সোলারে স্বস্তি কৃষকের | বাংলাদেশ

সোলারে স্বস্তি কৃষকের | বাংলাদেশ

<![CDATA[

করোনাভাইরাস সংক্রমণের পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধসহ নানা বৈশ্বিক সংকটে দেশে ডলার সংকটের সৃষ্টি হয়। এতে কৃষি উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ডিজেলের দাম দফায় দফায় বেড়ে যায়। এ অবস্থায় কৃষিখাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তবে প্রযুক্তির ব্যবহারে ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষকরা সমস্যা কাটিয়ে উঠছেন।

প্রযুক্তিগত উন্নয়নের সুবিধা নিয়ে জেলার প্রান্তিক কৃষকরাও সোলার প্যানেল ব্যবহার করে চলতি বোরো মৌসুমে একরের পর একর জমিতে সেচ দিচ্ছেন। এতে খরচ কমেছে, একইভাবে কম কার্বন নিঃসরণ হওয়ায় রক্ষা পাচ্ছে পরিবেশ।

জেলা কৃষি সস্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে ঠাকুরগাঁওয়ে ৬০ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত না হলে এই আবাদ থেকে দুই লাখ ৬৮ হাজার মেট্রিক টন ধান উৎপাদন হবে। 

আরও পড়ুন : দেড় দশকে বদলে গেছে রংপুরের কৃষি 

স্থানীয় কৃষকরা জানান, মৌসুমের শুরুতে ডিজেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় তারা ধান চাষ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। বাড়তি খরচে বোরোর জমিতে সেচ কীভাবে দেবেন তা নিয়ে বেশ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন তারা। তবে সোলার প্যানেল তাদের দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি দিয়েছে।  

 

No description available.
সেচে টাকা সাশ্রয় হওয়ার ফসলের বাড়তি পরিচর্যা করার সুযোগ পেয়েছেন কৃষকরা। ছবি: সময় সংবাদ

কৃষক ফজলুল হক বলেন, ‘শ্যালো বা বরেন্দ্র ডিপ টিউবঅয়েলের মাধ্যমে জমিতে সেচ নিতে গেলে নানা ভোগান্তি পোহাতে হতো। এরসঙ্গে ডিজেলের দাম বাড়া বড় ধরনের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু সব সমস্যার সমাধান করে দেয় সোলার প্যানেল। এখন সেচ নিয়ে কোনো ভাবনা নেই।’

জহিরুল ইসলাম নামে আরেক কৃষক বলেন, ‘এক বিঘা জমিতে শ্যালো মেশিনে সেচ নিতে চার থেকে সাড়ে চার হাজার টাকা খরচ হতো। কিন্তু সোলারে সেই একই পরিমাণ জমিতে সেচ দিতে খরচ হচ্ছে তিন হাজার টাকা। এতে বাড়তি খরচের বদলে উল্টো সাশ্রয় হচ্ছে।’

আরও পড়ুন : ‘কালো সোনা’য় দিন বদলের স্বপ্ন, বিঘাপ্রতি লাভ ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা

সেচের টাকা সাশ্রয় হওয়ার ফসলের বাড়তি যত্ন নেয়া সম্ভব হচ্ছে বলে জানান কৃষক জয়নাল আবেদীন। তিনি বলেন, সেচ নিয়ে যেহেতু চিন্তা করতে হচ্ছে না বরং টাকা সাশ্রয় হচ্ছে; সেই টাকায় এখন সার, কীটনাশক প্রয়োগের পাশাপাশি ধানের বাড়তি পরিচর্যা করা সম্ভব হচ্ছে।

 

No description available.
সেচে সোলারের ব্যবহার ডিজেলের দাম বৃদ্ধির নেতিবাচক প্রভাব থেকে কৃষিখাতকে দূরে রাখবে মনে করছেন কৃষকরা। ছবি: সময় সংবাদ

ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘একটি সোলার পাম্প দিয়ে ২৫-৩০ বিঘা জমিতে মৌসুমভর সেচ দেয়া সম্ভব। কিন্তু পাম্প বসানোর সময় করা খরচ ছাড়া এ পদ্ধতিতে সেচ দিতে তেমন খরচ নেই বললেই চলে। ফলে কৃষকদের লাভবান হওয়ার সুযোগ রয়েছে।’
 

তিনি আরও বলেন, জেলায় বর্তমানে ১০৭টি সোলার প্যানেল পাম্প রয়েছে। এসব পাম্পের মাধ্যমে চার হাজার বিঘা জমিতে সেচের সুবিধা পাচ্ছেন কৃষকরা। পরিবেশ রক্ষায় অবদান রাখা এবং খরচ কমানোর মাধ্যমে লাভজনক চাষাবাদে সোলার প্যানেল প্রযুক্তি ব্যবহার করতে কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

 

 

 

]]>