<![CDATA[
যাত্রাবাড়ী-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসার জন্য ট্রমা সেন্টার উদ্বোধনের চার মাসেও চালু করা সম্ভব হয়নি। ফলে প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই চিকিৎসাসেবা কেন্দ্রটি জনসাধারণের কোনো কাজেই আসছে না। এতে ক্ষুব্ধ স্থানীয়দের পাশাপাশি নাগরিক সমাজ।
সরেজমিন দেখা যায়, যাত্রাবাড়ী-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের মাদারীপুরের শিবচরের দত্তপাড়ায় দাঁড়িয়ে আছে চকচকে ও পরিষ্কার তিনতলাবিশিষ্ট ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী ট্রমা সেন্টারটি। গত বছরের নভেম্বরে এটি উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। কিন্তু সেখানে এখনও ঝুলছে তালা। এতে মহাসড়কে দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসা দেয়া সম্ভব না হওয়ায় নিয়ে যাওয়া হয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ ঢাকা মেডিকেলে। এতে মাঝপথে অনেক রোগীর মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ স্বজনদের। তাই জনস্বার্থে দ্রুত ট্রমা সেন্টারটি চালুর দাবি এলাকাবাসীর।
গত ১৯ মার্চ এক্সপ্রেসওয়ের কুতুবপুরে যাত্রীবাহী বাস দুর্ঘটনায় ১৯ জনের প্রাণহানি হয়। আহত হয় অনেকেই। কিন্তু তারপরও টনক নড়ছে না কর্তৃপক্ষের। ট্রমা সেন্টারটি চালু না হওয়ায় স্বাস্থ্য বিভাগের অবহেলাকেই অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছে সচেতন নাগরিক সমাজ। অবশ্য পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় আধুনিক এ ট্রমা সেন্টারটি চালু করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান জেলার স্বাস্থ্য বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তা।
আরও পড়ুন: দুর্ঘটনা নিয়ে একটা মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতার বিচার করা ঠিক নয়: কাদের
স্থানীয় বাসিন্দা জয়নাল মোড়ল বলেন, কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে সুন্দর একটি স্বাস্থ্যসেবাদান কেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে। উদ্বোধনও করা হয়েছে। কিন্তু এটি চালু করা হচ্ছে না। এটি দ্রুত চালুর দাবি জানাচ্ছি।
হানিফ পরিবহনের যাত্রী কাশেম হাওলাদার বলেন, ‘প্রতিনিয়ত এ মহাসড়ক দিয়ে রাজধানী ঢাকায় যাতায়াত করি। কিন্তু দুর্ঘটনায় কেউ আহত হলে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দেয়ার স্থান নেই। তাই দ্রুত ট্রমা সেন্টার চালু হলে অনেক প্রাণহানি কম হবে। স্বাস্থ্য বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত এটি জনস্বার্থে দ্রুত চালু করা।’
সচেতন নাগরিক কমিটি (টিআইবি) মাদারীপুরের সদস্য অ্যাডভোকেট ফারহানা চৌধুরী কান্তা বলেন, সম্প্রতি মহাসড়কে বাস দুর্ঘটনায় ১৯ জন প্রাণ হারান। এরপরও কর্তৃপক্ষ এ আধুনিক ট্রমা সেন্টারটি চালু করছে না। এতে স্বাস্থ্য বিভাগের অবহেলা অন্যতম কারণ। তা না হলে যেকোনো ভবন নির্মাণের আগে উচিত জনবল কাঠামো তৈরি করে নিয়োগ দেয়া। এতে জনসাধারণ সেবা পাওয়া শুরু করবে।
ইলিয়াস আহম্মেদ চৌধুরী ট্রমা সেন্টারটি দ্রুত চালু জেলাবাসীসহ দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীদের প্রাণের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মাদারীপুরের সিভিল সার্জন ডা. মুনীর আহম্মেদ খান জানান, ১১ কোটি ৯৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ট্রমা সেন্টারটিতে দুজন আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তাসহ ১৪ জন চিকিৎসক, ১০ জন নার্স ও ফার্মাসিস্ট-টেকনিশিয়ানসহ ৩৪টি পদে জনবল থাকার কথা থাকলেও এখনও নিয়োগ দেয়া হয়নি কোনো পদে। তবে এটি চালুর জন্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট শাখায় চিঠি দেয়া হয়েছে। শিগগিরই চালু হবে।
]]>


