‘সত্যিই, সিনেমা বানানোর চেয়ে মুক্তি দেয়া বেশী কঠিন’ | চ্যানেল আই অনলাইন

‘সত্যিই, সিনেমা বানানোর চেয়ে মুক্তি দেয়া বেশী কঠিন’ | চ্যানেল আই অনলাইন

কোরবানির ঈদে মুক্তির কথা থাকলেও হল সংকটের কারণে শেষ পর্যন্ত পিছিয়ে যায় ‘দ্য ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল’। নানা অনিশ্চয়তা পেরিয়ে অবশেষে শুক্রবার (১২ জুন) দেশের দুটি মাল্টিপ্লেক্সে মুক্তি পেয়েছে রাজনৈতিক স্যাটায়ারধর্মী এই সিনেমা। তবে সিনেমাটির মুক্তির পেছনের গল্পটিও কম নাটকীয় নয়।

চ্যানেল আই অনলাইনের সঙ্গে আলাপকালে নির্মাতা আকাশ জানান, শুরুতে এই সিনেমা নিয়ে তাদের কোনো বড় প্রত্যাশাই ছিল না। শুধুমাত্র একটি গল্প বলার তাগিদ থেকেই কাজটি শুরু করেছিলেন।

আকাশ বলেন, “এই সিনেমাটা যখন বানাই, তখন কোনো প্রত্যাশা ছিল না। একটা গল্প নিয়ে আমরা শুটে নেমে যাই। শুটিং শেষ করে সম্পাদনার টেবিলে বসার পর মনে হলো, কিছু একটা হতে যাচ্ছে।”

সেই সময়ই চলছিল ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে চলচ্চিত্র জমা দেওয়ার কার্যক্রম। পুরোপুরি প্রস্তুত না হওয়া সত্ত্বেও সাহস করে সিনেমার রাফ কাট জমা দেন নির্মাতা। তাদের বিস্মিত করে উৎসব কর্তৃপক্ষের ইতিবাচক সাড়া।

নির্মাতা জানান, “তখনও ফাইনাল কাট করা হয়নি। রাফ কাটই পাঠিয়েছিলাম। তারা জানালেন সিনেমাটি তাদের ভালো লেগেছে এবং দ্রুত একটি সম্পূর্ণ সংস্করণ পাঠাতে বললেন। খুব অল্প সময়ের মধ্যে সাউন্ড ও কালারের কাজ ছাড়াই কোনোভাবে একটা ফাইনাল কাট দাঁড় করিয়ে পাঠাতে হয়েছিল।”

ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শনের পর দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা যেমন পেয়েছে সিনেমাটি, তেমনি অর্জন করেছে পুরস্কারও। এই স্বীকৃতিই নির্মাতা দলকে নতুন আত্মবিশ্বাস দেয়।

আকাশের ভাষায়, “মানুষ সিনেমাটা দেখলো, প্রশংসা করলো, আমরা পুরস্কারও পেলাম। তখন মনে হলো, সিনেমাটা আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া উচিত।”

নির্মাতা আকাশ হক

চলচ্চিত্র উৎসব পর্ব শেষ হওয়ার পর নতুন করে শুরু হয় সিনেমাটির টেকনিক্যাল উন্নয়নের কাজ। কালার গ্রেডিংয়ের দায়িত্ব নেন চিন্ময়, আর সাউন্ড ডিজাইনের কাজ করেন শৈব তালুকদার। নির্মাতার দাবি, সিনেমাটি দেখেই তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজ করতে আগ্রহী হন।

আকাশ বলেন, “উনারা সাধারণত বাইরের প্রজেক্টে খুব একটা কাজ করেন না। কিন্তু সিনেমাটা দেখে নিজেরাই কাজটি করতে আগ্রহী হন। কালার ও সাউন্ডের কাজ শেষ হওয়ার পর আমাদের মনে হয়েছে, এখন সিনেমাটা যে কাউকে দেখানো যেতে পারে।”

সিনেমাটি নিয়ে আত্মবিশ্বাস বাড়ার পরই মাল্টিপ্লেক্সে মুক্তির চিন্তা আসে তাদের মাথায়। যদিও প্রথম পরিকল্পনা ছিল কোরবানির ঈদেই মুক্তি দেওয়া। কিন্তু একই সময়ে একাধিক বড় বাজেটের সিনেমা মুক্তির সারিতে চলে আসায় হল বরাদ্দ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

এই অভিজ্ঞতা স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে নতুন এক বাস্তবতার মুখোমুখি করেছে আকাশকে। তার মতে, একটি সিনেমা নির্মাণের চেয়ে সেটি দর্শকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই অনেক বেশি কঠিন।

তিনি বলেন, “সিনেমা বুঝতে পারার পর দশ বছর শুধু টেকনিক্যাল বিষয়গুলো শেখার পেছনে দিয়েছি। ‘দ্য ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল’ বানাতে গিয়ে আমাকে কারও ওপর নির্ভর করতে হয়নি। কিন্তু মুক্তি দিতে এসে বুঝলাম, এটা সম্পূর্ণ অন্য একটা জগৎ।”

‘দ্য ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল’ প্রচারণা

তবে শেষ পর্যন্ত বড়পর্দায় নিজের নির্মিত প্রথম সিনেমাটি মুক্তি দিতে পারায় উচ্ছ্বসিত নির্মাতা। আকাশ জানান, স্টার সিনেপ্লেক্সে সিনেমাটি দুটি শো চলছে। সকালের শোতে স্বাভাবিকভাবেই খুব ভালো রেসপন্স পাওয়ার সুযোগ নেই, তবে বিকেলের শোটি নিয়ে এই মুহূর্তে আশাবাদী তিনি।

দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর হল সংস্কৃতি, ছাত্ররাজনীতি এবং সামাজিক-রাজনৈতিক বাস্তবতাকে ব্যঙ্গ ও হাস্যরসের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে ‘দ্য ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল’-এ। ১৪২ মিনিট দৈর্ঘ্যের সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন ববি বিশ্বাস, দেবদ্যুতি আইচ, রকি খান, চয়ন মণ্ডল, আবু সায়ীদ, ইফাদ হাসান ও এস এ জীবন। বিশেষ একটি চরিত্রে দেখা যাবে সাহিত্যিক ও কবি আক্তারুজ্জামান আজাদ-কে।