হাতলের নিরাপত্তা ঝুঁকি, চীনে প্রায় ৩০ লাখ গাড়ি ফিরিয়ে নিচ্ছে টেসলা | চ্যানেল আই অনলাইন

হাতলের নিরাপত্তা ঝুঁকি, চীনে প্রায় ৩০ লাখ গাড়ি ফিরিয়ে নিচ্ছে টেসলা | চ্যানেল আই অনলাইন

দরজার লুকানো হাতলে নিরাপত্তা ঝুঁকি দেখা দেওয়ায় চীনে প্রায় ৩০ লাখ গাড়ি প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলা। দেশটির বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয়ভাবে তৈরি ও আমদানি করা টেসলার বিভিন্ন মডেলের প্রায় ২৯ লাখ ৮০ হাজার গাড়ি এ প্রত্যাহারের আওতায় রয়েছে।

আজ (২৪ আগস্ট) সোমবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে রয়টার্স জানিয়েছে, চীনের স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ফর মার্কেট রেগুলেশনের পক্ষ থেকে এই তথ্য জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, চলতি বছরে চীনে গাড়ি প্রত্যাহারের ক্ষেত্রে এটি সবচেয়ে বড় ঘটনাগুলোর একটি।

প্রত্যাহারের আওতায় থাকা গাড়িগুলোর মধ্যে রয়েছে মডেল থ্রি, মডেল ওয়াই, মডেল এক্স ও মডেল এস। দুর্ঘটনার পর গাড়ির বৈদ্যুতিক ব্যবস্থায় সমস্যা দেখা দিলে দরজার লুকানো ইলেকট্রনিক লক কাজ না করার আশঙ্কা রয়েছে। এতে গাড়ির ভেতরে থাকা যাত্রীরা আটকা পড়তে পারেন। একই সঙ্গে বাইরে থাকা উদ্ধারকারীদের জন্যও দ্রুত দরজা খোলা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

চীনের স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি দেশটির কয়েকটি সড়ক দুর্ঘটনার ঘটনায় এমন সমস্যার তথ্য সামনে এসেছে। বিশেষ করে জরুরি পরিস্থিতিতে প্রচলিত লুকানো দরজার হাতল যাত্রী উদ্ধারে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ঝুঁকি কমাতে প্রত্যাহারের আওতায় থাকা গাড়িগুলোতে সফটওয়্যার আপডেট দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে টেসলা।

আপডেটের পর দুর্ঘটনার সময় গাড়ির জানালা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কিছুটা নিচে নেমে যাবে। পাশাপাশি দরজা ম্যানুয়ালি খোলার ব্যবস্থা সম্পর্কে নির্দেশিকাও যুক্ত করা হবে। লুকানো দরজার হাতল নিয়ে এরই মধ্যে চীনে নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করা হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতিতে উদ্ধারকাজে প্রতিবন্ধকতা তৈরির আশঙ্কায় দেশটি এ ধরনের হাতলের ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে এবং ২০২৭ সাল থেকে তা পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা করছে।

এদিকে শুধু টেসলাই নয়, চীনের অন্যান্য গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানও বিভিন্ন মডেল প্রত্যাহার করছে। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান শাওমি প্রায় ৩ লাখ ৯০ হাজার গাড়ি এবং লিপমোটর ৩ লাখ ৭০ হাজারের বেশি গাড়ি ফিরিয়ে নিচ্ছে। এছাড়া গিলি ও এক্সপেংসহ আরও কয়েকটি পরিচিত ব্র্যান্ড তাদের কিছু মডেল প্রত্যাহারের উদ্যোগ নিয়েছে।