হাঁড়ি ফাটিয়ে’র শতক সন্ধ্যা বর্ণিল আয়োজন | চ্যানেল আই অনলাইন

হাঁড়ি ফাটিয়ে’র শতক সন্ধ্যা বর্ণিল আয়োজন | চ্যানেল আই অনলাইন

এথিকের বহুল আলোচিত দর্শকনন্দিত মঞ্চ নাটক উৎপল দত্তের ‘হাঁড়ি ফাটিয়ে’র শততম মঞ্চায়ন উপলক্ষে শনিবার সন্ধ্যা ৭টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে আয়োজিত হলো ‘হাঁড়ি ফাটিয়ে শতক সন্ধ্যা’ উৎসব।

উৎসব উপলক্ষে শিল্পকলার পরীক্ষণ হলটি সেজেছিল বর্ণিল সাজে। উৎসবে গানের আসর, নাটকের আলোকচিত্র প্রদর্শনীর পাশাপাশি হলভর্তি দর্শকদের সামনে মঞ্চায়িত হলো ‘হাঁড়ি ফাটিয়ে’র শততম প্রদর্শনী।

প্রদর্শনীতে উপস্থিত ছিলেন বরেণ্য নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার ও আবুল হায়াত। নাটক শেষে তারা নাটকটির ভূয়সী প্রশংসা করেন।

‘শতক সন্ধ্যা’ উপলক্ষে শিল্প-কুশলীসহ দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে বিভিন্ন সময়ে এই নাটকের মঞ্চে বা নেপথ্যে অভিনয়, ডিজাইন ও পৃষ্ঠপোষকতায় সংশ্লিষ্ট ১০০ জনের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।

পাশাপাশি নাটকের সবগুলো প্রদর্শনীতে অভিনয় করার জন্য সুকর্ণ হাসান ও মিন্টু সরকারকে ১০০তে ১০০ বিশেষ সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। সেই সঙ্গে নাটকের শুরু থেকে শততম প্রদর্শনীতে শ্রেষ্ঠ পৃষ্ঠপোষক হিসেবে মনি কাঞ্চনের হাতেও বিশেষ সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনা করেন এথিক সভাপতি রেজানুর রহমান।পাশাপাশি সঞ্চালনা সহযোগী হিসেবে ছিলেন মাহবুবা পারভীন।

এথিকের প্রথম প্রযোজনা ‘হাঁড়ি ফাটিয়ে’ নতুন আঙ্গিকে নির্দেশনা দিয়েছেন মিন্টু সরকার। নাটকটির শততম প্রদর্শনীতে অভিনয় করেছেন হাসান রিজভী, ভাবনা হাসান, সুকর্ণ হাসান, তারেক চৌধুরী রিমন, মনি কাঞ্চন, আফনান আক্ষরা, আজিম উদ্দিন, প্রদীপ কুমার, আবীর বাবু, নাহিদ মুন্না, রুবেল খান এবং মিন্টু সরকার। আলোক পরিকল্পনা করেছেন ঠান্ডু রায়হান।

নির্দেশক মিন্টু সরকার বলেন, “উৎপল দত্তের অনন্য সৃষ্টি ‘হাঁড়ি ফাটিয়ে’ নাটকটি চিরকালীন সমাজের দর্পণ। এত বছর পরেও যে নাটকের আবেদন বিন্দুমাত্র কমেনি। আজকের সভ্য সমাজে দাঁড়িয়েও নাটকটি যেন বর্তমান সময়েরই প্রতিচ্ছবি হয়ে ওঠে। সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের যে নৈতিক স্খলন, তা এই সমাজে এখনও বিদ্যমান।”

তিনি বলেন, এথিকের প্রথম প্রযোজনা হিসেবে ২০১০ সালে মঞ্চে আসে উৎপল দত্তের ‘হাঁড়ি ফাটিয়ে’। দলীয় প্রয়োজনে নাটকটি নতুন আঙ্গিকে নির্দেশনা দেওয়ার দায়িত্ব পড়ে আমার কাঁধে। ‘হাঁড়ি ফাটিয়ে’র গল্পই এই নাটকের প্রাণ। নির্দেশক হিসেবে গল্পটির একটি ভিন্নতর উপস্থাপনার চেষ্টা করেছি। নাটকটির শততম মঞ্চায়ন সত্যিই এক আনন্দময় অনুভূতি।

১৬ বছর ধরে একটি নাটকের সঙ্গে বিচরণ করা দারুণ গৌরবের বলে মনে করি। কারণ দর্শকদের গ্রহণযোগ্যতার কারণে আমরা এত বছর ধরে নাটকটি করে যেতে পেরেছি।