প্রায় দেড় যুগ পর ঈদুল আজহার আগের দিন সকালে চ্যানেল আইয়ের পর্দায় ফিরল দর্শকপ্রিয় সংগীতানুষ্ঠান ‘সেরাকণ্ঠে সোনালী ফ্রেমে’। আর পুরনো সেই আয়োজন পুনঃপ্রচারে যেন স্মৃতির ভেতরেই ফিরে গেলেন চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর ও চ্যানেল আইয়ের পরিচালক ও বার্তা প্রধান শাইখ সিরাজ।
২০০৮ সালে সেরাকণ্ঠের শিল্পীদের নিয়ে শাইখ সিরাজের পরিকল্পনা, উপস্থাপনা ও পরিচালনায় নির্মিত হয়েছিল এই বিশেষ টেলিভিশন অনুষ্ঠান। আয়োজনটির মূল আকর্ষণ ছিল বাংলা সিনেমার জনপ্রিয় পুরনো গানগুলো নবীন শিল্পীদের কণ্ঠে নতুনভাবে উপস্থাপন। মূল গানের আবহ অক্ষুণ্ন রেখে তরুণ শিল্পীদের পরিবেশনায় অনুষ্ঠানটি সে সময় দর্শকদের মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।
দীর্ঘ ১৮ বছর পর ঈদুল আজহার আগের দিন আবারও চ্যানেল আইয়ের পর্দায় প্রচারিত হয় ‘সেরাকণ্ঠে সোনালী ফ্রেমে’। অনুষ্ঠান চলাকালেই হঠাৎ লাইভে এসে স্মৃতিচারণে মেতে উঠেন ফরিদুর রেজা সাগর ও শাইখ সিরাজ।
ফরিদুর রেজা সাগর বলেন, “মূল গানগুলো যখন দেখছিলাম, তখন বারবার মনে হচ্ছিল— এসব আমি একসময় সিনেমার পর্দায় দেখেছি। আজ চ্যানেল আইতে ঢুকেই দেখি প্রায় দেড় যুগ আগের অনুষ্ঠানটি আবার দেখানো হচ্ছে। ঈদের আগের দিন সকালে এমন একটি অনুষ্ঠান দেখতে সত্যিই ভালো লাগছিল।”
তিনি আরও বলেন, “নিচে লবিতে দাঁড়িয়ে অনুষ্ঠানটি দেখছিলাম। পরে ভেতরে এসে দেখি শাইখ সিরাজও একইভাবে অনুষ্ঠানটি দেখছে। তখন মনে হচ্ছিল, কত আগেই না তিনি সেরাকণ্ঠ ও ক্ষুদে গানরাজের শিল্পীদের নিয়ে এমন একটি ব্যতিক্রমী আয়োজন করেছিলেন। মূল গানগুলো তো আরও অনেক আগের, কিন্তু গানগুলোর কথা ও সুর এখনও কানে বাজে।”
পাশে বসা শাইখ সিরাজও স্মৃতিকাতর কণ্ঠে বলেন, “২০০৮ সালে করা এই অনুষ্ঠান ১৮ বছর পর বসে দেখছি—নিঃসন্দেহে খুব ভালো লাগছে। তখন এসব অনুষ্ঠান নিয়ে আমরা কত চুলচেরা বিশ্লেষণ করতাম। আসলে টেলিভিশনের মুন্সিয়ানাগুলো এই জায়গাতেই।”
অনুষ্ঠানটি নির্মাণের পেছনের ভাবনা তুলে ধরে তিনি বলেন, “সেরাকণ্ঠের মাধ্যমে যারা এসেছিল, তাদের নিজেদের কণ্ঠে গান, তাদেরই অভিনয় এবং ষাট-সত্তরের দশকের বাংলা সিনেমার জনপ্রিয় গান—সব মিলিয়ে এক ধরনের কম্বিনেশন তৈরি হয়েছিল।”
এ সময় অনুষ্ঠান নির্মাণে যারা সহযোগিতা করেছিলেন এবং পর্দার আড়ালে কাজ করেছিলেন, তাদেরও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করে শাইখ সিরাজ বলেন, “সেই অনুষ্ঠানে আমার সাথে ইফতেখার মুনিম ছিল, ভিডিও এডিটর ছিলো মাহিন রনি, পরে সে আমেরিকান একটি প্রোডাকশনে কাজ শুরু করে (বর্তমানে আমেরিকাতে নিজেই মাহিন রনিস স্টুডিও গড়ে তুলেছেন), সেসময় ক্যামেরায় ছিলো প্রয়াত টিটন, তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করি।”






