১৫ বছরের অস্বস্তিকর সম্পর্ক শেষ করে ভারতের সঙ্গে নতুন সূচনা চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী – DesheBideshe

১৫ বছরের অস্বস্তিকর সম্পর্ক শেষ করে ভারতের সঙ্গে নতুন সূচনা চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী – DesheBideshe


ঢাকা, ১৩ সেপ্টেম্বর – বিগত স্বৈরাচারী সরকারের ১৫ বছরের অস্বস্তিকর ও ত্রুটিপূর্ণ সম্পর্ক পেছনে ফেলে ভারতের সঙ্গে সমতার ভিত্তিতে নতুন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায় বাংলাদেশ। একই সাথে বহুপক্ষীয় যেকোনো আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে সুযোগ থাকলে আলোচনার দ্বার উন্মুক্ত থাকবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ভারতের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক, সীমান্ত হত্যা এবং জাতিসংঘের আসন্ন সাধারণ অধিবেশনে বাংলাদেশের অংশ নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে সরকারের স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনের মূল বার্তা ও গুরুত্বপূর্ণ দিকসমূহ

দ্বিপক্ষীয় সফর অগ্রাধিকার: বহুপক্ষীয় ফোরামের সাইডলাইন বৈঠকের চেয়ে ভারতের সঙ্গে সরাসরি ফলপ্রসূ দ্বিপক্ষীয় সফরকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে বাংলাদেশ। তবে জাতিসংঘ অধিবেশনে সুযোগ থাকলে ভারতের সঙ্গে সাইডলাইন বৈঠকেও বাধা নেই।

খালি ইন্ডিয়া ইন্ডিয়া না করে দেশীয় স্বার্থে নজর দিন”: গণমাধ্যমের উদ্দেশ্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দিনরাত খালি ভারতের কথা না ভেবে দেশের নিজস্ব উন্নয়ন ও অভ্যন্তরীণ স্বার্থকে আগে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

সীমান্ত হত্যা ও ১০১টি চুক্তি পর্যালোচনা: সীমান্ত হত্যা বন্ধে আন্তর্জাতিক প্রটোকল ও দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান চুক্তি অনুযায়ী ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সাথে কথা বলা হবে। এছাড়া বিগত আমলে ভারতের সাথে সম্পাদিত ১০১টি চুক্তি সংসদীয় কমিটিতে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ ও সফরসূচি: আগামী ২১ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী। সাধারণ পরিষদে তিনি বাংলাদেশের নতুন সরকারের ভিশন, দারিদ্র্য বিমোচন, জলবায়ু অর্থায়ন এবং বিশ্বশান্তি রক্ষায় বাংলাদেশের মূল অবস্থান তুলে ধরবেন।

রোহিঙ্গা সংকটে বিশেষ প্রাধান্য: জাতিসংঘের অধিবেশনে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের বিষয়টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে এবং সাইডলাইনে একটি উচ্চপর্যায়ের আলোচনা আয়োজন করা হবে।

তিনি আরও বলেন, আমরা একটি সত্যিকারের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক চাই। এতদিন একটি ঝামেলাগ্রস্ত ও অস্বস্তিকর সরকারের সাথে ১৫ বছরের সম্পর্ক ছিল। সেই অধ্যায় পার করে আমরা নতুন কূটনৈতিক সম্পর্কের দিকে যাব।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা এবং জাতীয় স্বার্থ বজায় রাখার ক্ষেত্রে সরকারের এই স্পষ্ট ও বাস্তবসম্মত বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

এনএন/ ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬