বাংলাদেশের বেসরকারি ব্যাংকিং খাতে উদ্যোক্তা-নির্ভর নেতৃত্বের যে ধারা নব্বইয়ের দশকে তৈরি হয়েছিল, তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নাম এম এ কাশেম। দীর্ঘ ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা, শিল্পোদ্যোগ, শিক্ষা খাতে পৃষ্ঠপোষকতা এবং বাণিজ্য সংগঠনের নেতৃত্বের মধ্য দিয়ে তিনি এমন এক ব্যবসায়ী ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন, যিনি একই সঙ্গে করপোরেট, শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়ন—এই তিনটি ক্ষেত্রেই প্রভাব রেখেছেন। সাউথইস্ট ব্যাংক পিএলসি.-এর পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে তার পুনর্নির্বাচন তাই কেবল একটি ব্যাংকের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়; এটি দেশের ব্যাংকিং খাতের একটি প্রতীকী বার্তাও বহন করে।
সাউথইস্ট ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও উদ্যোক্তা পরিচালক হিসেবে এম এ কাশেমের ভূমিকা দীর্ঘদিনের। নব্বইয়ের দশকে বাংলাদেশের বেসরকারি ব্যাংকিং খাত যখন সম্প্রসারণের পথে, তখন যে কয়েকজন উদ্যোক্তা শিল্প ও বাণিজ্যের বাস্তব অভিজ্ঞতাকে ব্যাংকিং ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করেছিলেন, এম এ কাশেম ছিলেন তাদের অন্যতম। ব্যাংকটিকে একটি করপোরেট-ভিত্তিক, রপ্তানিমুখী ও উদ্যোক্তাবান্ধব আর্থিক প্রতিষ্ঠানে রূপ দেওয়ার পেছনে তার দর্শনের প্রভাব ছিল স্পষ্ট। বিশেষ করে তৈরি পোশাক, আমদানি-রপ্তানি এবং এসএমই খাতে ব্যাংকের সক্রিয় উপস্থিতি সেই ধারাবাহিকতার অংশ।
তার ব্যবসায়িক পরিচয়ের কেন্দ্রে রয়েছে রপ্তানিমুখী শিল্পোন্নয়ন। আশির দশকে রপ্তানিতে অবদানের জন্য তিনি টানা দুই বছর ‘প্রেসিডেন্ট এক্সপোর্ট ট্রফি’ অর্জন করেন। এই অর্জন কেবল ব্যক্তিগত সম্মান নয়; বরং সেই সময়ের বাংলাদেশে উদীয়মান রপ্তানি অর্থনীতির একটি প্রতিফলন। দেশের অর্থনীতি যখন কৃষিনির্ভরতা থেকে শিল্প ও রপ্তানিমুখী কাঠামোর দিকে অগ্রসর হচ্ছিল, তখন এম এ কাশেমের মতো উদ্যোক্তারা আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান তৈরি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি হিসেবে তার সময়টিও গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের ব্যবসায়ী সমাজের সবচেয়ে বড় প্ল্যাটফর্মটির নেতৃত্ব দিয়ে তিনি বেসরকারি খাতের নীতিগত দাবি, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ এবং রপ্তানি সম্প্রসারণের পক্ষে কাজ করেন। বিশেষ করে বৈশ্বিক বাণিজ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের সংযোগ বাড়াতে বিদেশি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা তাকে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করেছে। ফার ইস্টার্ন দেশগুলোতে এফবিসিসিআই প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব, ইউএনডিপি স্পন্সরকৃত সরকারি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব কিংবা ইইসি দেশগুলোতে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর প্রতিনিধি হিসেবে অংশগ্রহণ—এসব অভিজ্ঞতা তাকে কেবল স্থানীয় শিল্পোদ্যোক্তা নয়, বরং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কূটনীতিরও অংশ করে তোলে।
তবে এম এ কাশেমের পরিচয় কেবল ব্যবসা বা ব্যাংকিংয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বাংলাদেশের বেসরকারি উচ্চশিক্ষা খাতের বিকাশেও তার অবদান বিশেষভাবে আলোচিত। নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং একাধিকবার চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে তিনি এমন এক সময়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখেন, যখন দেশে উচ্চশিক্ষার চাহিদা দ্রুত বাড়ছিল। নব্বইয়ের দশক ও দুই হাজারের দশকে বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত সমাজে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের যে বিস্তার ঘটে, তার পেছনে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির মতো প্রতিষ্ঠানের অগ্রণী ভূমিকা ছিল। এম এ কাশেম সেই রূপান্তরের অন্যতম উদ্যোক্তা।
একই সঙ্গে তিনি অ্যাসোসিয়েশন অব প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিজ অব বাংলাদেশের (এপিইউবি) চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ফলে শিক্ষা নীতি, বেসরকারি উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিকীকরণের প্রশ্নেও তার অবস্থান ছিল গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের ব্যবসায়ী সমাজে এমন উদ্যোক্তা তুলনামূলক কম, যাদের কার্যক্রম একই সঙ্গে শিল্প, ব্যাংকিং ও শিক্ষাক্ষেত্রে সমানভাবে বিস্তৃত।
সামাজিক উদ্যোগেও তার সক্রিয়তা উল্লেখযোগ্য। নিজ এলাকায় এম কাশেম ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠা, মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান এবং ‘তারেক মেমোরিয়াল হাসপাতাল’ প্রতিষ্ঠা তার সামাজিক দায়বদ্ধতার পরিচয় বহন করে। বাংলাদেশের অনেক শিল্পোদ্যোক্তা যেখানে করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতাকে কেবল আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেন, সেখানে এম এ কাশেমের উদ্যোগগুলো দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
তবে তার চেয়ারম্যান হিসেবে প্রত্যাবর্তনের গুরুত্ব বোঝার জন্য বর্তমান ব্যাংকিং বাস্তবতাও বিবেচনায় নিতে হবে। বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত এখন বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জের মুখে। খেলাপি ঋণ, তারল্য সংকট, করপোরেট গভর্ন্যান্সের দুর্বলতা, আমানতকারীদের আস্থার সংকট এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক মানদণ্ড পূরণের চাপ—সব মিলিয়ে ব্যাংক পরিচালনা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি জটিল। এই বাস্তবতায় উদ্যোক্তা-নেতৃত্বাধীন ব্যাংকগুলোর জন্য অভিজ্ঞতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বড় সম্পদ হয়ে উঠেছে।
এম এ কাশেমের দীর্ঘ ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা এবং করপোরেট নেটওয়ার্ক সাউথইস্ট ব্যাংকের জন্য ইতিবাচক দিক হতে পারে। বিশেষ করে ব্যাংকের করপোরেট গভর্ন্যান্স শক্তিশালী করা, শিল্প খাতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য অর্থায়নে নতুন গতি আনার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মের ডিজিটাল ব্যাংকিং, ফিনটেক প্রতিযোগিতা এবং গ্রাহকসেবার পরিবর্তিত চাহিদার সঙ্গে তাল মেলানোও ব্যাংকের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে।
বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে এখন শুধু মূলধন বা আমানতের প্রতিযোগিতা নয়; বরং আস্থা, সুশাসন ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার প্রতিযোগিতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এই পরিবর্তিত বাস্তবতায় এম এ কাশেমের নেতৃত্ব কতটা কার্যকর হয়, সেটি নির্ভর করবে তিনি ঐতিহ্যগত উদ্যোক্তা অভিজ্ঞতার সঙ্গে আধুনিক ব্যাংকিং সংস্কারকে কতটা সমন্বয় করতে পারেন তার ওপর।
এম এ কাশেমের পুনর্নির্বাচন একটি প্রজন্মের ব্যবসায়ী নেতৃত্বের প্রত্যাবর্তনের প্রতীক। বাংলাদেশের শিল্পায়ন, রপ্তানি, ব্যাংকিং ও বেসরকারি উচ্চশিক্ষার যে দীর্ঘ যাত্রা গত চার দশকে গড়ে উঠেছে, তার সঙ্গে তার নাম গভীরভাবে জড়িত। এখন দেখার বিষয়, অতীতের সেই অভিজ্ঞতা বর্তমানের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বাস্তবতায় যেভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে সুদের হার বৃদ্ধি, ডলারের চাপ, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকট এবং আমদানি ব্যয়ের অস্থিরতা বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোর ওপর প্রভাব ফেলছে তাতে যে ব্যাংকগুলো শিল্প ও রপ্তানি খাতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত, তাদের জন্য ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক লেনদেন সক্ষমতা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এম এ কাশেমের দীর্ঘ রপ্তানি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য অভিজ্ঞতা এই জায়গায় সাউথইস্ট ব্যাংকের জন্য একটি কৌশলগত সুবিধা তৈরি করতে পারে।
বিশেষ করে বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই উত্তরণ-পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে শুল্ক সুবিধা কমে আসবে, প্রতিযোগিতা বাড়বে এবং ব্যাংকগুলোকেও আরও উন্নত আর্থিক সেবা দিতে হবে। ট্রেড ফাইন্যান্স, বৈদেশিক বিনিয়োগ সহায়তা, রপ্তানি অর্থায়ন এবং করপোরেট ব্যাংকিংয়ে দক্ষতা বাড়ানো ছাড়া সামনে টিকে থাকা কঠিন হবে। এম এ কাশেমের মতো একজন শিল্পোদ্যোক্তার নেতৃত্ব ব্যাংকটিকে বাস্তব অর্থনীতির চাহিদার সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে সংযুক্ত করতে পারে।
একই সঙ্গে তার নেতৃত্বে মানবসম্পদ উন্নয়ন ও করপোরেট সংস্কৃতিতেও পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারে শিক্ষা খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ততা একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিজ্ঞতা তাকে দক্ষ জনশক্তি তৈরির গুরুত্ব সম্পর্কে আলাদা অবস্থান দিয়েছে। আধুনিক ব্যাংকিং এখন শুধু অর্থ ব্যবস্থাপনা নয়; বরং তথ্যপ্রযুক্তি, ডেটা অ্যানালিটিক্স, সাইবার নিরাপত্তা এবং গ্রাহক আচরণ বিশ্লেষণের ওপরও নির্ভরশীল। ফলে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনবল তৈরির বিষয়টি আগামী দিনের ব্যাংক পরিচালনায় বড় নিয়ামক হয়ে উঠবে।
এম এ কাশেমের ব্যক্তিগত অর্জন, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা এবং দীর্ঘ সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা নিঃসন্দেহে সাউথইস্ট ব্যাংকের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করে। তবে একই সঙ্গে বাস্তবতা হলো, বর্তমান ব্যাংকিং খাতে নেতৃত্বের সফলতা কেবল ব্যক্তিগত সুনামের ওপর নির্ভর করে না; বরং সুশাসন, স্বচ্ছতা এবং সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতার ওপরও নির্ভরশীল। সেই পরীক্ষাতেই এখন নতুন করে মুখোমুখি হচ্ছেন এম এ কাশেম।
চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর বিভিন্ন সময়ে এম এ কাশেম যে ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন, তা থেকে তার নেতৃত্বের দর্শনও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তিনি বরাবরই বলে এসেছেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল শক্তি হচ্ছে উদ্যোক্তা শ্রেণি, রপ্তানি সক্ষমতা এবং তরুণ জনগোষ্ঠী। তার ভাষায়, “ব্যাংক শুধু মুনাফার প্রতিষ্ঠান নয়, এটি দেশের শিল্প ও বাণিজ্যের চালিকাশক্তি।” এই দৃষ্টিভঙ্গিই সাউথইস্ট ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাকালীন দর্শনের সঙ্গে সম্পর্কিত, যেখানে শিল্পোদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের জন্য একটি আধুনিক আর্থিক প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার লক্ষ্য ছিল।
বেসরকারি খাতের বিকাশ নিয়ে তিনি একাধিকবার বলেছেন, “সরকার একা অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে পারে না; শক্তিশালী বেসরকারি খাত ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।” এফবিসিসিআইয়ের নেতৃত্বে থাকার সময়ও তিনি নীতিনির্ধারণে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং বিনিয়োগে আস্থার প্রশ্নকে গুরুত্ব দিয়েছিলেন। তার মতে, বাংলাদেশের অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে দক্ষ মানবসম্পদ, প্রযুক্তিনির্ভর সেবা এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার সক্ষমতার ওপর।
শিক্ষা খাত নিয়ে তার অবস্থানও স্পষ্ট। নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সঙ্গে সম্পৃক্ততার সময় তিনি প্রায়ই বলতেন, “উচ্চশিক্ষা কেবল ডিগ্রি অর্জনের বিষয় নয়, এটি জাতির প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা তৈরির মাধ্যম।” বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিকাশকে তিনি দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে দেখতেন। তার বিশ্বাস ছিল, বিশ্বমানের শিক্ষা ছাড়া বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের অর্থনীতি থেকে উন্নত অর্থনীতির পথে অগ্রসর হতে পারবে না।
সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রশ্নেও তার বক্তব্য ছিল উল্লেখযোগ্য। এম কাশেম ট্রাস্টের কার্যক্রম নিয়ে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেছিলেন, “সমাজ আমাকে যে অবস্থানে নিয়ে এসেছে, সেই সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে কাজ করার চেষ্টা করছি।” এই বক্তব্য তার ব্যবসায়িক সাফল্যের পাশাপাশি সামাজিক বিনিয়োগের দর্শনকেও প্রতিফলিত করে।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে সাউথইস্ট ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে তার সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে এই দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও দর্শনকে বাস্তব ব্যাংকিং সংস্কারে রূপ দেওয়া। কারণ আজকের ব্যাংকিং খাত শুধু ঐতিহ্য বা ব্যক্তিগত সুনামের ওপর নির্ভর করে না; বরং দক্ষ ব্যবস্থাপনা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং আস্থাভিত্তিক সুশাসনের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। এম এ কাশেমের নতুন নেতৃত্ব সেই ভারসাম্য কতটা তৈরি করতে পারে, এখন সেটিই হবে পর্যবেক্ষণের প্রধান বিষয়।






