
জুরিখ, ৮ সেপ্টেম্বর – ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে অংশীদারত্ব বিক্রির বিতর্কিত পরিকল্পনা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তবে এই প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও ফিফা সভাপতি পদে চতুর্থ মেয়াদে দায়িত্ব পালনের লড়াই থেকে সরে দাঁড়াননি তিনি।
২০৩১ সাল পর্যন্ত ফিফার শীর্ষ পদে থাকার লক্ষ্য নিয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বর্তমান এই সভাপতি। যদিও তার এই পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে ইউরোপের প্রভাবশালী ফুটবল দেশগুলো। ইতোমধ্যে উয়েফা, এএফসি এবং কনকাকাফের পক্ষ থেকে ইনফান্তিনোর পদত্যাগের দাবি তোলা হয়েছে।
অন্যদিকে উয়েফার আইনজীবীরা তার বিরুদ্ধে আর্থিক অব্যবস্থাপনার অভিযোগে ফৌজদারি মামলা করার বিষয়টিও গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছেন। ৫৬ পৃষ্ঠার এক নথিতে উয়েফার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে সুইজারল্যান্ডের ফৌজদারি আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় ইনফান্তিনো এবং ফিফার আরও কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা হতে পারে। এমন চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতির মধ্যেও ফুটবল বিশ্বের সর্বোচ্চ পদে আসীন হওয়ার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী ইনফান্তিনো।
ফিফার এক মুখপাত্র নিশ্চিত করেছেন যে ২০২৭ সালের মার্চে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচনে তিনি আবারও প্রার্থী হবেন। সেই লক্ষ্যে চলতি বছরের ১৮ নভেম্বরের মধ্যে মনোনয়ন জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
নির্বাচনে জয়ী হতে ফিফার ২১১টি সদস্য অ্যাসোসিয়েশনের মধ্যে অন্তত ১০৬টির সমর্থনের প্রয়োজন হবে। বর্তমানে আফ্রিকান এবং দক্ষিণ আমেরিকান কনফেডারেশনগুলো ইনফান্তিনোর পক্ষে থাকলেও ইউরোপীয় দেশগুলো বিকল্প প্রার্থীর সন্ধানে রয়েছে। যদিও বিপুল সংখ্যক ভোটের সমর্থন পাওয়া কঠিন হবে বিধায় উয়েফা তাদের অনাস্থা প্রস্তাবের পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে তবে তারা আশা করছে মনোনয়ন জমা দেওয়ার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শক্তিশালী কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী পাওয়া যাবে।
গুঞ্জন রয়েছে কনকাকাফ সভাপতি ভিক্টর মন্টাগলিয়ানি ইনফান্তিনোর সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে সামনে আসতে পারেন।
এনএন/ ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
