সিলেটে জমকালো আয়োজনে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ উদ্বোধন, তারুণ্যের স্বপ্নে নতুন দিগন্ত – DesheBideshe

সিলেটে জমকালো আয়োজনে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ উদ্বোধন, তারুণ্যের স্বপ্নে নতুন দিগন্ত – DesheBideshe


সিলেটে জমকালো আয়োজনে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ উদ্বোধন, তারুণ্যের স্বপ্নে নতুন দিগন্ত – DesheBideshe

সিলেট, ০২ মে – সাধারণ দিনের নিরিবিলি পরিবেশ যেন আজ সম্পূর্ণ বদলে গেছে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে। সুনসান নীরবতার জায়গায় ভর করেছে উৎসবমুখর আবহ। কানায় কানায় পূর্ণ গ্যালারি, মাঠজুড়ে খুদে ক্রীড়াবিদদের প্রাণবন্ত পরিবেশনা, নিরাপত্তা বাহিনীর কড়া নজরদারি এবং সংবাদকর্মীদের ব্যস্ত উপস্থিতি—সব মিলিয়ে এক বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করল ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’।

বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে স্টেডিয়ামে উপস্থিত হন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরে বিকেল ৫টা ৮ মিনিটে তিনি এই প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন জেলা স্টেডিয়ামেও ভার্চুয়ালি যুক্ত হয় খুদে ক্রীড়াবিদরা, যা পুরো আয়োজনকে দেয় একটি জাতীয় মাত্রা।

শিশু-কিশোরদের প্রতিভা বিকাশের লক্ষ্যে ‘নতুন কুঁড়ি’র যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৭৬ সালে। বাংলাদেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় এই প্ল্যাটফর্ম থেকে আশির দশকে উঠে এসেছিল বহু প্রতিভাবান শিল্পী। দীর্ঘ বিরতির পর সেই পরিচিত নাম এবার নতুন রূপে ফিরে এসেছে—মঞ্চ ছেড়ে এবার ক্রীড়াঙ্গনে, সবুজ মাঠকে কেন্দ্র করে শুরু হলো নতুন এক সম্ভাবনার গল্প।

আগামীর ক্রীড়াতারকা খুঁজে বের করতে দেশের বিভিন্ন বিভাগ থেকে অংশ নিয়েছেন ৩২ জন খ্যাতনামা খেলোয়াড়। ক্রিকেট, ফুটবল, কাবাডিসহ বিভিন্ন খেলার প্রতিনিধিত্বকারী এই তারকারা ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে যুক্ত হয়ে তরুণদের অনুপ্রাণিত করছেন।

সরকারের পক্ষ থেকে ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠার যে অঙ্গীকার দেওয়া হয়েছিল, এই আয়োজনকে তারই বাস্তব প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে দেশসেরা ক্রীড়াবিদদের মাঝে ক্রীড়া কার্ড বিতরণ এবং ক্রীড়াভাতা চালুর মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা খেলোয়াড়দের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক হচ্ছে।

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক গণমাধ্যমকে জানান, সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনায় ক্রীড়া একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী এই খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

উদ্বোধনী ভেন্যু হিসেবে ঢাকার পরিবর্তে সিলেটকে বেছে নেওয়ার পেছনে রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনা। প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের উন্নয়ন ও সুযোগ-সুবিধা রাজধানীর বাইরে ছড়িয়ে দিতে এবং প্রান্তিক পর্যায়ে ক্রীড়াকে উৎসাহিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের নিয়ে মোট ৮টি ইভেন্টে অনুষ্ঠিত হবে এই প্রতিযোগিতা। উপজেলা পর্যায় থেকে শুরু হয়ে ধাপে ধাপে জেলা, বিভাগীয় এবং জাতীয় পর্যায়ে গড়াবে প্রতিযোগিতা। আগামী ১৩ থেকে ২২ মে’র মধ্যে শেষ হবে আঞ্চলিক পর্ব।

পুরো দেশকে ১০টি অঞ্চলে ভাগ করে প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হচ্ছে। অঞ্চলগুলো হলো—ঢাকা, ফরিদপুর, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, রংপুর, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ। প্রতিটি অঞ্চলে গঠিত হয়েছে শক্তিশালী প্রশাসনিক ও বাস্তবায়ন কমিটি, যাতে প্রতিভা নির্বাচনে কোনো ধরনের পক্ষপাত বা ত্রুটি না থাকে।

খেলার ধরন অনুযায়ী প্রতিযোগিতার পদ্ধতিতেও রয়েছে বৈচিত্র্য। ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি ও ব্যাডমিন্টনে নকআউট পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে। দাবায় থাকবে আন্তর্জাতিক মানের সুইস লিগ পদ্ধতি। অন্যদিকে অ্যাথলেটিক্স, সাঁতার ও মার্শাল আর্টে বাছাই পর্বের পর ফাইনাল রাউন্ডের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে চূড়ান্ত ফলাফল। একজন প্রতিযোগী সর্বোচ্চ দুটি খেলায় অংশ নিতে পারবে।

অল্প সময়ের মধ্যেই এই আয়োজন পেয়েছে ব্যাপক সাড়া। গত ১২ থেকে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছেন মোট ১ লাখ ৬৭ হাজার ৬৯৩ জন প্রতিযোগী। এর মধ্যে ছেলে ১ লাখ ২০ হাজার ৯৪৯ জন এবং মেয়ে ৪৬ হাজার ৭৪৪ জন। অঞ্চলভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, ঢাকা অঞ্চল থেকে সবচেয়ে বেশি ২৫ হাজার ৩৮৭ জন এবং ময়মনসিংহ অঞ্চল থেকে সবচেয়ে কম ৭ হাজার ৯৬৬ জন নিবন্ধন করেছেন।

সবমিলিয়ে, ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কেবল একটি প্রতিযোগিতা নয়—এটি দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচনের একটি বৃহৎ উদ্যোগ। প্রান্তিক পর্যায় থেকে প্রতিভা খুঁজে এনে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রতিষ্ঠিত করার যে স্বপ্ন, তারই বাস্তব রূপ দেখতে শুরু করেছে বাংলাদেশ।

এনএন/ ০২ মে ২০২৬