
ঢাকা, ২৪ সেপ্টেম্বর – সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ভয়াবহ প্রভাব মোকাবিলায় বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণ দ্রুত কমানো এবং জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন উপলক্ষে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের কনফারেন্স রুম-৪-এ আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি এই আহ্বান জানান।
২০৫০ সালের ঝুঁকি ও বাংলাদেশের বৃহৎ পরিকল্পনা
বিশ্বব্যাংকের হিসাব উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী সতর্ক করেন যে, ২০৫০ সালের মধ্যে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ২৫ সেন্টিমিটার বাড়লে বাংলাদেশের প্রায় ৪ শতাংশ ভূমি তলিয়ে যেতে পারে, যার ফলে প্রায় এক কোটি মানুষের জীবিকা ও বাসস্থান হুমকির মুখে পড়বে।
এই ঝুঁকি মোকাবিলায় বাংলাদেশ যে পরিকল্পনাগুলো গ্রহণ করেছে:
- ২৫ কোটি গাছ রোপণ: পরিবেশ সুরক্ষায় দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ।
- ২০,০০০ কিমি নদী ও খাল খনন: আগামী ৫ বছরে নদীপথ ও পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থার সংস্কার।
- তিস্তা ও পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প: তিস্তা ব্যারাজ আধুনিকায়ন ও পদ্মা ব্যারাজ উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়া।
- নবায়নযোগ্য জ্বালানি: ২০৩০ সালের মধ্যে অন্তত ২০% বিদ্যুৎ সবুজ ও সৌর উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা।
বৈশ্বিক সংকটে প্রধানমন্ত্রীর ৪ দফা জরুরি প্রস্তাবনা:
১. নিঃসরণ হ্রাস: বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধিকে ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখতে ন্যায়সংগত পদক্ষেপ।
২. সহজ অর্থায়ন: ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য অভিযোজন তহবিলের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা।
৩. প্রযুক্তি হস্তান্তর: জলবায়ু-স্মার্ট প্রযুক্তি, তথ্য ও আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থার প্রসার।
৪. মর্যাদাপূর্ণ পুনর্বাসন: জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর অধিকার ও জীবনযাপন সুরক্ষিত করা।
প্রধানমন্ত্রী বিশ্বনেতাদের উদ্দেশ্যে বলেন, “সমুদ্র দ্রুত উচ্চতর হচ্ছে। আমাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষাকেও তার চেয়ে দ্রুত এগিয়ে নিতে হবে। কোনো দেশকে যেন একা সমুদ্রের এই রূপের মুখোমুখি হতে না হয়।”
এনএন/ ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

