হুইলচেয়ার পেয়ে ১৮ প্রতিবন্ধীর মুখে হাসি

হুইলচেয়ার পেয়ে ১৮ প্রতিবন্ধীর মুখে হাসি

সাইফুল ইসলাম : অধিকার ও সুরক্ষায় আইনি সহায়তার পাশাপাশি অসহায় প্রতিবন্ধী মানুষের চলাচল সহজ করতে পাশে দাঁড়িয়েছে মানিকগঞ্জ জেলা লিগ্যাল এইড। জেলার ১৮ জন অসহায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তির মধ্যে হুইলচেয়ার বিতরণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকে মানিকগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

জেলা লিগ্যাল এইডের উদ্যোগে এবং রোটারি ক্লাব ঢাকা নর্থ ওয়েস্ট ও মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা প্রতিবন্ধী উন্নয়ন পরিষদের অর্থায়নে এসব হুইলচেয়ার বিতরণ করা হয়।

চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আল আসাদ মো. মাহমুদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ এবং জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান এস কে এম তোফায়েল হাসান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন চিফ লিগ্যাল এইড অফিসার দুরাখসা জাহান প্রিয়াংকা।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রোটারি ক্লাব ঢাকা নর্থ ওয়েস্টের সভাপতি শারমিন রহমান ও প্রকল্প পরিচালক কাজী সাহেরা আনোয়ারা শাম্মী সের।

এ ছাড়া মানিকগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট নুরতাজ আলম বাহার, জিপি আব্দুল আওয়াল খান, শিশু সহিংসতা অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর ও মানিকগঞ্জ জেলা প্রতিবন্ধী উন্নয়ন পরিষদের সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট মাসুদুল হকসহ জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির সদস্য, আইনজীবী, সাংবাদিক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা সমাজের বোঝা নন; সুযোগ ও সহযোগিতা পেলে তারাও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠতে পারেন। তাদের অধিকার নিশ্চিত করা এবং স্বাভাবিক জীবনযাপনে সহযোগিতা করা রাষ্ট্র ও সমাজের সবার দায়িত্ব।

প্রধান অতিথি এস কে এম তোফায়েল হাসান বলেন, মানুষকে সহযোগিতা করার ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহ তাআলার। আমরা শুধু অসহায় প্রতিবন্ধী মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো এভাবে এগিয়ে এলে অসহায় মানুষের জীবন অনেকটাই সহজ হবে।

অনুষ্ঠানে ১৮ জন অসহায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তির হাতে হুইলচেয়ার তুলে দেওয়া হয়। হুইলচেয়ার পেয়ে উপকারভোগীরা সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

মানিকগঞ্জ পৌরসভার বার্তা গ্রামের মো. ফিরোজ বলেন, ‘কোমরের সমস্যার কারণে ঠিকমতো হাঁটাচলা করতে পারি না। হুইলচেয়ার পেয়ে অনেক উপকার হলো। এখন চলাচল করতে অনেক সুবিধা হবে।’

সাত বছর বয়সী এক শিশুর জন্য হুইলচেয়ার নিতে আসা শাহনাজ বলেন, ‘প্রতিবন্ধী বাচ্চার জন্য একটি হুইলচেয়ার খুবই দরকার ছিল। আজ হুইলচেয়ার পেলাম। এটা পেয়ে অনেক উপকার হলো।’

৮০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধাকে নিয়ে অনুষ্ঠানে আসেন তাঁর ভাতিজা আমির মোল্লা। তিনি বলেন, ‘বৃদ্ধা চাচির জন্য একটি হুইলচেয়ার পেয়ে অনেক উপকার হলো। যারা এই আয়োজন করেছেন, তাদের ধন্যবাদ জানাই।’

মো. খোকন নামে এক প্রতিবন্ধী যুবক বলেন, ‘পায়ের সমস্যার কারণে হাঁটাচলা করতে কষ্ট হয়। হুইলচেয়ার পেয়ে অনেক উপকার হয়েছে।’

হুইলচেয়ার বিতরণের মাধ্যমে অসহায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চলাচলের পাশাপাশি তাদের স্বাভাবিক জীবনযাপনে সহায়তা হবে বলে মনে করছেন আয়োজকেরা।