‘শেকড়’ শুধু সিনেমা নয়, নিজের ভেতরে ফেরার গল্প: প্রসূন রহমান | চ্যানেল আই অনলাইন

‘শেকড়’ শুধু সিনেমা নয়, নিজের ভেতরে ফেরার গল্প: প্রসূন রহমান | চ্যানেল আই অনলাইন

দেশ, পরিচয়, অভিবাসন আর শেকড়ে ফেরার গভীর মানবিক গল্প নিয়ে নির্মিত প্রসূন রহমানের নতুন চলচ্চিত্র ‘শেকড়’ (The Roots) শুক্রবার (৩১ জুলাই) দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে।

সিনেমাটির ভাবনা ও নির্মাণযাত্রার কথা তুলে ধরে এই নির্মাতা বলেন, ‘শেকড়’ শুধু একটি চলচ্চিত্র নয়, বরং নিজের জীবনের আয়নায় নিজেকে নতুন করে দেখার একটি সুযোগ।

প্রসূন রহমান জানান, তার চলচ্চিত্রে বরাবরই অভিবাসন, বাস্তুচ্যুতি, আত্মপরিচয়ের সংকট এবং মানুষের ঠিকানা খুঁজে ফেরার গল্প উঠে এসেছে। ‘সুতপার ঠিকানা’, ‘জন্মভূমি’ ও ‘ঢাকা ড্রিম’-এর ধারাবাহিকতায় এবার ‘শেকড়’-এ তিনি তুলে ধরেছেন আন্তর্জাতিক অভিবাসন এবং পরিচয়ের সংকটের গল্প।

‘শেকড়’ চলচ্চিত্রের একটি দৃশ্য

নির্মাতার ভাষায়, যারা শেকড় ছেড়ে দূরে চলে যান, তারা দেশকে কীভাবে দেখেন, কীভাবে অনুভব করেন এবং তাদের পরবর্তী প্রজন্মের কাছে সেই অনুভূতি কীভাবে পৌঁছে দিতে চান- সেই প্রশ্নগুলোকেই কেন্দ্র করে এগিয়েছে সিনেমার গল্প।

তিনি বলেন, প্রায় প্রতিটি পরিবারেরই কেউ না কেউ দেশের বাইরে থাকেন। ফলে অভিবাসনের অভিজ্ঞতা আমাদের সমাজের খুব পরিচিত বাস্তবতা। সেই বাস্তবতাকেই একজন প্রবাসীর চোখ দিয়ে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে ‘শেকড়’-এ। একই সঙ্গে সমকালীন বাংলাদেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বাস্তবতারও প্রতিফলন ঘটেছে চলচ্চিত্রে।

‘শেকড়’ চলচ্চিত্রের একটি দৃশ্য

গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে ১২ বছর পর দেশে ফেরা এক প্রবাসী বাবা এবং তার আট বছর বয়সী সন্তান। নির্মাতার মতে, যে শিশুর জন্ম ও বেড়ে ওঠা বিদেশে, তার চোখে বাংলাদেশের প্রথম অভিজ্ঞতা সম্পূর্ণ নতুন এক আবিষ্কার। দাদির স্নেহ, দেশের সংস্কৃতি, লালনের স্মৃতি কিংবা রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে পরিচয়- সবকিছুই তার কাছে বিস্ময়ের।

প্রসূন রহমান বলেন, প্রবাসীদের কাছে দেশ অনেক সময় নস্টালজিয়ার নাম। কিন্তু নতুন প্রজন্মের কাছে দেশ মানে একেবারে নতুন করে আবিষ্কার করার একটি জায়গা। সেই অনুভূতিকেই পর্দায় তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন তারা।

‘শেকড়’ চলচ্চিত্রের পোস্টার

চলচ্চিত্রটির নির্মাণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পুরো নির্মাণদল আন্তরিকভাবে কাজ করেছে, যাতে দর্শক প্রেক্ষাগৃহে বসেই মাটির সোঁদা গন্ধ, গ্রামের আবহ আর মায়ের আঁচলের উষ্ণতা অনুভব করতে পারেন। অভিনয়শিল্পীরাও নিজেদের চরিত্রের সঙ্গে গভীরভাবে একাত্ম হয়ে কাজ করেছেন।

নির্মাতার বিশ্বাস, ‘শেকড়’ সব বয়সী দর্শকের জন্য একটি পারিবারিক চলচ্চিত্র, যা শুধু বিনোদন দেবে না, বরং মানুষকে নিজের শেকড়, স্মৃতি ও পরিচয় নিয়ে নতুন করে ভাবতে উদ্বুদ্ধ করবে।

আগামী ৩১ জুলাই সারা দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে ‘শেকড়’। তবে দর্শকদের জন্য বিশেষ আয়োজনে স্টার সিনেপ্লেক্সে এক দিন আগেই, ৩০ জুলাই থেকে ছবিটির প্রদর্শনী শুরু হয়েছে।

‘শেকড়’ চলচ্চিত্রের একটি দৃশ্য

চলচ্চিত্রটিতে অভিনয় করেছেন দিলারা জামান, এফ এস নাইম, আইশা খান, সমু চৌধুরী, সঙ্গীতা চৌধুরী, নাফিস আহমেদ, নাইরুজ সিফাত, রওনক রিপন, মাহবুবুর রহমান, ফাতেমাতুজ জোহরা ইভাসহ আরও অনেকে। কাহিনি লিখেছেন সানাউল মোস্তফা, চিত্রনাট্য ও পরিচালনা করেছেন প্রসূন রহমান। প্রযোজনা করেছে ইমেশন ক্রিয়েটর।

বাংলাদেশে মুক্তির পর ২ আগস্ট কানাডার তিনটি শহরে ছবিটি মুক্তি পাবে। এরপর পর্যায়ক্রমে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, আয়ারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড এবং দক্ষিণ আমেরিকার কয়েকটি দেশেও প্রদর্শিত হবে ‘শেকড়’।