
বুয়েনোস আইরেস, ১৬ জুন – ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হিসেবে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা। গত আসরের রোমাঞ্চকর ফাইনালে ফ্রান্সকে পরাজিত করে দীর্ঘ ৩৬ বছরের শিরোপা খরা কাটিয়েছিল আলবিসেলেস্তেরা।
এর আগে ১৯৭৮ ও ১৯৮৬ সালে বিশ্বজয়ের স্বাদ পেলেও ২০২২ সালের ট্রফিটি ছিল আর্জেন্টিনার ফুটবলে এক নতুন যুগের সূচনা।
উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিতব্য আসন্ন আসরে আর্জেন্টিনা হট ফেভারিট হিসেবে মাঠে নামলেও তাদের সামনে রয়েছে এক ঐতিহাসিক বাধা। ১৯৬২ সালের পর কোনো দলই টানা দুইবার বিশ্বকাপ শিরোপা জিততে পারেনি। সেবার ব্রাজিল ১৯৫৮ সালের সাফল্যের পর পুনরায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।
এখন প্রশ্ন উঠেছে, লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা কি ব্রাজিলের সেই ৬৪ বছরের পুরনো রেকর্ড স্পর্শ করতে পারবে। আর্জেন্টাইন দলের বর্তমান শক্তি ও অভিজ্ঞতা তাদের স্বপ্নপূরণে বড় সহায়ক হতে পারে। কোচ স্কালোনির ঘোষিত ২৬ সদস্যের দলের ১৭ জনই কাতার বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য। চাপের মুখে শান্ত থেকে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার সামর্থ্য রয়েছে এই অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের।
বরাবরের মতো আকর্ষণের কেন্দ্রে থাকছেন কিংবদন্তি লিওনেল মেসি। আটবার ব্যালন ডি অর জয়ী এই তারকার জন্য সম্ভবত এটিই হতে যাচ্ছে শেষ বিশ্বকাপ।
দলের মাঝমাঠের শক্তিতে এনজো ফার্নান্দেজ, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার এবং রদ্রিগো ডি পলের উপস্থিতি আর্জেন্টিনাকে যেকোনো প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে আধিপত্য বিস্তারে সহায়তা করে। রক্ষণভাগে গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ, ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো এবং নিকোলাস ওটামেন্ডি একটি সুসংগঠিত দেয়াল তৈরি করেছেন।
তবে আর্জেন্টিনার দুশ্চিন্তার কারণ হতে পারে মূল খেলোয়াড়দের বয়স। মেসি ও ওটামেন্ডির বয়স ততদিনে ৩৮ পেরিয়ে যাবে। মাসব্যাপী এই দীর্ঘ টুর্নামেন্টে তরুণ ও গতিশীল দলগুলোর বিপক্ষে অভিজ্ঞতার পাশাপাশি গতি কতটা টিকে থাকে, তা বড় পরীক্ষা হবে।
গ্রুপ পর্বে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ হিসেবে থাকছে অস্ট্রিয়া, আলজেরিয়া এবং জর্ডান। যদিও তারা শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে, তবে গত আসরে সৌদি আরবের বিপক্ষে পরাজয়ের মতো কোনো অঘটন এড়াতে সতর্ক থাকতে হবে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের।
এনএন/ ১৬ জুন ২০২৬






