পরিবহনবিশেষজ্ঞ ও বুয়েটের অধ্যাপক মো. হাদীউজ্জামানের মতে, ঢাকায় এত দিন যত বিনিয়োগ হয়েছে, তার প্রায় সবই যানবাহনের জন্য; পথচারীদের জন্য সেভাবে বিনিয়োগ হয়নি। অথচ এই শহরে প্রায় ৩০ শতাংশ মানুষ হেঁটেই কর্মস্থল বা প্রয়োজনীয় গন্তব্যে যান। তাঁর এই বক্তব্য আমাদের নগর উন্নয়নের এক মৌলিক সমস্যা সামনে আনে। উড়ালসড়ক, এক্সপ্রেসওয়ে বা নতুন সড়ক নির্মাণের চেয়ে নিরাপদ ফুটপাত, কার্যকর জেব্রা ক্রসিং, পর্যাপ্ত পদচারী–সেতু, সিগন্যালনির্ভর নিরাপদ পারাপার এবং প্রতিবন্ধীবান্ধব অবকাঠামো নিশ্চিত করা কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।
মোটরসাইকেলের ওপর অতিনির্ভরতার অন্যতম কারণ গণপরিবহনের দুরবস্থা। যখন বাসে ওঠা কষ্টকর, নির্দিষ্ট সময়ের নিশ্চয়তা নেই, যাত্রা অস্বস্তিকর এবং রুটব্যবস্থা বিশৃঙ্খল; তখন মানুষ বাধ্য হয়ে মোটরসাইকেলের দিকে ঝুঁকে পড়ে। ফলে নিরাপত্তাঝুঁকিও বাড়ে।
সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে শুধু আইন প্রয়োগ বা জরিমানা বাড়ানো যথেষ্ট নয়; গণপরিবহনকে নির্ভরযোগ্য, সময়নিষ্ঠ, নিরাপদ ও আরামদায়ক করে তুলতে হবে। রুট রেশনালাইজেশন, কোম্পানিভিত্তিক বাস পরিচালনা, চালকদের প্রশিক্ষণ ও কর্মঘণ্টার সুনির্দিষ্ট নীতিমালা এবং যাত্রীবান্ধব বাসব্যবস্থা গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। রাজধানীর ধীরগতির সড়কে দ্রুত মৃত্যুর মিছিল থামাতে হলে মানুষকেন্দ্রিক নগর পরিকল্পনা, পথচারীবান্ধব অবকাঠামো এবং আধুনিক, শৃঙ্খলাবদ্ধ গণপরিবহনব্যবস্থা গড়ে তোলার বিকল্প নেই।




