ঈদের আনন্দকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে আসছে কাজল আরেফিন অমির ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’-এর ঈদ স্পেশাল চ্যাপ্টার! আর এই স্পেশাল পর্বগুলোর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হিসেবে এবার থাকছে ‘আরেফিন’ চরিত্র, যার মাধ্যমে দীর্ঘদিন পর সিরিজটিতে ফিরছেন অভিনেতা শামীম হাসান সরকার!
‘আরেফিন’ চরিত্রে দীর্ঘদিন পর অভিনেতা শামীমের প্রত্যাবর্তন তাই বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তার এই ফিরে আসাটা ব্যাচেলরদের ফ্ল্যাটে নতুন সমীকরণ তৈরি করবে, এমনটাই মনে করছেন ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’প্রেমী দর্শকরা।
কাবিলা, শুভ, হাবু কিংবা পাশাদের সাথে ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’-এর আদি বাসিন্দা ছিলেন নেহাল ও আরেফিন। কিন্তু দীর্ঘদিন তাদের ব্যাচেলরদের ফ্ল্যাটে দেখা যায়নি। কেন তারা নেই, নাকি তাদের বাদ দেয়া হয়েছে; কিংবা তারাই বের হয়ে গেছে- এ নিয়ে কম কানাঘুষা হয়নি! তবে ব্যাচেলর পয়েন্ট এর সিজন-৫ এর মধ্য দিয়ে জনপ্রিয় এই সিরিজে ফেরেন নেহাল। এবার ব্যাচেলরদের ফ্ল্যাটে ফিরতে চলেছেন আরেক পুরনো বাসিন্দা আরেফিন ওরফে শামীম হাসান সরকার!
অভিনেতা শামীম হাসানের ফেরা নিয়ে উচ্ছ্বসিত নির্মাতা কাজল আরেফিন অমি। চ্যানেল আই অনলাইনকে এই নির্মাতা বলেন,‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’-এর অরিজিনাল গ্যাং যদি বলি তাহলে সেটা আরেফিন-নেহালকে ছাড়া কখনোই পরিপূর্ণ না। আর আরেফিন হচ্ছে ব্যাচেলর পয়েন্ট-সিজন-১ এর ক্যারেক্টার। আর ব্যাচেলরদের যে মেইন চার-পাঁচজন বন্ধুর গল্প দিয়ে যে যাত্রা শুরু হয়, সেই ৪-৫জন বন্ধুর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হচ্ছে আরেফিন (শামীম হাসান সরকার)।

অমি বলেন, কাবিলা-নেহাল-শুভ এরা সবাই ঢাকায় এসে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে যে বাসায় থাকা শুরু করে, সেই বাসাটাই ছিলো মূলত আরেফিনের বাসা। মূলত তার মাধ্যমেই সবাই একত্র হয়ে ব্যাচেলর পয়েন্ট-এর এই হাউজে থাকা শুরু করে। পরবর্তীতে আরেফিন চলে যায়, বাসার দায়িত্বটা হয়তো আরেকজন নেয়। এই বাসার গল্পটাই চলতে থাকে। এতো বছর পরে আবার দেখবো সেই আরেফিন ওদের জীবনে ব্যাক করে। সেটা কীভাবে ব্যাক করে, কেন এতোদিন তাদের সাথে আরেফিন ছিলো না, আবার থাকবে কি থাকবে না; বা তাদের সাথে আরেফিনের সম্পর্কটা কেমন হবে, বন্ধুত্বটা কি আগের মতো থাকবে, নাকি ফাটল ধরবে- সেটা আসলে মানুষ গল্পে দেখতে পারবে।
আরেফিনের ফেরা নিয়ে আবেগাপ্লুত অমি বলেন,“আরেফিন ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ এর একজন কোর মেম্বার, সে ব্যাচেলর পয়েন্ট-এর একটা ইমোশন। আরেফিনের কারণেই এই ব্যাচেলরদের একসাথে পথচলা বা এক সঙ্গে থাকাটা শুরু হয়। তাই আমার কাছে আরেফিন সব সময়ই ইমোশনাল। আমি সিজন থ্রি, ফোর যখন করেছি- বিভিন্ন সিকুয়েন্স করতে গিয়েও আমি আরেফিনকে মিস করেছি; কিন্তু থাকে না যে, দূরত্ব থাকলে সত্যি সত্যিই সম্পর্কের মধ্যে আইস পড়ে যায়। আমি বুঝতেছি যে, আমার হয়তো এক পা এগিয়ে যাওয়া উচিত, তাহলেই সম্পর্কটা আবার ঠিক হয়ে যাবে; কিন্তু আমরা ইগোর কারণে সেটা আমরা করি না। আমি মনে করি, যে কোনো সম্পর্কে ইগো হচ্ছে প্রধান শত্রু।”

নেহালের (তৌসিফ মাহবুব) উদ্যোগেই ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’-এ ফিরছেন আরেফিন (শামীম হাসান সরকার); এমন মন্তব্য করে অমি বলেন, ব্যাচেলর পয়েন্ট-এ নেহাল (তৌসিফ) ফিরে আসার পর সেই আমাদের পরিবারের পুরনো সদস্য আরেফিন (শামীম)-কে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেয়। নেহাল আসলে অনস্ক্রিন জেন্টল না, তিনি অফস্ক্রিনেও জেন্টল। যে কারণে আমাদের পুরনো সদস্যকে ব্যাচেলর পয়েন্ট-এর পরিবারে ফেরানোর দায়িত্বটা নেয়।
অমি স্বীকার করে বলেন, এটা সত্যি যে শামীম হাসান ভাইয়ের সাথে আমাদের এক ধরনের প্রফেশনাল দূরত্ব তৈরী হয়েছিলো। সেই দূরত্ব আমরা তৌসিফ মাহবুব ভাইয়ের কারণে ঘুচাতে পেরেছি। আর এ কারণে সেই আগের পুরনো বন্ধুত্বটা আমরা ফেরৎ পাই, আমরা নতুন করে নিজেদের মধ্যে বন্ডিংটা তৈরী করি। এরইমধ্যে ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ সিজন-৫ এর চ্যাপ্টার-১০ এর লম্বা একটা লটের শুটিং শেষ করেছি। এই লম্বা লটেই মূলত আমরা সেই পুরনো বন্ধু, কলিগ, সেই পুরনো আরেফিন, সেই পুরনো শামীম হাসান সরকারকে ফিরে পাই। খুব এনজয় করে এই চ্যাপ্টার শেষ করেছি।
শুটিং করতে গিয়ে বার বার ইমোশনাল হয়ে পড়েছেন বলেও জানান এই পরিচালক। অমি বলেন, “যতোবার একসঙ্গে স্ক্রিনে কাবিলা, নেহাল, আরেফিন, হাবু ভাই এবং পাশা ভাইকে দেখেছি- এই পাঁচজন যতোবারই সিন করেছে; আমি ততোবার ইমোশনাল হয়ে গেছি।”
অমি জানান, আসন্ন ঈদ উপলক্ষ্যে ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’-এর নতুন চ্যাপ্টারেই ছিলো তার পুরো মনযোগ, তাই অন্য কাজ করতে পারেননি। বিশেষভাবে প্রতিটি এপিসোড তৈরী করেছেন বলেও জানান; যেন দর্শক নির্মাতা অমির অভাব ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’-এর প্রতিটি পর্ব উপভোগের মাধ্যমে পূরণ করে নিতে পারেন!







