যারা গাড়ির মাধ্যমে চলাফেরা করেন, তাদের মধ্যে অধিকাংশই নিজে গাড়ি চালাতে পারেন না। অনেক সময় গাড়ি চালানোর জন্য আলাদা একজন লোক রাখা হয়। অফিস, আদালত এবং অন্যান্য কাজে ব্যস্ত থাকার কারণে অনেকেরই ড্রাইভিং শেখার সুযোগ হয় না। আর যারা গাড়ি চালাতে পারেন, তাদের নানা সময়ে যাত্রীরা বিভিন্ন কথা বলে থাকেন। কিন্তু যদি এমন হয় যে গাড়িতে কোনো ড্রাইভার না থাকে, তখন কেমন হবে? এটা শুনতে অনেকের কাছে স্বপ্নের মতো মনে হতে পারে, কিন্তু এটি বাস্তব।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানে এমন গাড়ির ব্যবহার দেখা যাচ্ছে। এই গাড়িগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে চলাচল করে। এতে বিভিন্ন ধরনের সেন্সর, ক্যামেরা এবং রাডার সিস্টেম থাকে, যা রাস্তার চারপাশের পরিবেশ অত্যন্ত নিখুঁতভাবে বিশ্লেষণ করে নিরাপদে চলাচল নিশ্চিত করে। যারা গাড়ি চালাতে পারেন না, তাদের জন্য এটি স্বপ্নের মতো সুবিধা। গাড়িটি নিজের মতো চলতে থাকে এবং যাত্রীদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দেয়।
এ ধরনের গাড়িতে মানচিত্র এবং উপগ্রহ অবস্থান ব্যবস্থার মাধ্যমে সঠিক পথ নির্ধারণ করা হয়। রাস্তার ট্রাফিক, লেন, অন্যান্য যানবাহন এবং পথচারী চিহ্নিত করতে ক্যামেরা এবং সেন্সরের সাহায্য নেওয়া হয়। দূরত্ব মাপার জন্য লাইটের সাহায্যে এবং গাড়ির চারপাশে অ্যালট্রাসনিক সেন্সরের মাধ্যমে পার্কিং ও অন্যান্য বাধা শনাক্ত করা হয়। এরপর উন্নত সফটওয়্যারের মাধ্যমে গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণ, ব্রেক এবং স্টিয়ারিং নিয়ন্ত্রণ করা হয়। রাস্তার আইন মেনে চলা এবং বাধা এড়িয়ে চলার জন্য বিশেষ অ্যালগরিদম ব্যবহার করা হয়।
২০১১-২০১২ সালের দিকে কিছু নির্বাচিত শহরে এই গাড়ির ব্যবহার শুরু হয়। স্বচালিত গাড়ির প্রধান সুবিধা হলো যাত্রীদের ড্রাইভিংয়ে কোনো ঝামেলা নেই। যাত্রীরা চাইলে ঘুমাতে পারেন, পড়াশোনা করতে পারেন বা স্বাচ্ছন্দ্যে বিশ্রাম নিতে পারেন। দীর্ঘ দূরত্বের যাত্রায় ক্লান্তি কমে এবং যাত্রীরা নিরাপদে পৌঁছান।
এ ধরনের গাড়ি প্রতিবন্ধীদের জন্যও নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করে। তবে কিছু ঝুঁকিও রয়েছে। হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে গাড়ির নিয়ন্ত্রণ নেওয়া যেতে পারে, যা দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। সফটওয়্যারে কোনো ত্রুটি হলে মৃত্যুর ঝুঁকি বেড়ে যায়। সাধারণ গাড়ির ড্রাইভার পরিস্থিতি বুঝে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে পারেন, কিন্তু স্বচালিত গাড়ির ক্ষেত্রে সফটওয়্যারের ত্রুটি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন।
জাপান, চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দেশগুলো এই গাড়িগুলোর নিরাপত্তা এবং শক্তি বৃদ্ধির জন্য গবেষণা চালাচ্ছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রযুক্তি আরও উন্নত হবে এবং এসব গাড়ি বিশ্বব্যাপী নিরাপদ ও শক্তিশালী হয়ে ছড়িয়ে পড়বে।




