অর্থনীতিবিদ ও আইনবিদ ড. কেভিন ওয়ার্স সম্ভবত হতে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী ফেড চেয়ার। তিনি জেরোমি পাওয়েলের স্থলাভিষিক্ত হবেন মে মাসের মাঝামাঝি। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়ে গেছে। গভর্নরের ব্যক্তিচরিত্র নিয়েও সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ বাদ যায় না। স্ট্যানফোর্ড ও হার্ভার্ডের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি থাকার পরও ওয়ার্সকে নিয়ে পত্রপত্রিকায় কত বাদানুবাদ চলছে। কংগ্রেসে হবে তুমুল বিতর্ক। কংগ্রেসে অগ্নিপরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেই কেবল প্রেসিডেন্ট তাঁকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান বানাতে পারবেন।
প্রতিটি উন্নত দেশেই গভর্নর নির্বাচন করার ক্ষেত্রে এ ধরনের পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই–বাছাই কেন হয়? কারণ গভর্নরের সততা, দৃঢ়তা, গবেষণা, প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতার ওপরই দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করে। এ রকম একটি রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদ নির্ধারণে কোনো আকস্মিক চমকের প্রয়োজন ছিল না। সংসদ গঠিত হওয়ার পর সেখানে কয়েকজন সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে আলোচনা হতে পারত। তত দিন গভর্নর মনসুর দায়িত্ব পালন করে যেতে পারতেন।
বিগত ইউনূস সরকারের প্রায় সব দপ্তরই কর্মকাণ্ডে অদক্ষতার ছাপ রেখেছে। কেবল গভর্নর মনসুরের নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় ব্যাংকেই কাজের কাজ কিছু হচ্ছিল। এটি ড. মনসুরের জন্য বিদায়ী সান্ত্বনা নয়। প্রায় প্রতিটি লেখায় বা প্রতিটি আলোচনার প্ল্যাটফর্মে আমি এ কথা বলেছি। তাঁকে যেভাবে অমর্যাদার থিয়েটার করে বিদায় করা হলো, তা সরকারের প্রভাতলগ্নে কোনো শুভ বার্তা নয়। রবীন্দ্রনাথের কথায় ‘রাজা সবারে দেন মান/ সে মান আপনি ফিরে পান’ কথাটি সরকার ভুলে গেল।




