হত্যা চেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার শিরীন শারমিন, আদালতে তোলার প্রস্তুতি | চ্যানেল আই অনলাইন

হত্যা চেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার শিরীন শারমিন, আদালতে তোলার প্রস্তুতি | চ্যানেল আই অনলাইন

জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় রাজধানীর লালবাগে হত্যাচেষ্টা ও ভাঙচুরের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে তাকে আদালতে নিয়ে যাওয়া হবে।

ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করে সাংবাদিকদের বলেন, ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে ডিএমপির লালবাগ থানার বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় হত্যাচেষ্টা ও ভাঙচুরের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

এই মামলার বাদী মো. আশরাফুল। মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরও রয়েছেন। শিরীন শারমিন চৌধুরী এই মামলার ৩ নম্বর আসামি।

ডিবিপ্রধান বলেন, শিরিন শারমিনের বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি মামলা রয়েছে। মামলাগুলো তদন্ত চলছে।

১৭ মাস কোথায় ছিলেন সাবেক স্পিকার

৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তাকে প্রকাশ্যে আর দেখা যায়নি। তাই রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সাধারণ মানুষের মধ্যেও তার অবস্থান নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়।

স্পিকারের দেখভালের দায়িত্বে থাকা তৎকালীন সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা গণমাধ্যমকে জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বেলা দেড়টার দিকে সংসদ ভবন এলাকার সরকারি বাসভবন থেকে বের হন সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। সপরিবারে একটি সাধারণ প্রাইভেট কারে করে তড়িঘড়ি বের হন তিনি। এ সময় স্পিকারের জন্য বরাদ্দ গাড়ি ও সংসদ সচিবালয়ের পরিবহন পুল থেকে পাঠানো গাড়িও ব্যবহার করেননি। তবে সংসদ ভবন থেকে বেরিয়ে তিনি কোথায় গেছেন তা বলতে পারেননি তারা।

একাধিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে কথা বলেও স্পিকারের অবস্থান সম্পর্কে এতদিন কিছুই জানা যায়নি। তাই প্রশ্ন উঠেছিল, তিনি কি দেশে নাকি বিদেশে চলে গেছেন।

তবে ডিবির একটি সূত্র জানিয়েছে, শিরীন শারমিন এতদিন বিভিন্ন জায়গায় আত্মগোপনে ছিলেন। সর্বশেষ তিনি ধানমন্ডিতে এক আত্মীয়ের বাসায় ছিলেন।

আজ মঙ্গলবার দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডির ৮/এ রোডের ওই বাসা থেকেই তাকে আটক করা হয়। বর্তমানে তিনি ডিবি হেফাজতে রয়েছেন। আটক হওয়া বাসা তার নিজের বলা হলেও স্বজনদের দাবি এটি তার আত্মীয়ের বাসা।

প্রশ্ন উঠেছে তাহলে কি তিনি এতদিন এখানেই ছিলেন।

২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর স্পিকার হন আবদুল হামিদ। ২০১৩ সালে তাকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করা হলে স্পিকার নির্বাচিত হন শিরীন শারমিন। এর পর টানা এ দায়িত্বে ছিলেন তিনি। শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর ২৭ দিনের মাথায় ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর পদত্যাগ করেন সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন। সে পদত্যাপত্র কোথা থেকে এসেছে সেটি নিয়েও সে সময় প্রশ্ন উঠেছিল।

আটকের বিষয়ে যা জানালো ডিএমপি

জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ড.শিরীন শারমিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তারের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে ডিএমপির মিডিয়া বিভাগ।

মিডিয়া বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) এম এন নাসিরউদ্দীন সাংবাদিকদের জানান, আজ মঙ্গলবার ভোর ৪টায় ধানমন্ডির একটি বাসা থেকে আটকের পর ভোর ৫টায় তাকে ডিবি কার্যালয়ে আনা হয়।

তিনি বলেন, ‘‘বর্তমানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আমরা যতদূর জানতে পেরেছি তার বিরুদ্ধে রাজধানীর বনানী ও উত্তরা থানায় জুলাই সংক্রান্ত ঘটনার মামলা রয়েছে। এছাড়া রংপুরেও তার বিরুদ্ধে মামলা আছে।’’

এন এম নাসিরুদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, শিরিন শারমিনকে ডিবিতে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।