করে হার। সম্প্রতি অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে হেরেছে সিটি। অন্যদিকে লিগে ছাড়াও কারাবাও কাপে চতুর্থ স্তরের ক্লাবের বিপক্ষে হেরেছে আর্সেনাল। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে পিএসজির বিপক্ষেও হেরেছে সিটি। লিগে ব্রেন্টফোর্ডের বিপক্ষে হার আছে অলরেডদের।
অন্যদিকে মৌসুমে দারুণ শুরু করেছিল বার্সেলোনা। ১১ ম্যাচে ছিল ১১ জয়। বায়ার্ন মিউনিখকে টক্কর দিচ্ছিল স্প্যানিশ চ্যাম্পিয়নরা। তবে টানা দুই বড় ম্যাচে হার এড়াতে পারেনি কাতালান ক্লাবটি। প্রথমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে পিএসজির বিপক্ষে ৪-২, পরে এল ক্ল্যাসিকোতে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে ঘরের মাঠে ২-১ গোলে হেরেছে তারা। অন্যদিকে লিগেই রিয়ালের দুটি এবং অ্যাটলেটিকোর রয়েছে একটি হার।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে কোন হার না থাকলেও লিগ ওয়ানে একটি হার রয়েছে পিএসজির। ঘরোয়া লিগে দুই ড্র দিয়ে শুরু করে তৃতীয় ম্যাচে মোনাকোর বিপক্ষে ২-১ গোলে হেরেছিল ফরাসি চ্যাম্পিয়নরা।
ইতালির সিরি-আ’তে এখনও হারেনি রোমা, ইন্টার মিলান এবং লাজিও। তবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ইন্টারের অবস্থা বেশি একটা ভালো নয়, তিন ম্যাচে ১ জয়ের বিপরীতে দুটি হার। রোমা একটি করে জয়, ড্র এবং হারে টেবিলে মাঝামাঝিতে আছে। লাজিওর অবস্থা ভিন্ন, চলতি মৌসুমে কোন মহাদেশীয় আসরে নেই ক্লাবটি। তাহলে তাদের অপরাজিতই থাকার কথা ছিল। কিন্তু বিপত্তি ঘটেছে কোপা ইতালিয়াতে। ইতালিয়ান কাপে দ্বিতীয় স্তর সিরি-বি’র ক্লাব মান্তোভার বিপক্ষে ২-০ গোলে হেরে বিদায় নিয়েছে তারা।
এখন দেখা যাক শীর্ষ পাঁচ লিগের পরে থাকা লিগগুলোর দলের কী অবস্থা। প্রথমেই আসে নেদারল্যান্ডসের লিগ। যেখানে খেলে আয়াক্স, পিএসভি এবং ফেইনুর্দের মতো ক্লাবগুলো। এখানে একমাত্র অপরাজিত দলটি ফেইনুর্দ। তবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে তারা তিন ম্যাচে হেরেছে দুটিতে।
লিগা পর্তুগাল, যেখানে একটি করে হার বেনফিকা এবং স্পোর্টিং লিসবনের। তবে এখনও অপরাজিত এফসি পোর্তো। ক্লাবটি বিবর্ণ আবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগে। তিন ম্যাচে তিনটি হার দেখেছে।
বেলজিয়াম লিগে ক্লাব ব্রুগে হেরেছে একটি ম্যাচে। তবে এখনও অপরাজিত আছে জেন্ট এবং ইউনিয়ন। অবশ্য ইউনিয়ন আগেই বোডো/গ্লিমটের বিপক্ষে দুই লেগ মিলিয়ে হেরে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের বাছাই থেকে ছিটকে গেছে। অন্যদিকে জেন্ট উয়েফা কনফারেন্স লিগে দুই ম্যাচে হেরেছে একটিতে।
তুরস্কের সুপার লিগে হার এড়াতে পারেনি কোন ক্লাব। একটি করে হার গ্যালাতাসারেই এবং আমেদ এসকের। তিনটি হার ফেনেরবাচ এবং বেসিকতাসের। স্কটিশ প্রিমিয়ারশিপে সবচেয়ে বড় ক্লাব সেল্টিক এবং রেঞ্জার্স হেরেছে একটি করে ম্যাচে। গ্রিসের লিগে একমাত্র অপরাজিত ক্লাবটি এইকে অ্যাথেন্স। যারা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে হেরেছে দুটি ম্যাচ। গ্রিক কাপেও হেরে বিদায় নিয়েছে ক্লাবটি।
তবে প্রতিটি ক্লাবের চলতি মৌসুমে এ পরিসংখ্যানের হিসেব খতিয়ে দেখার কারণ একটি। কোন অবস্থানে আছে বায়ার্ন মিউনিখ। ক্লাবটির চলতি মৌসুমে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পেছনে বড় অবদান রেখেছেন কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানি। দলটি সঙ্গে এটি ৪০ বর্ষী বেলজিয়ান কোচের তৃতীয় মৌসুম। ইতিমধ্যে দুটি বুন্দেসলিগা, দুটি জার্মান সুপার কাপ এবং একটি ডিএফবি পোকাল জিতেছেন তিনি।
এছাড়াও ক্লাবে রয়েছেন মাইকেল ওলিসে, হ্যারি কেন, লুইস দিয়াজ, ম্যানুয়েল নয়্যার, জশুয়া কিমিখের মতো খেলোয়াড়রা।
তবে ক্লাবটির এখন সবচেয়ে বড় বাধা তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বরুশিয়া ডর্টমুন্ড। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে একটি ম্যাচ হারলে, বুন্দেসলিগায় ডর্টমুন্ড আছে অপরাজিত। ঘরোয়া লিগে বায়ার্নের সাথে তাদের সমীকরণ একদন সমান। ৭ ম্যাচে ৫ জয়, ২ ড্র, নেই কোন হার।
লিগে শনিবার রাতে বাংলাদেশ সময় সাড়ে ১১টায় বায়ার্নের মাঠ আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় লড়বে দুদল। জার্মান ক্ল্যাসিকোটি যদি অন্তত ড্র না হয়, তাহলে লিগেই অপরাজিত তকমা ভেঙে যেতে পারে যেকোনো এক ক্লাবের। তবে বায়ার্নের জন্য যা আরও কঠিন। হারলে হাতছাড়া হয়ে যাবে ইউরোপজুড়ে অপরাজতি থাকার আধিপত্য।
আরও পড়ুন
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…



