
তেহরান, ৮ এপ্রিল – তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তির আবহে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল এবং রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলো নতুন কিছু দাবি উত্থাপন করেছে। এসব দাবি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌবাহিনীর ভবিষ্যৎ উপস্থিতিকে বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দিয়েছে। ইরানের প্রধান দুটি দাবির মধ্যে রয়েছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর টোল বা শুল্ক আরোপ এবং এই অঞ্চল থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার।
বর্তমানে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে যে এই টোল শুধু বাণিজ্যিক জাহাজের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে নাকি যুদ্ধজাহাজগুলোও এর আওতায় পড়বে। মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর বাহরাইনে অবস্থিত যা ভৌগোলিক দিক থেকে পারস্য উপসাগরের অভ্যন্তরে। এই নৌবহর পারস্য উপসাগর, ওমান উপসাগর, লোহিত সাগর এবং ভারত মহাসাগরের একাংশসহ প্রায় পঁচিশ লাখ বর্গমাইল জলসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করে থাকে। হরমুজ প্রণালি ছাড়াও সুয়েজ খাল এবং বাব আল মান্দাবের মতো গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথগুলোর ওপর এই বহরটি নজরদারি চালায়।
ইরান যদি সত্যি এই জলপথে শুল্ক আদায় শুরু করে তবে তা পারস্য উপসাগরে মার্কিন সামরিক প্রবেশের ক্ষেত্রে সরাসরি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দেবে। সিঙ্গাপুরের এস রাজারত্নম স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের গবেষক কলিন কোহ মনে করেন এই শুল্কব্যবস্থা কার্যকর হলে তা মার্কিন সামরিক উপস্থিতির ভিত্তিমূলেই আঘাত হানবে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন যদি মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সামরিক বিন্যাসে ব্যাপক কোনো পরিবর্তন না আনে তবে ইরানের এই টোলব্যবস্থা মেনে নিয়ে পঞ্চম নৌবহরের কার্যক্রম অব্যাহত রাখা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে।
এস এম/ ৮ এপ্রিল ২০২৬






