ইরানে হামলায় কেন শনিবার সকাল বেঁছে নিল যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল? | চ্যানেল আই অনলাইন

ইরানে হামলায় কেন শনিবার সকাল বেঁছে নিল যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল? | চ্যানেল আই অনলাইন

ইরানে হামলায় কেন শনিবার সকাল বেঁছে নিল যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল? | চ্যানেল আই অনলাইন

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি তার শীর্ষ উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন এমন নিশ্চিত তথ্য পাওয়ার পরই তেহরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ বিমান ও নৌ অভিযান শুরু হয়। শনিবার সকালে ওই বৈঠক হচ্ছিল বলে জানা গেছে।

সংবাদমাধ্যম রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।

এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, আকস্মিকতার সুবিধা ধরে রাখতে খামেনিকেই প্রথম লক্ষ্যবস্তু করা প্রয়োজন ছিল। আশঙ্কা ছিল, সুযোগ পেলে তিনি আত্মগোপনে চলে যেতে পারেন।

মার্কিন সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানায়, খামেনির বৈঠকটি মূলত শনিবার সন্ধ্যায় তেহরানে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ইসরায়েলি গোয়েন্দারা শনিবার সকালেই বৈঠকের তথ্য শনাক্ত করে। ফলে হামলার সময়সূচি এগিয়ে আনা হয়। বৈঠকটি কোথায় হচ্ছিল, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হয়নি।

হামলার শুরু ও প্রতিক্রিয়া

অভিযানের শুরুতেই তেহরানে খামেনির উচ্চ-নিরাপত্তাবেষ্টিত কমপ্লেক্সে আঘাত হানা হয়। স্যাটেলাইট চিত্রে সেটি ধ্বংস হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। ৪৬ বছরের ধর্মতান্ত্রিক শাসনের ইতিহাসে এটিকে একটি মোড় পরিবর্তনের ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

হামলা শুরু হতেই তেহরান পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েল, কাতার, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান ও কুয়েতের দিকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে।

ওমানে মধ্যস্থতায় জেনেভায় ফলহীন আলোচনার দুই দিন পর, ওয়াশিংটনে মধ্যরাতের কিছু পর আর ইরানে দিনের বেলায় সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই হামলার নির্দেশ দেন।

প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি আইআরজিসির

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে খামেনির হত্যাকারীদের কঠোর শাস্তির অঙ্গীকার করেছে। তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ আক্রমণাত্মক অভিযান চালানো হবে।

সরকারি টেলিগ্রাম পেজে আইআরজিসি জানায়, উম্মাহর ইমামের হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে ইরানি জাতির প্রতিশোধের হাত ছেড়ে দেওয়া হবে না।

ইসরায়েল জানিয়েছে, খামেনির সঙ্গে নিহত হয়েছেন ইরানের সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ সচিব আলী শামখানি ও আইআরজিসি কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুরসহ শীর্ষ কয়েকজন কর্মকর্তা।

রয়টার্সকে দুটি ইরানি সূত্র জানায়, হামলার কিছু আগে খামেনি নিরাপদ এক স্থানে শামখানি ও সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব আলি লারিজানির সঙ্গে বৈঠক করেন। আলী লারিজানি হামলা থেকে বেঁচে যান এবং আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে অবিস্মরণীয় শিক্ষা দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।

রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার ও প্রতিক্রিয়া

রোববার ভোরে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন খামেনির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে। কালো ব্যানারসহ আর্কাইভ ফুটেজ সম্প্রচার করা হয়। ইরানি গণমাধ্যমে তাঁর মেয়ে, জামাতা ও নাতি-নাতনির মৃত্যুর খবরও প্রকাশিত হয়েছে।

ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে ট্রাম্প লেখেন, ইতিহাসের অন্যতম অশুভ ব্যক্তি খামেনি মারা গেছেন।

আয়াতুল্লাহ খামেনি ছিলেন ইসলামী বিপ্লবের প্রতিষ্ঠাতা রুহুল্লাহ খোমেনীর উত্তরসূরি। ১৯৮৯ সাল থেকে পশ্চিমা প্রভাবের বিরুদ্ধে তাঁর অবস্থান ছিল অনড়।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম তাঁর মৃত্যুকে শহীদের মৃত্যু হিসেবে উপস্থাপন করছে পরাজয় নয়, বরং জাতির সার্বভৌমত্ব রক্ষায় চূড়ান্ত আত্মত্যাগ হিসেবে।

রোববার ভোরে খামেনির অফিসিয়াল ফার্সি অ্যাকাউন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ একটি কোরআনের আয়াত পোস্ট করে মৃত্যুর বিষয়টি স্বীকার করে। তাসনিম নিউজের খবরে বলা হয়েছে, কর্মস্থলেই ভোরে তিনি নিহত হন।