
🎧অডিও সংবাদএই খবরটি পডকাস্টে শুনুন
সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এ প্রযুক্তিনির্ভর জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতার সুস্পষ্ট সংজ্ঞা ও প্রতিকারের বিধান অন্তর্ভুক্ত করে আইনটি সংশোধনের আহ্বান জানিয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, সংসদ সদস্য, নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধি এবং জাতীয়-আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞরা।
বুধবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক নীতি সংলাপে তারা এই আহ্বান জানান।
সংলাপে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, আইনটি যুগোপযোগী করতে সরকার আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করেছে এবং সব অংশীজনের পরামর্শ ও মতামত না নিয়ে খসড়া আইনটি পাস করা হবে না।
তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে চাই, যেখানে সাইবার স্পেসে নারীরা নিরাপদে থাকবেন এবং সব নাগরিকের সুরক্ষা নিশ্চিত হবে।”
ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল (ডিআই)-এর অধিকাংশ সুপারিশের সঙ্গে একমত পোষণ করে তিনি সংলাপে উপস্থিত আইন ও আইসিটি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে সুপারিশগুলো নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান।
সংলাপে আলোচকরা বলেন, বিদ্যমান সাইবার নিরাপত্তা আইনে বিভিন্ন সাইবার অপরাধ ও সম্মতির সুস্পষ্ট সংজ্ঞা না থাকায় অপরাধ চিহ্নিত করা কঠিন। প্ল্যাটফর্মের অ্যালগরিদম টিএফজিবিভি কনটেন্ট আরও ছড়িয়ে দিলেও আইনে কনটেন্ট অপসারণ বা প্ল্যাটফর্মের জবাবদিহিতা নিয়ে কোনো সুস্পষ্ট বিধান নেই। তারা মানবাধিকার-কেন্দ্রিক জবাবদিহিতা কাঠামো গড়ে তোলা এবং ক্ষতিকর কনটেন্ট দ্রুত অপসারণের সুনির্দিষ্ট বিধান আইনে অন্তর্ভুক্তির আহ্বান জানান।
একই সঙ্গে, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অতীত অপব্যবহারের অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে মানহানি ও ভুল তথ্যসংক্রান্ত ধারা যেন ফের অপব্যবহৃত না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তারা। এ ছাড়া আইন সংশোধনের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও তদন্ত কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন আলোচকরা।
সংলাপে বক্তব্য দেন বিএনপির সংসদ সদস্য হেলেন জেরিন খান, নাদিয়া পাঠান পাপন, সুলতানা জেসমিন জুঁই, জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মারজিয়া বেগম, আইন ও বিচার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এস. এম. আরশাদুল আলম, সিআইডির সাইবার সিকিউরিটি সেন্টারের অতিরিক্ত ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল মো. জাহিদুল ইসলাম, আইসিটি বিভাগের ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি এজেন্সির পরিচালক (অপারেশন) মো. হোসাইন বিন আমিন, বিটিআরসির উপপরিচালক এসএম তাইফুর রহমান, ইউএনএফপিএ-র ন্যাশনাল প্রোগ্রাম অফিসার আবু সাঈদ সুমন, টেক গ্লোবাল ইনস্টিটিউটের কান্ট্রি হেড ফাওজিয়া আফরোজ, বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্টের (ব্লাস্ট) রিসার্চ অ্যাডভাইজার ব্যারিস্টার প্রিয়া আহসান চৌধুরী, ডিজিটালি রাইটের হেড অব রিসার্চ আব্দুল্লাহ তিতির, একাত্তর টিভির স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট শাহনাজ শারমীন, এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব হুমায়রা নূর ও আলাউদ্দিন মোহাম্মদ, ঢাকা এমএএফের সহ-সভাপতি সাইদুর রহমান মিন্টু এবং ঢাবি ছাত্রদলের শিক্ষার্থী বিষয়ক সম্পাদক চেমন ফারিয়া ইসলাম মেঘলা প্রমুখ।
ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের সিনিয়র ডিরেক্টর লিপিকা বিশ্বাসের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সংলাপে শুভেচ্ছা ও সমাপনী বক্তব্য দেন সংস্থাটির চিফ অব পার্টি আমিনুল এহসান। সুপারিশগুলো উপস্থাপন করেন ঢাকা এমএএফের প্রজেক্ট ইমপ্লিমেন্টেশন সেক্রেটারি আরাফাত বিল্লাহ খান ও সদস্য ইনজামুল হক রামীম।
সংলাপে তুলে ধরা মূল সুপারিশগুলো হলো: টিএফজিবিভি ও সম্মতির সুস্পষ্ট আইনি সংজ্ঞা নির্ধারণ; নতুন ধরনের ডিজিটাল সহিংসতা মোকাবিলায় সুনির্দিষ্ট বিধান সংযোজন; নিরাপদ ও সহজলভ্য অভিযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং ভুক্তভোগীর পরিচয়ের গোপনীয়তা নিশ্চিত করা; ক্ষতিকর কনটেন্ট দ্রুত অপসারণ ও ডিজিটাল প্রমাণ সংরক্ষণের কার্যকর ব্যবস্থা চালু করা; ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করা; এবং ক্ষতিপূরণসহ দ্রুত ও কার্যকর আইনি প্রতিকারের ব্যবস্থা করা।
ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের (ডিআই) উদ্যোগে ও ঢাকা মাল্টিপার্টি অ্যাডভোকেসি ফোরামের আয়োজনে যুক্তরাজ্যের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিসের (এফসিডিও) অর্থায়নে পরিচালিত বি-স্পেস প্রকল্পের আওতায় এই সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। সংলাপে সাইবার আইনের খসড়া পর্যালোচনা করে ডিআই ২৬টি সুপারিশ তুলে ধরে।
প্রতিবেদক
চ্যানেল আই অনলাইন
চ্যানেল আই অনলাইন
আরও পড়ুন
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…

