দেশের টেলিযোগাযোগ খাতে নতুন যুগের সূচনা করতে স্যাটেলাইট-টু-মোবাইল সেবা চালুর ঘোষণা দিয়েছে বাংলালিংক। এ লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটি অংশীদারিত্ব করেছে স্টারলিংক মোবাইলের সঙ্গে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) বাংলালিংক জানায়, ‘পিপল ফার্স্ট’ দর্শনের অংশ হিসেবে তারা তাদের নেটওয়ার্কে স্টারলিংকের উন্নত স্যাটেলাইট প্রযুক্তি যুক্ত করছে। এর মাধ্যমে দেশের দুর্গম ও নেটওয়ার্ক-বঞ্চিত এলাকাগুলোতেও নিরবচ্ছিন্ন মোবাইল সংযোগ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
এই স্যাটেলাইটভিত্তিক সেবার মাধ্যমে ডাটা, ভয়েস, ভিডিও ও মেসেজিং সুবিধা পাওয়া যাবে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্ক দুর্বল বা নেই—সেসব ‘ডেড জোন’-এও সংযোগ পাওয়া যাবে। আকাশ দৃশ্যমান থাকলেই ব্যবহারকারীরা টেক্সট মেসেজ পাঠানোসহ প্রয়োজনীয় ডিজিটাল সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। প্রাথমিকভাবে এসএমএস ও ওটিটি মেসেজিং সেবা চালু হবে, পরবর্তীতে ধাপে ধাপে ভয়েস ও ডাটা সেবা যুক্ত করা হবে।
বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চল, চরাঞ্চল, উপকূলীয় দ্বীপ এবং অফশোর এলাকাগুলোতে প্রচলিত টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো স্থাপন অনেক সময়ই কঠিন হয়ে পড়ে। নতুন এই উদ্যোগের ফলে এসব এলাকায়ও নির্ভরযোগ্য যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় জরুরি যোগাযোগ সচল রাখতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বাংলালিংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়োহান বুসে বলেন, সংযোগ মানে শুধু প্রযুক্তি নয়, সংযোগ মানে মানুষের প্রয়োজনে তাদের পাশে থাকা। অনন্য ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের কারণে বাংলাদেশের এখনো কিছু এলাকা প্রচলিত নেটওয়ার্কের বাইরে রয়ে গেছে। স্টারলিংকের স্যাটেলাইটভিত্তিক কাভারেজের মাধ্যমে সেই সীমাবদ্ধতা কমিয়ে দেশের সবচেয়ে দূরবর্তী এলাকাতেও সংযোগ পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।
স্টারলিংক মোবাইলের ভাইস প্রেসিডেন্ট (সেলস) স্টেফানি বেডনারেক বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলের লাখো মানুষ সংযুক্ত থাকতে পারবেন। ভিয়নের সঙ্গে অংশীদারিত্বে তৃতীয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশে এই সেবা চালু হচ্ছে, যা সবার জন্য প্রয়োজনীয় যোগাযোগসেবা নিশ্চিত করতে আমাদের দুই প্রতিষ্ঠানের যৌথ অঙ্গীকারকেই প্রতিফলিত করে। ভিয়নের সেবা চালু রয়েছে—এমন দেশগুলোতে স্যাটেলাইটভিত্তিক মোবাইল সংযোগ আরও বিস্তৃত করতে ভিয়ন ও স্টারলিংকের যৌথ উদ্যোগেরই অংশ এটি।
ইউক্রেন ও কাজাখস্তানে সফল বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ হবে ভিয়নের তৃতীয় অপারেটর, যেখানে এই প্রযুক্তি চালু হচ্ছে। ডিজিটাল এই যুগে কেউ যাতে পিছিয়ে না থাকে, এ উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলালিংকের সেই প্রচেষ্টা আরও জোরালো হবে।






